কীসের ভিত্তিতে বিসর্জনে নিষেধাজ্ঞা, রাজ্যকে প্রশ্ন হাইকোর্টের।

কীসের ভিত্তিতে বিসর্জনে নিষেধাজ্ঞা, রাজ্যকে প্রশ্ন হাইকোর্টের।

 

কলকাতা : দশমীতে দুর্গা প্রতিমা বির্সজন নিয়ে হাইকোর্টের ভর্ৎসনা মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার৷ বুধবার শুনানিতে আদালত সরাসরি বিসর্জনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পদ্ধতিগত ত্রুটি নিয়েই প্রশ্ন তুলল৷ হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাকেশ তিওয়ারি ও বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডনের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চাইল, মহরমের জন্য বিসর্জনের সময়সীমা না বাঁধলে শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে – তা কীসের ভিত্তিতে ঠিক করা হচ্ছে৷ বিচারপতিদের প্রশ্ন, শুধু ধারণার ভিত্তিতে কী করে সরকার, এমন একটা সিদ্ধান্ত নিল৷ অতীতে এমন ঘটনা ঘটেছে কী, সেই প্রশ্নও তুলেছেন বিচারপতিরা৷ আগামিকাল বৃহস্পতিবার এই মামলার রায় দেবে কলকাতা হাইকোর্ট৷

প্রসঙ্গত, বিসর্জনের সময়সীমা বাঁধা নিয়ে টানাপোড়েন চলছে গত বছর থেকেই৷ গত বছরও দশমীর পরদিনই ছিল মহরম৷ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সেবারও বিসর্জনের সময়সীমা বেঁধেছিল রাজ্য৷ গতবারও হাইকোর্টের সিঙ্গল ও ডিভিশন বেঞ্চে মুখ পুড়েছিল রাজ্যের৷ এবারও তার পুনরাবৃত্তি হল৷ এবারও কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হল রাজ্য সরকারকে৷ বুধবার হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ শুনানির সময় কড়া ভাষায় রাজ্যের সমালোচনা করল৷

আদালতের প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলছেন রাজ্যে সাম্প্রয়দায়িক সম্প্রীতি বজায় রয়েছে৷ তাহলে কীসের ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছে, যে শৃঙ্খলাভঙ্গ হতে পারে? শুধু ধারণার ভিত্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা কেন, সেই প্রশ্নও তুলেছে হাইকোর্ট৷ গোলমাল সংক্রান্ত কোনও রিপোর্ট আছে কি না, তা-ও জানতে চেয়েছে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ৷ এ নিয়ে কোনও রিপোর্ট আছে কি না, অতীতে এমন কোনও ঘটনা ঘটেছে কি না, তা-ও জানতে চায় আদালত৷ এই প্রসঙ্গে বিচারপতিদের প্রশ্ন, যদি কখনও জানা যায়, হাইকোর্টের উপর উপগ্রহ ভেঙে পড়বে, তাহলে কি তা যাচাই না করেই আদালত খালি করার নির্দেশ দেবে রাজ্য৷

এ বছরও যেহেতু দশমীর পরদিন মহরম তাই ওইদিন সন্ধ্যা ছ’টার পর প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া যাবে না বলে জানায় রাজ্য৷ এর পর আদালতের চাপের মুখে পড়ে সময়সীমা বাড়িয়ে রাত দশটা পর্যন্ত করেছিল রাজ্য সরকার৷ যদিও পঞ্জিকা মতে রাত দেড়টা অবধি বিসর্জন দেওয়ার কথা আছে বলে সময়সীমা বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছিলেন আবেদনকারীরা৷ সেই বিষয়ে আদালত রাজ্যের মত জানতে চাইলে সময় বাড়ানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকারের আইনজীবী৷ এবার দেখার বৃহস্পতিবার আদালত কী রায় দেয়৷

 

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *