আমাদের প্রতি ভারতের বিজেপির আশীর্বাদ আছে: বিজেপি সভাপতি মিঠুন চৌধুরী,

আমাদের প্রতি ভারতের বিজেপির আশীর্বাদ আছে: বিজেপি সভাপতি মিঠুন চৌধুরী,পাশে আছেন বিনয় কুমার,

 

নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা বাংলাদেশ জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রতি ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আশীর্বাদ আছে বলে জানিয়েছেন নবগঠিত দলটির সভাপতি মিঠুন চৌধুরী। তার দাবি, বিজেপিই হবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় একটি শক্তি। এরই মধ্যে ভারতের ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। এই দলটি নির্দিষ্ট ধর্মকে কেন্দ্র করে নয়, জাতীয় সব ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করবে বলেও জানিয়েছেন মিঠুন চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে hindus.news সঙ্গে মিঠুন চৌধুরীর কথা হয় তার দল ও পরিকল্পনা নিয়ে। তিনি জানান, বিজেপি নির্দিষ্ট কোনও ধর্মকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করবে না। সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তৈরি করা এই দল জাতীয় ইস্যুতে রাজনীতি করবে।

মিঠুন চৌধুরীর জন্মস্থান সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের রহিমাপুর। পেশায় ব্যবসায়ী। বর্তমানে তিনি সিলেট সদরের বালুচর এলাকায় বসবাস করেন। ঢাকাস্থ সিলেট ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পাঁচবারের সভাপতি তিনি।

মিঠুন চৌধুরী মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ দেশের ৪০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই ভারতের সম্পর্ক ভালো। সে হিসাবে ভারতের সঙ্গে নবগঠিত বিজেপির সুসম্পর্ক থাকাটাও অস্বাভাবিক নয়।

hindus.news কে মিঠুন চৌধুরী জানান, গত ৬ এপ্রিল তিনি ভারত সফরে যান, দেশে ফেরেন ৩ জুলাই। তার দাবি, এই তিন মাসে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি এবং তারা জানিয়েছেন, ভারতের বিজেপি বাংলাদেশের বিজেপির সঙ্গেই আছে।

মিঠুন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতার সময় ভারতের ভূমিকা ছিল। তবে আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীন হয়েছিলাম সেসব স্বপ্ন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতার সময় আমাদের মানুষগুলো (সংখ্যালঘু হিন্দুরা) ছিল ৩৯ শতাংশ। এখন তাদের সংখ্যা ১০ থেকে ১২ শতাংশ। প্রতিদিনই ৬শ ৩২ জন ভারতে পালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারা কেন পালাবে? এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র; এখানে সরকার আছে, সবকিছু আছে। তারপরও কেন এত নির্যাতন-নিপীড়ন?’

এসব প্রসঙ্গে ভারতের ক্ষমতাসীন দলের মনোভাব জানতে চাইলে মিঠুন চৌধুরী বলেন, ‘তারা (ভারতীয় বিজেপির নেতারা) বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। তারা চান, সংখ্যালঘুদের অবস্থার পরিবর্তন হোক। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা মানুষের মতো সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকুক, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হোক, তাদের জমিজমা যেন হয়রানির শিকার না হয়— এই বিষয়গুলো তারা চায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘দিল্লীতে দু’বার গিয়েছি, চার-পাঁচটি বৈঠক হয়েছে। তবে কার কার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে, সেটি বলতে পারব না।’

বাংলাদেশের রাজনৈতিক উদ্যোগের বিষয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন দলের মনোভাব জানতে চাইলে মিঠুন চৌধুরী বলেন, ‘‘বিষয়টা হচ্ছে, আমাদের মতো যারা ৪৬ বছর ধরে ছোটখাট দল করছে, তাদের কেউই রাজনৈতিকভাবে কাজ করতে চাচ্ছে না। তবে বিজেপি সর্বশেষ আমাদের বলেছে, ‘আপনারা উঠে দাঁড়াতে পারলে আমরা আলাদা-আলাদা রাষ্ট্র হলেও আমাদের শুভদৃষ্টি থাকবে আপনাদের প্রতি।’ তাদের আশীর্বাদ আছে আমাদের প্রতি।’’

দলের লোগো ভারতীয় বিজেপি’র লোগো থেকে অনুপ্রাণিত কিনা, জানতে চাইলে মিঠুন চৌধুরী বলেন, ‘এটা ভুল ধারণা। কমিউনিস্টরা সারাবিশ্বে আছে। বাংলাদেশে কেন বিজেপি হবে না। তারা ভারতীয় জনতা পার্টি, আমরা বাংলাদেশ জনতা পার্টি। আমাদের লোগো, নাম আলাদা। তাদের লোগো শুধু পদ্মফুল। আমাদের লোগো পদ্মফুল; এর নিচে দু’টো হাত দেওয়ার কারণ হচ্ছে, আমরা নির্যাতিত, নিপীড়িত। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, যেন এই নিপীড়ন থেকে রক্ষা আমরা রক্ষা পাই।’

দলের পরিকল্পনা সম্পর্কে মিঠুন চৌধুরী জানান, বিজেপি আগামী নির্বাচনে সরকার গঠন করলে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের জটিলতা নিরসন করবে, প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন করবে, প্রতিটি বিভাগকে প্রদেশে উন্নীত করা হবে, সংখ্যালঘুদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় করা হবে, ঋণখেলাপিদের ঋণের ৮০ শতাংশ পরিশোধ না হলে নতুন ঋণ দেওয়া হবে না, প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সনাতন ধর্মের উপাসনালয় তৈরি করা হবে এবং দুর্গা পূজায় তিন দিনের ছুটির গেজেট প্রকাশ করা হবে।

মিঠুন চৌধুরী দাবি করেন, বাংলাদেশ জনতা পার্টিই (বিজেপি) হবে বাংলাদেশের তৃতীয় শক্তি। কেবল তৃতীয় শক্তি নয়, এটাই হবে বাংলাদেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক শক্তি। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা জোট করেছি। কিছুদিনের মধ্যেই আরও একটি বড় প্ল্যাটফর্মে একটি জোট হবে।’ আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর আলেমদের একটি গোলটেবিল বৈঠকে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মিঠুন চৌধুরীর দাবি, আগামী এক মাসের মধ্যেই বড় একটি জোটের ঘোষণা দিতে পারবেন তারা। শতাধিক সংগঠনের এই জোটে ইসলামী ও গণতান্ত্রিক দলগুলো থাকবে বলেও জানান তিনি।

দলের কমিটি গঠন ও প্রার্থী বাছাই প্রসঙ্গে নবগঠিত বিজেপির সভাপতি বলেন, ‘২০ সেপ্টেম্বর দলের সভাপতি হিসেবে আমার নামসহ অল্প কয়েকজনের পদ ঘোষণা করা হয়েছে। বাকিদের নাম জানিয়ে শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।’ দৈনিক বাংলা মোড়ের কাছে কসমিক টাওয়ারে কার্যালয় নেওয়া দলটি আগামী নির্বাচনে সব আসনে প্রার্থী দেবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রার্থী বাছাই শুরু হয়েছে। ৮-১০ জন মনোনীতও হয়েছেন।’

অন্য কোনও জোটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রসঙ্গে মিঠুন চৌধুরী বলেন, ‘এই মুহূর্তে কোনও জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না। আমরাই বড় একটি জোট করবো। আমাদের সঙ্গেই অন্য জোট আসতে পারে। আমরা এমন প্রস্তুতি নিচ্ছি, যেন অন্যদের সঙ্গে যেতে না হয়।’

উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আদিবাসী পার্টি এবং সমমনা অর্ধশতাধিক সংগঠনের উদ্যোগে বিজেপি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আদিবাসী পার্টি ছাড়াও এই দলে আছে মুক্তির আহ্বান, বাংলাদেশ সচেতন সংঘ, জাগো হিন্দু পরিষদ, আনন্দ আশ্রম, হিন্দু লীগ, সনাতন আর্য সংঘ, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন, বাংলাদেশ ঋষি সম্প্রদায়, বাংলাদেশ মাইনরিটি ফ্রন্ট, হিউম্যান রাইটস, হিন্দু ঐক্য জোটসহ বিভিন্ন সংগঠন। দলের সভাপতি ও মুখপাত্র হয়েছেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আদিবাসী পার্টির সভাপতি মিঠুন চৌধুরী, মহাসচিব হয়েছেন দেবাশীষ সাহা। দলের মহানগর সম্পাদক দেবদুলাল সাহা, দলের যুব পার্টির সভাপতি আশিক ঘোষ।

এদিকে, বিজেপি গঠনের ঘোষণার পরদিনই মাইনরিটি রাইটস ফোরাম বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক উৎপল বিশ্বাস নতুন দলের সঙ্গে সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘মাইনরিটি রাইটস ফোরাম বাংলাদেশের সঙ্গে বিজেপি গঠন নিয়ে মিঠুন চৌধুরীর কোনও যোগাযোগই হয়নি। আমাদের সংগঠনটি একটি মানবতাবাদী, অরাজনৈতিক সংগঠন। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার ও দাবি আদায় ও এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করে তুলতে আমরা কাজ করছি।’

এর জবাবে মিঠুন চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে এসব কথা নতুন নয়। এরশাদ সাহেব তো সকালে-বিকালে কথা পরিবর্তন করেন। এটা নিয়ে কিছু বলার নেই।’

 

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *