গন্তব্য কি ছিন্নমস্তা মন্দির?নাকি,২০০৯ এর ইতিহাসকে ফিরিয়ে আনা? মুকুলের জঙ্গল-মহল সফর নিয়ে জল্পনা।

গন্তব্য কি ছিন্নমস্তা মন্দির?নাকি,২০০৯ এর ইতিহাসকে ফিরিয়ে আনা? মুকুলের জঙ্গল-মহল সফর নিয়ে জল্পনা।

 

২০০৯ সালে মাওবাদীদের সঙ্গে নিয়ে একদা বাম দূর্গ হিসাবে পরিচিত জঙ্গল-মহলে নিজেদের ক্ষমতা কায়েম করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস, আর সেই ব্লু-প্রিন্ট বানিয়েছিলেন সদ্য দলত্যাগি তৃণমূল সাংসদ মুকুল রায়। এমনটাই অভিযোগ ছিল বাম নেতাদের। তবে, গঙ্গা থকে অনেক জল গড়িয়ে গিয়েছে। রাজনীতির সমীকরণের বদল হয়েছে। বাম নিধনের ব্লু-প্রিন্ট বানানোর কারিগর এখন তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচারে যাচ্ছেন জঙ্গল-মহলে! যা ক্রমশই তৃণমূলের কাছে বেশ অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। শাসক দলের নেতাদের কথাতেই তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। মুকুল রায়ের এই জঙ্গল-মহল সফরের মূল উদ্দেশ্য কি  মমতাকে পাল্টা বার্তা দেওয়া?

জানা গিয়েছ, আগামী 10 অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঝাড়গ্রামে প্রশাসনিক বৈঠক ডেকেছেন। মুকুল রায় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে এই জঙ্গল-মহল সফরের কথা ঘোষণা করেছিলেন।
আর শনিবার মুকুল রায় জানালেন, মুখ্যমন্ত্রীর সফরের পরই জঙ্গল-মহল যাচ্ছেন তিনি। দল ভাঙতে যার জুড়ি মেলা ভার, সেই চাণক্য-মুকুলের প্রথম টার্গেট ওই জঙ্গল-মহল।

মুকুল রায় তৃণমূলে এখন ইতিহাস। মুকুল-হীন তৃণমূলের এখন সংগঠন দেখবে কে? সুব্রত বক্সি বা পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দলের লোকজনই ‘সংগঠক’ হিসাবে স্বীকৃতি দিতে চান না। সাজানো মঞ্চে বা সাংবাদিক সম্মেলনে এরা যতখানি দক্ষ, তার সিকিভাগ দক্ষতাও দল তৈরির ক্ষেত্রে নন।
মুকুলের অভাব ঢাকতে ব্যাটন নিজের কাঁধে তুলে নিতে বাদ্য হচ্ছেন দল-নেত্রী স্বয়ং। পুজোর ছুটি শেষ হলেই তিনি যাচ্ছেন জঙ্গল-মহলে। সামনে পঞ্চায়েত ভোট। তার আগে সংগঠনকে চাঙ্গা রাখতেই মমতার এই পদক্ষেপ। নেত্রী ঠিক করেছেন, আগামী 10 অক্টোবর তিনি ঝাড়গ্রামে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন। লক্ষ্য, মুকুলের অবর্তমানে দলের সংগঠনকে মজবুত রাখা।
অপরদিকে, তৃণমূলের শীর-দাড়াতে আঘাট করতে তিনি যে আদা-জল খেয়েই নামবেই তা মোটামুটি সবার জানা। সেই জল্পনাই স্পষ্ট হয়েছে মুকুল রায়ের পুরুলিয়া সফরের বার্তাতেই।
তবে মুখে মুকুলের দাবি, তিনি ছিন্নমস্তা মন্দিরে পুজো দিতেই জঙ্গল-মহল যাচ্ছেন।

 

 

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *