ঠাকুরপাড়ার হামলায় জবাবদিহি করতে হবে:দাবি করেছেন নাগরিক সমাজ! 

ঠাকুরপাড়ার হামলায় জবাবদিহি করতে হবে:দাবি করেছেন নাগরিক সমাজ! 

 

ঢাকা : রংপুরের ঠাকুরপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলার বিষয়ে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে বলে দাবি করেছে নাগরিক সমাজ। আজ সোমবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।

বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ দাবি করেছে নিজেরা করি, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, ব্লাস্ট, বেলা, এএলআরডি, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, অর্পিত সম্পত্তি আইন প্রতিরোধ আন্দোলন ও সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সমন্বয়ে গঠিত নাগরিক সমাজ।
নাগরিক সমাজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ ও ১৬ নভেম্বর নাগরিক সমাজ নানা অনুসন্ধান চালায়। এ সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলা হয়। এ ঘটনায় উসকানিদাতা ও সংশ্লিষ্ট লোকদের ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত দোষী বেরিয়ে আসবে।

প্রতিবেদনে ছয়টি সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও মহলকে একটি নিরপেক্ষ স্বচ্ছ কমিশনের মাধ্যমে তদন্ত করে চিহ্নিত করা ও দ্রুত বিচারের আওতায় আনা।
পুলিশ বা প্রশাসন কেন আগাম ব্যবস্থা নেয়নি, তা তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সব সাম্প্রদায়িক ঘটনার অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করতে হবে। এ ধরনের ঘটনার দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। হামলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর এ ধরনের সহিংস ঘটনা সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। কারণ, আগে এ ধরনের ঘটনার বিচার বা শাস্তি হয়নি।

নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির বলেন, প্রশাসনের লোকদের বিষয়ে তদন্ত করে তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক সারা হোসাইন বলেন, অমুসলিমদের সংখ্যা এ দেশে যত কমবে, দেশের অবস্থা তত খারাপ হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের উপদেষ্টা কাজল দেবনাথ প্রমুখ।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার হরকলি ঠাকুরপাড়া এলাকার মৃত খগেন রায়ের ছেলে টিটু রায় ৫ নভেম্বর ফেসবুকে ‘ধর্মীয় অবমাননাকর’ স্ট্যাটাস দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১০ নভেম্বর হিন্দু সম্প্রদায়ের আটটি বাড়ি পুড়িয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এরপর পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হন। সাত পুলিশ সদস্যসহ ২৫ জন আহত হন।

 

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *