কতটুকু জানেন মহাত্মা গান্ধী সম্পর্কে? জেনে নিন গান্ধীজির জীবনের অজানা অধ্যায়.

কতটুকু জানেন মহাত্মা গান্ধী সম্পর্কে? জেনে নিন গান্ধীজির জীবনের অজানা অধ্যায়.

Hindus.news

তিনি জাতির জনক। তিনি  অহিংস’ এর পূজারী পূজারী। তাকে নিয়ে নানা মতবিরোধ থাকলেও থাকলেও, তার দেখানো পথ সারা বিশ্বে বিশ্বে বিশ্বে সমাদৃত হয়েছে। তিনি সমগ্র বিশ্বের কাছে নিজেকে যেমন উপস্থাপিত করতে পেরেছেন উপস্থাপিত করতে পেরেছেন একজন সত্যের পূজারী হিসেবে হিসেবে, তেমনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে তার অবদান অনস্বীকার্য। আর তাই তিনি পেয়েছেন এক বিশেষ নাম সমগ্র ভারতবর্ষ  তথা বিশ্বের কাছে। তিনি আপামর জনসাধারণের পরিচিত হয়েছেন মহাত্মা নামে। অহিংস নীতিতে বিশ্বাস করেও যে বিরাট কিছু পরিবর্তন আনা যেতে পারে মানুষের মনে, তা তিনি সকলের সামনে তুলে ধরেছেন।
২রা অক্টোবর জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন উপলক্ষে আমরা যেমন স্মরণ করব তার বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজকে, তেমনি স্মরণ করবো তার জীবনের তার জীবনের নানান অধ্যায় নিয়ে। এই সমস্ত অধ্যায় আমাদের যেমন শিক্ষা দেবে কিভাবে একজন সাধারন মানুষ অসাধারণ হয়ে উঠতে পারে, তেমনই প্রত্যেকের ভিতর থাকা থাকা ভিতর থাকা থাকা সত্যের আলোকে আলোকে জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করবে।
যাকে আমরা মহাত্মা গান্ধী বলে জানি বলে জানি, তার আসল নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। তাকে “মহাত্মা” উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৪ সালে।

 

তার আদর্শকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার জন্য ২০০৭ সালের  ২অক্টোবর আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় জাতিসংঘের তরফ থেকে।
গান্ধীজির তখন সবেমাত্র বয়স ১৩ বছর। সেই কিশোর বয়সেই পিতামাতার পছন্দের মেয়ে কস্তুরা বাই এর সঙ্গে তার হিন্দু মতে বিবাহ হয়েছিল। অর্থাৎ আজকে আজকের দিনে গান্ধীজি বাল্য বিবাহ করেছিলেন বলা যায়। মজার বিষয় হলো এই যে গান্ধীজির থেকে তার স্ত্রী বয়সে এক বছরের বড় ছিল।
গান্ধীজি ১৮ বছর বয়সে প্রথম বাবা হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেন। তাঁর প্রথম সন্তানের নাম ছিল হরিলাল তার মোট চারটি সন্তান ছিল তারা হলেন যথাক্রমে হরিলাল গান্ধী, মনিলাল গান্ধী ,রামদাস গান্ধী  এবং দেবদাস গান্ধী। তবে অনেকেই জানেন না গান্ধীজির বয়স যখন মাত্র ১৫ বছর ছিল সেই সময় তাঁর স্ত্রী প্রথম সন্তানের জন্ম দেন কিন্তু  সেই সন্তানের মৃত্যু ঘটে।
গান্ধীজির শিক্ষা জীবন নিয়ে বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয়, তিনি খুবই মেধাবী ছাত্র ছিলেন না। তিনি ছিলেন মধ্যম মানের ছাত্র। তবে ছাত্রজীবন থেকে তিনি যে বিষয়টা ভালোভাবে শিখে ছিলেন তা হল সততা। তিনি তার প্রথম শিক্ষা জীবন শুরু করেন পোরবন্দরে এবং রাজকোটে। পরবর্তীতে যখন পিতার সঙ্গে গুজরাটের ভাবনগর চলে আসেন, তখন সেখানে শ্যমালদাস কলেজ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

 

যে বছর তার প্রথম সন্তান হরিদাস জন্মগ্রহণ করেন অর্থাৎ ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে সেই বছরই তিনি তার উচ্চশিক্ষা অর্থাৎ ব্যারিস্টারি শিক্ষালাভের জন্য লন্ডনে চলে যান। এ সময় গান্ধীজর বয়স ছিল ১৮ বছর অর্থাৎ মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি হন পিতা। লন্ডনে তিনি তার কলেজে সবার কাছে  পরিচিত হয়ে ওঠেন খারাপ হাতের লেখার জন্য।

 

 

গান্ধীজি ২১ বছরের মতো সময় দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠিয়েছিলেন এই সময়ে তিনি বহুবার কারাবরণ করেছেন তবে এই দক্ষিণ আফ্রিকায় ছিল তার আন্দোলন শুরু করার প্রকৃত ভূমি।
গান্ধীজির জীবনে তার মায়ের প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। তার মা পুতলিবা ছিলেন প্রনামী বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের। আর এই সম্প্রদায়ের লোকেরা নিরামিষ ভোজন করতেন। তাই তিনি গান্ধীজিকে নিরামিষ ভোজনের শিক্ষা দিয়েছিলেন। যা পরবর্তীকালে গান্ধীজি গান্ধীজি তার শেষ পর্যন্ত শেষ পর্যন্ত পালন করেছেন। গান্ধীজি ছিলেন ফলাহারী অর্থাৎ তিনি ফল খেতে ভালোবাসতেন। তার পছন্দের খাবারের মধ্যে ছিল যে কোন প্রকার ফল। তবে বাদাম, কাজু এবং কিসমিস খেতে ভালোবাসতেন তিনি।
গান্ধীজি সারা দিনে প্রায়  ১৮ কিলোমিটার পায়ে হেটে যাত্রা করতেন অর্থাৎ তার জীবনকালে তিনি যে পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করেছেন তা প্রায় সমগ্র বিশ্বকে দুইবার পরিক্রমা করার সমান।

 

 

মহাত্মা গান্ধী ৫ বারের বেশি সময় নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন ।যা কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বেশিবার নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়ার ঘটনা।
গান্ধীজির শুধু ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন তা কিন্তু নয় তিনি নারী স্বাধীনতার পক্ষে ও এবং জাতিভেদ প্রথা রদ করার পক্ষে এবং সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকারের দাবিতে তিনি আন্দোলন করেছিলেন।
গান্ধীজিকে ভালবেসে ডাকা হয় বাপু নামে। এই বাপু নামের ক্ষেত্রে যা ব্যাখ্যা দেওয়া হয় তা হলো, আমরা আমাদের বাবা কে আদর দিয়ে বাপু বলে যেমন ডাকি, তেমনি গান্ধীজিকেও সেই একইরকমভাবে পিতার ভালোবাসা প্রদর্শন করত সমগ্র ভারতবর্ষের আপামর জনগন।

 

 

১৯৩০সালের ১২ ই মার্চ গান্ধীজি এলাহাবাদ থেকে ডান্ডি উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরু করেন ।তিনি প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে নিতে পৌঁছান ডান্ডিতে ৬ই এপ্রিল এবং গানটিতে পৌঁছে ডান্ডি তে পৌছে তিনি ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে লবণ তৈরি করে লবণ আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করেন।
গান্ধীজি নিচু জাতের লোকেদের প্রতি সকলের মনোভাব পাল্টানোর জন্য তাদের এক নতুন নাম দেন হরিজন।’

 

গান্ধীজি কখনোই দুধ খেতে ভালোবাসতেন না। কিন্তু তার শরীরের অবস্থা খারাপ থাকার জন্য ডাক্তার তাকে দুধ খেতে পরামর্শ করেন। তখন গান্ধীজি গরুর দুধের বদলে ছাগলের দুধ খেতে থাকেন। তিনি যখনই বাইরে কোথাও যেতেন তখন অবশ্যই এরকম ছাগল তার সঙ্গে থাকতো। তিনি কখনোই গরুর বা মহিষের দুধ খেতে ভালবাসতেন না।

 

 

গান্ধীজির স্ত্রী কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা যান। সেই সময় কারাগারে গান্ধীজি উপস্থিত ছিলেন ।পরে গান্ধীজিকে কারাগার থেকে মুক্ত করা হয় যখন তার ম্যালেরিয়া ধরা পড়ে। ব্রিটিশ সরকার গান্ধীজিকে জেলে রাখতে চায়নি। কারন যদি গান্ধীজির মৃত্যু ঘটে তাহলে বিরাট রকমের আন্দোলন শুরু হতে পারে এই ভেবে।

 

 

যে দেশের বিরুদ্ধে গান্ধী সারাজীবন যুদ্ধ করেছিলেন সেই গ্রেট ব্রিটেন তার মৃত্যুর ২১ বছর পর তার সম্মানার্থে  স্ট্যাম্পে গান্ধীর ছবি ছাপায়।

 

 

১৯৯৬ সাল থেকে ভারতবর্ষে গান্ধীজির  ছবিযুক্ত নোটের প্রচলন শুরু হয়। অর্থাৎ ১০ টাকা, কুড়ি টাকা, ৫0 টাকা ১০০ টাকা ,৫০০ টাকার এবং হাজার টাকার নোটের  মধ্যে গান্ধী ছবি ব্যবহার শুরু হয় যা গান্ধী সিরিজ নোট নামে পরিচিত।
মহাত্মা গান্ধী চারটি মহাদেশ এবং ১২ টি দেশের মানবাধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বউর যুদ্ধের সময় গান্ধীজি একজন সৈন হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে তিনি চিরদিনের জন্য অহিংস নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।

 

মহাত্মা গান্ধী সাতচল্লিশ সালের ভারত স্বাধীনতা লাভ করার সময় সেই রাতে ১৫ইআগস্ট ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের সময় সেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন না তিনি তখন কলকাতায় উপবাস করেন ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করার জন্য।

 

 

তিনি যখন দক্ষিণ আফ্রিকায় ছিলেন কথন তিনি বোয়র-যুদ্ধের স্ট্রেচারের বাহক হিসাবে স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন এবং এমনকি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশদেরও যুদ্ধের প্রচেষ্টায় সহায়তা করেছিলেন।
মহাত্মা গান্ধীর ইংরেজি বলার ধরণ ছিল কিছুটা আইরিশদের মত, কারণ তার প্রথম ইংরেজি শিক্ষক ছিলেন একজন আইরিশ।

 

 

গান্ধীজী তাঁর ভাইয়ের সাথে ধূমপান করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর স্বাদ ভালো লাগেনি। একবার তিনি তাঁর বন্ধুদের সাথে মাংস খাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন যে ইংরেজরা ভারতে শাসন করার শক্তি পেতো মাংস থেকে। তিনি তাঁর আত্মজীবনী My Experiments With Truth-এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশুনা করেন মহাত্মা গান্ধী এরপর অ্যাটর্নি হন। তবে প্রথমবার আদালতে বক্তব্য রাখতে উঠে নার্ভাস হয়ে পড়েন গান্ধী। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বসে পড়েন ও মামলা হেরে যান।
গান্ধীজির প্রিয় গান ছিল রঘুপতি রাঘব রাজা রাম, পতিত পাবন সীতারাম ,সবকো সুমতি দে ভগবান ,ঈশ্বর আল্লাহ তেরও নাম

 

 

১৯৪৮ সালের ৩০ শে জানুয়ারি দিল্লির বিরলা হাউস এ প্রার্থনা সভায় উপস্থিত থাকার সময় পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে মহাত্মা গান্ধীকে তিনটি গুলি মেরে হত্যা করেছিলেন  নাথুরাম গডসে। তার মৃত্যু শোভাযাত্রায় কুড়ি লক্ষ লোকের সমাগম হয়েছিল এবং তার অন্তিম যাত্রার মিছিলটি ছিল আট কিলোমিটার লম্বা।
গান্ধীজী একজন ভালো লেখক ছিলেন। স্বাধীনতার সংগ্রামের সময় প্রায় 10 মিলিয়ন শব্দ লেখেন, প্রতিদিন প্রায় 700 শব্দ লিখতেন। তাঁর লেখার বিষয়গুলি ছিল সামাজিক যেমন- বাল্যবিবাহ, মদ নিষেধাজ্ঞা, পরিষ্কার পরিচ্ছ্ন্নতা।

 

 

গান্ধী নিয়মিত তলস্তয়কে চিঠি লিখতেন। হিটলারের সাথেও বেশ চিঠি চালাচালি দেখা গিয়েছিল। যুদ্ধ বন্ধের অনুরোধ করে গান্ধী হিটলারকে একটি চিঠি লিখলেও তা আর হিটলারের কাছে পৌছায়নি। কারণ ব্রিটিশ সরকার এতে হস্তক্ষেপ করেছিলেন।
গান্ধীজীর চরখা 110,000 পাউন্ডে নিলাম হয়। যেটা তিনি ভারত ছাড়ো আন্দোলনকালে ইয়েরওয়াদা জেলে ব্যবহার করেছিলেন।

 

 

ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ৫৩ টি বিভিন্ন রাস্তার নাম মহাত্মা গান্ধীর নামে নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়াও সারা বিশ্বে ৪৮ টি বিভিন্ন রাস্তার নাম মহাত্মা গান্ধীর নামে নামকরণ করা হয়েছে। অ্যাপেল ফোন এর প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস ছিলেন একজন বড় সমর্থক তাই তিনি গান্ধীর মতো গোল চশমা পরতে শুরু করেন তাকে সম্মান জানানোর জন্য।

 

 

 

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *