তালাক ইস্যুতে চাপ বাড়ল মমতার, বিস্ফোরক মন্তব্য তৃণমূল মন্ত্রীর।

তালাক ইস্যুতে চাপ বাড়ল মমতার, বিস্ফোরক মন্তব্য তৃণমূল মন্ত্রীর।

 

তিন তালাক অর্ডিন্যান্স নিয়ে এখনও চুপ তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু তার আগেই দলের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিলেন রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। সুপ্র…

 

তিন তালাক অর্ডিন্যান্স নিয়ে এখনও চুপ তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু তার আগেই দলের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিলেন রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞার পরে ঠিক যে ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছিলেন সেই ভাষাতেই কেন্দ্রের অর্ডিন্যান্সের পরেও মন্ত্রী জানিয়ে দিলেন— ‘‘তালাক প্রথা চলছে, চলবে।’’

তিন তালাক অর্ডিন্যান্সে সিলমোহর দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। আগেই এই সংক্রান্ত বিল লোকসভায় পাশ হয়ে গেলেও আটকে ছিল রাজ্যসভায়। এবার সেই পথ এড়িয়েই আইন জারি করল মোদী সরকার। 

২০১৭ সালের অগস্ট মাসে যখন তাৎক্ষণিক তিন তালাক নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, তখনও মুখ খোলেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মতামত জানায়নি তৃণমূল কংগ্রেস। এর পরে কেন্দ্রীয় সরকার যখন সংসদে তিন তালাক বিরোধী আইন করতে বিল পেশ করে, তখনও লুকোচুরি খেলেছিলেন তৃণমূল সাংসদরা। দলের পক্ষে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি রাজ্যের শাসক তৃণমূল কংগ্রেস।

অনেক পরে গত ৩ জানুয়ারি বীরভূমে সরকারি জনসভা থেকে তিন তালাক নিয়ে নিজের ও দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বলেন, ‘‘তিন তালাক বাতিল করা নিয়ে আমরা বিরোধিতা করিনি। কারণ, এটি মেয়েদের পক্ষে। কিন্তু যে বিল সরকার এনেছে তাতে মেয়েরা আরও বিপদে পড়ে যাবে।’’

এবার সেই বিরোধিতার কথা মাথার রেখেই রাজ্যসভা এড়িয়ে অর্ডিন্যান্স জারি করে আইন আনল কেন্দ্র। আর সুপ্রিম কোর্টের বিরোধিতার মতো এবারেও একই সুরে আইনের বিরোধিতা করলেন পশ্চিমবঙ্গের গ্রন্থাগার মন্ত্রী তথা জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।

 

 

গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।— নিজস্ব ফাইল চিত্র

এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের অর্ডিন্যান্স জারি প্রসঙ্গে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী এবেলা.ইন-কে বলেন— ‘‘তালাকের অধিকার অল-ই-কোরান, অল-ই-শরিয়তি দিয়েছে। বিজেপি এতে বাধা দেওয়ার কে?’’ 
কেন্দ্র যে আইনই করুক তাতে যে মুসলমান সমাজের কিছু আসে যায় না তা বুঝিয়ে দিয়ে সিদ্দিকুল্লা বলেন, ‘‘ইসলাম ধর্ম বিজেপির দয়ায় বেঁচে নেই। বিজেপির বয়স কত দিনের? ইসলাম ধর্ম সাড়ে চোদ্দোশো বছর ধরে। যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন তিনিই, তাঁর পক্ষ থেকেই এই আইন। ইসলাম ধর্মে যারা বিশ্বাসী তারা বিবাহ করে এবং প্রয়োজনের তাগিদে বিচ্ছিন্ন হয় বা তালাক হয়। এটা বাঁচার একটা রাস্তা। এক্ষেত্রে অর্ডিন্যান্স কী হল না হল মুসলমানদের কোনও পরোয়া নেই।’’

এনিয়ে তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস এখনও কিছু না বললেও তিনি সরব। তবে জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী স্পষ্ট করেই বলেন, ‘‘দল কী বলবে জানি না, যখন বলবে তখন ভাবব। এখন এটাই জামায়েত নেতা হিসেবে আমার বক্তব্য।’’

 

 

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *