একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর ভেঙ্গে দেয়া ঢাকার ঐতিহাসিক রমনা কালী মন্দির নির্মাণ করে দেবে ভারত।

একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর ভেঙ্গে দেয়া ঢাকার ঐতিহাসিক রমনা কালী মন্দির নির্মাণ করে দেবে ভারত।

 

মৌসুম আকন, ঢাকা, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর গুড়িয়ে দেওয়া ঢাকার ঐতিহাসিক রমনা কালী মন্দির নির্মাণ করে দেবে ভারত সরকার। ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত রমনায় মূল মন্দির ছাড়াও একটি পাঁচতলা অতিথিশালা নির্মাণ করা হবে। মন্দির প্রাঙ্গণে বসানো হবে একটি গভীর নলকূপ। এছাড়া মন্দির মূল ফটকও নির্মাণ করা হবে।
সোমবার ঢাকা সফরের দ্বিতীয় দিনে বিদেশমন্ত্রী ভারত সরকারের অর্থায়নে যে ১৫টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন, এর মধ্যেই অন্যতম প্রকল্প হল- রমনা কালী মন্দির নির্মাণ প্রকল্প।
রমনা কালী মন্দির ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত হিন্দু মন্দিরসমূহের মধ্যে অন্যতম ছিল। এটি রমনা কালীবাড়ি নামেও পরিচিত। এটি প্রায় এক হাজার বছরেরও পুরাতন বলে বিশ্বাস করা হয় কিন্তু ইংরেজ আমলে এই মন্দিরটি আবার নতুন করে নির্মাণ করা হয়ছিল। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রমনা পার্কের (যার বর্তমান নাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বহির্ভাগে অবস্থিত। বর্তমানে বাংলার সংস্কৃতিতে এ মন্দিরের উল্লেখ্য ভূমিকা আছে।
ঢাকার সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের দক্ষিণ দিকে ২.২২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল রমনা কালী মন্দির ও আনন্দময়ীর আশ্রম। সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের ভেতর বর্তমান দিঘিটির পাশেই ছিল প্রায় তিন শ’ বছর পূর্বে নির্মিত এই মন্দিরটি যা কালীবাড়ি নামেও পরিচিত। কথিত আছে, শংকরাচার্যের অনুগামী দর্শণার্থী সম্প্রদায় এ কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করে।  প্রায় পাঁচ শ’ বছর পূর্বে বদ্রী নারায়ণের যোশী মঠের সন্ন্যাসী গোপাল গিরি ঢাকায় এসে রমনায় প্রথমে একটি আখড়া স্থাপন করেন। তখন এ আখড়া কাঠঘর নামে অভিহিত হত। পরে (সম্ভবত সতেরো শতকের প্রথম পাদে) এ স্থানেই হরিচরণ গিরি মূল মন্দিরটি নির্মাণ করেন। কালিবাড়ী মন্দিরটি ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমনে বিধ্বস্ত হয়। তারা মন্দির ও আশ্রমটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মন্দিরের সেবায়তসহ প্রায় এক শ’ সন্ন্যাসী, ভক্ত এবং সেখানে  বসবাসরত সাধারণ মানুষ নিহত হয়। এ সময় কালী মন্দিরের পুরোহিত ছিলেন শ্রীমৎ স্বামী পরমানন্দ গিরি।
 রমনা কালী মন্দির এ বর্তমানে কালী মূর্তি ছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি মন্দির রয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো, দুর্গা মন্দির, লোকনাথ মন্দির, রাধা গোবিন্দ মন্দির, মা আনন্দময়ীর মন্দির। রমনা কালী মন্দির এর মূল পূজা হলো কালী পূজা। তাছাড়া এখানে দুর্গা পুজা, সরস্বতী পুজা, বাৎসরিক অনুষ্ঠান সহ নানা ধরনের ধর্মীয় উৎসব এখানে হয়ে থাকে।

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *