গৃহযুদ্ধ ছাড়া কোনও দিনই হিন্দু-মুসলিম সমস্যার সমাধান হবে নাঃ তথাগত রায়।

গৃহযুদ্ধ ছাড়া কোনও দিনই হিন্দু-মুসলিম সমস্যার সমাধান হবে নাঃ তথাগত রায়।

 

আগরতলা এ.এন.ই ): বারবারই বিতর্ককে সঙ্গে নিয়ে চলেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল। যিনি অবলীলায় নিজেকে আর এস এস সদস্য হিসাবে পরিচয় দিয়ে গর্ব বোধ করেন। সদম্ভেই বলেন, ”যা বিশ্বাস করি তাই বলি”। বিজেপি তথা সাবেক জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রাসাদ মুখার্জির উদ্ধৃতি দিয়ে এবার নতুন বিতর্ক যোগ করলেন তিনি। এমন এক সময় তিনি এই বিতর্ককে উস্কে দিলেন, যখন গরু নিয়ে গোঁটা দেশ উত্তাল। একদিকে প্রকাশ্যে গরু বিক্রি সহ কেন্দ্র সরকারের গরু কেন্দ্রিক নানা বিধি নিষেধ, অন্যদিকে গো-শালা স্থাপন। রাজ্যপাল তথাগত রায় বললেন, “একটা গৃহযুদ্ধ ছাড়া কোনও দিনই হিন্দু-মুসলিম সমস্যার সমাধান হবে না।” রাজ্যপালের এই টুইটের পরেই দেশ জুড়ে বিতর্ক শুরু হয়। ত্রিপুরার রাজ্যপাল গৃহযুদ্ধকে সমর্থন করছেন কিনা এ নিয়েও ঝড় শুরু হয়ে যায়। এরপর অবশ্য সাফাই দিতেও কসুর করেননি তিনি। বলেন, আমি শুধু ভারতকেশরীকে উদ্ধৃত করেছে, সমর্থন করিনি। তিনি আরও বলেন, ১৯৪৬ সালে যে উক্তি ডাইরির পাতায় লিখে রেখে গিয়েছিলেন শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি সেই উক্তিটি শুধু বলেছি। কিন্তু এতেও থামানো যায়[নি বিতর্ক। অনেকেই পাল্টা টুইট করে রাজ্যপাল পদে তার পদত্যাগ সহ গ্রেপ্তারের দাবীও তোলেন। তথাগত রায় জানান, অনেকেই বলছেন আমি নাকি গৃহযুদ্ধকে সমর্থন করছি। আদতে তা নয়। আমি গৃহযুদ্ধকে সমর্থন করছি না। শুধু শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির বক্তব্যকে উদ্ধৃতি করেছি মাত্র। তবে রাজ্যপাল যাই ব্যাখ্যা দিন চলতি রাজনৈতিক ডামাডোলে ইচ্ছাকৃতভাবেই রাজ্যপাল তথাগত রায় এ জাতীয় মন্তব্য করেছেন বলের অভিযোগ উঠে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত-রাজ্যপাল পদটি সম্পূর্ণ সাংবিধানিক পদ হলেও সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরই এই পদে পুনর্বাসন দেওয়া হয়। রাজ্যপাল যেভাবে আরএসএসের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার কথা বলেন রাজ্যপালের মতো সাংবিধানিক পদের ক্ষেত্রে বেমানান। রাজ্যের রাজ্যপাল যেভাবে প্রথাগত সমস্ত নিয়ম ভেঙ্গে দেখছেন এবং প্রকাশ্যেই রাজনৈতিক বক্তব্য রাখছেন তা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।

 

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *