তৃণমূলের হাতেও — একসময় এই লেনিনের মূর্তি ভেঙে তাণ্ডব চালিয়েছিল তৃণমূল! 

তৃণমূলের হাতেও — একসময় এই লেনিনের মূর্তি ভেঙে তাণ্ডব চালিয়েছিল তৃণমূল! 

 

 হিন্দু নিউজ : এই অবস্থায় প্রবল বিরোধী বামেদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, “সিপিএমের বিরুদ্ধে আমি৷ কার্ল মার্কস, লেনিন আমার নেতা নয়৷ কিন্তু লেনিন, মার্কস, আম্বেদকরের, নেতাজির, গান্ধীজির মূর্তি ভাঙবেন এটা আমরা মেনে নেব না৷”

কিন্তু, একসময় এই লেনিনের মূর্তি ভেঙে তাণ্ডব চালিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরাই। তখন পূর্ব ভারতের কোনও রাজ্যের ক্ষমতা দখল তো দূরের কথা, সেভাবে সংগঠনই ছিল না বিজেপি-র। মতাদর্শগতভাবে বিজেপি-র প্রধান বিরোধী বামেরাই। কিন্তু, লেনিনের মূর্তি ভাঙার ইতিহাস এ রাজ্যেও রয়েছে। তা আবার হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ধরেই।

২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে যাদবপুরের এইট-বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে লেনিনের মূর্তির উপরে ভাঙচুর চালিয়েছিল তৃণমূল কর্মীরা। পরে সেখানে নতুন মূর্তি বসায় তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। তবে পুরনো মূর্তিটা বর্তমানে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বড়াল গ্রামে রয়েছে।

২০১২ সালে পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি গ্রামেও লেনিনের মূর্তির উপরে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। আরও বড় বিষয় হচ্ছে, ২০১৫ সালের মার্চ মাসের পাঁচ তারিখে অর্থাৎ ঠিক তিন বছর আগে ফের যাদবপুরে হামলা চালানো হয়েছিল লেনিনের মূর্তির উপরে। ওই দিন ছিল দোলযাত্রা। সেদিন যাদবপুরের এইট বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে লেনিনের মূর্তি ভেঙেছিল তৃণমূল কর্মীরা। ছোট ঘটনা বলে এড়িয়ে গিয়েছিল প্রশাসন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনোপ্রকার মূর্তি ভাঙা বরদাস্ত করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু, উক্ত ঘটনাবলীর বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। এই বিষয়ে গেরুয়া ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-র রাজ্য স্তরের নেতা অরবিন্দ দত্ত বলেছেন, “লেনিন সহ অনেক ভারতীয় মনীষীদের নানান সময়ে অপমান করা হয়েছে। সেই সব বিষয়গুলো এখন আর কেউ বলছে না।” এই বিষয়ে তিনি আরও বলেছেন, “৭০-এর দশকে কলেজ স্ট্রিটে বিদ্যাসাগরের মূর্তিতে জুতোর মালা পরানো হয়েছিল এবং তা ভাঙা হয়েছিল।”
একইরকমভাবে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে জুতোর মালা পরিয়ে বুর্জোয়া কবি আখ্যা দেওয়ার ঘটনা এবং শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ে নেতাজিকে অপমান করার ঘটনার উদাহরণও দিয়েছেন অরবিন্দ বাবু। “বীরভূম জেলার বোলপুরের হেতমপুর গ্রামে ভগৎ সিং-এর মূর্তির উপরে প্রস্রাব করে ভাঙচুর চালিয়েছিল একদল দুবৃত্ত। সেই সব ঘটনা কী সবাই ভুলে গিয়েছে?” প্রশ্ন করেছেন অরবিন্দুবাবু। একইসঙ্গে তাঁর আরও প্রশ্ন, “২০১৩ সালে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মের সার্ধশতবর্ষে যখন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বামীজির প্রতিকৃতি রাস্তায় ফেলে পদদলিত করেছিল অতি বামপন্থী ছাত্ররা তখন প্রতিবাদ করার কথা মনে হয়নি কেন?”

ত্রিপুরায় লেনিনের মূর্তি ভাঙার ঘটনা এবং তা ঘিরে রাজনৈতিক তরজার বিষয়ে অরবিন্দ দত্ত বলেছেন, “যারা এখন কান্নাকাটি জুড়েছেন, তাঁরা যেন মনে রাখেন রাশিয়া আগেই লেনিনের মূর্তি অপসারণ করেছে। ত্রিপুরার বিলোনিয়া নতুন কোনও ঘটনা নয়।”

 

 

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *