গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়  হিন্দু পরিবারের বসতঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে ডোবায় নিক্ষেপ।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়  হিন্দু পরিবারের বসতঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে ডোবায় নিক্ষেপ।

 

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী গ্রামে গত শনিবার বিকেলে একটি প্রভাশালী মহল এক হিন্দু পরিবারের বসতঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে ডোবায় ফেলে দিয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী তপন হাজরার (৫২) পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ১২ জনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ এরই মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তাররা হলেন ইয়াছিন খলিফা (৩২) ও ফরিদ খলিফা। তাঁরা ওই এলাকার সামসু খলিফার ছেলে।
তপন জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শ্রীরামকান্দি গ্রামের মো. কামাল হোসেনের কাছ থেকে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে সাড়ে ৬ শতাংশ জমি কেনেন। মাটি ভরাট করে দোচালা টিনের ঘর ও রান্নাঘর তুলে বসবাস শুরু করেন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ইয়াছিন খলিফার নেতৃত্বে এক দল যুবক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বসতঘরে হামলায় চালায়। এ সময় তারা ঘরটি ভেঙে পাশের ডোবায় ফেলে দেয়।
তপন বলেন, ‘আমি নিরীহ লোক। ডিম বিক্রি করে সংসার চালাই। অনেক কষ্ট করে এটুকু করেছিলাম। তাও শেষ করে দিল। আতঙ্কের মধ্যে আছি। রাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টাঙিয়ে বসবাস করেছি। ’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘ঘর ভাঙচুরের সময় টুঙ্গিপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মুজিবুর রহমান দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটেছে। এখন আমি কিভাবে বাঁচব? সরকারের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। ’ তপনের স্ত্রী কৃষ্ণা হাজরা বলেন, ‘যখন ওরা আসে, তখন আমি রান্না করছিলাম। আমাকে বকাঝকা করে ঘর থেকে বের করে দেয়। ওরা পুলিশ নিয়ে এসে আমাদের ওপর এই অত্যাচার করেছে। আমাদের দোষ কী? আমরা তো টাকা দিয়ে জমি কিনে এই বাড়ি বানাইছি। ’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি তপন হাজরার বাড়ির পাশে একটি জমিতে কাজ করছিলাম। এ সময় ৪০-৫০ জন লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বাড়িটি নিমিষে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। আমি ভয়ে আসিনি। শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম। ’
জমির আগের মালিক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘২০১৬ সালের ১১ নভেম্বর আমি পাটগাতী গ্রামের মো. রবিউল বিশ্বাসের কাছ থেকে ওই জমির পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (স্বত্ব) নিই। এরপর তা তপন হাজরার কাছে বিক্রি করি। ’
মো. রবিউল বিশ্বাস বলেন, ‘২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আমি অভিযুক্ত ইয়াছিন খলিফার চাচাতো ভাই মো. আরিফ ইসমত লিটন এবং তাঁর দুই বোন সেলিনা বেগম ও লাকী বেগমের ৩৬ শতাংশ জমি কিনে বালু ভরাট করি। পরে এর মধ্যে সাড়ে ৬ শতাংশ জমি মো. কামাল হোসেনকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিই। তিনি ওই জমি তপন হাজরার কাছে বিক্রি করেন। ’ তিনি আরো বলেন, ‘ইয়াছিন খলিফা এ জমি তাদের বলে দাবি করে আসছিল। শনিবার তার নেতৃত্বে এবং পুলিশের উপস্থিতিতে বসতঘর ভাঙা হয়েছে। ’
পাটগাতী গ্রামের ওসমান আলী শেখ, গৌরাঙ্গ বিশ্বাস, বিভাষ হাজরা, মো. মোস্তফা মোল্লা ও মাহাবুব মোল্লা বলেন, ‘এ ঘটনার বিচার হওয়া উচিত। ’ টুঙ্গিপাড়া থানার এসআই মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। আমি যাওয়ার আগে বাড়ি ভাঙা হয়েছে। ’ গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশ জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’
জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটেছে, সেটা ঠিক হয়নি। টুঙ্গিপাড়া পৌর মেয়রকে অপাতত একটি ঘর বানিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ’

 

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *