জল ছাড়া দোল, বাজি ছাড়া কালীপুজো হলে রক্তবিহীন বকরিঈদ নয় কেন: বিশ্ব হিন্দু পরিষদ’

 

জল ছাড়া দোল, বাজি ছাড়া কালীপুজো হলে রক্তবিহীন বকরিঈদ নয় কেন: বিশ্ব হিন্দু পরিষদ’

 Hindus.news

কলকাতা: ঈদ, দুর্গাপুজো কিংবা দীপাবলি সহ যে কোনও উৎসবই মানুষের খুশির জন্য। উৎসবে পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকারক এরকম কোনও বস্তুর ব্যবহার রুখতে বিভিন্ন সময় প্রচার চালায় পরিবেশবন্ধু, সমাজসেবী সংগঠন এবং বুদ্ধিজীবীরা।

বাঙালির এক প্রিয় রঙের উৎসব দোলের সময় জল অপচয় না করার কথা বলেন অনেকে। আবার কালীপুজোর সময় শব্দবাজি এবং গ্যাস নির্গত হয় এরকম আলোবাজি ব্যবহার বন্ধের দাবি করেন পরিবেশ নিয়ে চিন্তিত বিভিন্ন সংগঠনগুলি। কিন্তু তারাই কেন বরকিঈদের মত উৎসবে রক্তপাত বন্ধের কথা বলেন না? এই প্রশ্নই তুলে দিচ্ছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।

কলকাতায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর সৌরিশ মুখোপাধ্যায় Hindus.news কে বলেন, “দেখুন কারও উৎসব নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। কিন্তু বাংলায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের কাছে গরু একটি পবিত্র পশু। বিভিন্ন পরিবেশ বন্ধু এবং সমাজসেবী সংগঠনগুলি কালীপুজো কিংবা দোলের সময় দাবি তোলেন শব্দবাজি বন্ধ রাখার কিংবা জল অপচয় না করার। কিন্তু তাঁরাই এখন চুপ। কোন সংগঠন রক্তবিহীন বকরিদের দাবী তুলছে না।”
বকরিদ মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে একটি পবিত্র উৎসব। যেখানে আল্লার কাছে কুরবানী করা হয় প্রিয় বস্তুটির। পবিত্র হজ সম্পন্ন হওয়ার পর কুরবানির ঈদ৷ ধর্মপ্রাণ মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ এই দিনটিতেই তাদের প্রিয় জিনিসটিকে আত্মত্যাগের মাধ্যমে আল্লার কাছে নিবেদন করে থাকেন৷ পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা দেশেই পালিত হচ্ছে বকরিদ।

প্রায় চার হাজার বছর আগে ঈশ্বরের সন্তুষ্টির জন্য হজরত ইব্রাহিম নিজের ছেলেকেই কুরবানি দিতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। তবে পরিবর্তে কুরবানী হয় দুম্বা। সেই থেকেই আজকের এই পবিত্র দিনে পশু কুরবানীর প্রচলন চলে আসছে৷

বিভিন্ন উৎসবে পশু হত্যার বিরোধিতা করে আসছে PETA(পিপলস ফর দ্য এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অব অ্যানিমেল)৷ পশুদের সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা সংগঠনটি তামিলনাড়ুর প্রচলিত প্রথা জালিকাট্টু(ষাড়ের লড়াই) বন্ধ করার দাবি জানিয়েছিল৷ কিন্তু এই PETA কেন বকরিদের মত বিষয়টি নিয়ে চুপচাপ সে প্রশ্নও উঠছে ফেসবুকের মত সোশ্যালমিডিয়াতে৷ অনেকে, ‘‘আজ PETA সিএল এ আছে’’ বলেও সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করেন৷

বিষয়টি নিয়ে বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার প্রেসিডেন্ট আলি হাসান Hindus.news
-কে বলেন, ‘‘দেখুন কুরবানি অর্থে নিজেকে আল্লার নিকট সমর্পণ করা৷ অনেকে প্রতীকি হিসেবে পশুবলি করে থাকেন৷ তবে বকরিদের কুরবানির আসল অর্থ অবশ্যই আলাদা৷ আমাদের সবারই এমন কিছু করা উচিৎ নয় যাতে করে সম্প্রীতি নষ্ট হয়৷’’

 

 

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *