দিনাজপুরে ১০টি হিন্দু বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে মুসলমান যুবক!দেশজুড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা! 

দিনাজপুরে ১০টি হিন্দু বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে মুসলমান যুবক!দেশজুড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা! 

 

ঢাকা : দেশজুড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান সহিংসতার এই পর্যায়ে এবার দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে হরিজন পরিবারের ৭টি বাড়ি ও হিন্দু পরিবারে ৩টি বাড়িসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মোট ১০টি বাড়িতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে প্রতিবেশি মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকেরা। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২ ডিসেম্বর, শুক্রবার রাত ৩টায় বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ পৌরসভাধীন মুর্শিদহাট রেল কলোনি হরিজনপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় জুয়েল নামে এক মুসলমান যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে ক্ষতিগ্রস্তরা। আটক জুয়েল (২৩) সেতাবগঞ্জ স্টেশনপাড়া মহল্লার আইয়ুব আলীর ছেলে।

 

স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার রাতে রেল কলোনি হরিজন পাড়ায় সকলেই ঘুমিয়ে ছিল। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে জুয়েল হরিজনপাড়ার এক এক করে ৭টি বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। আগুনের লেলিহান শিখা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ৩টি বাড়িতেও আগুন দেয় তারা। পেট্রোল দিয়ে আগুন জ্বালানো হয়ে বলে স্থানীয়রা বলেন। আগুন থেকে বাঁচতে ১০টি পরিবারের ৪৮জন নারী-পুরুষ ও শিশু জীবন নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তার আগেই ১০টি বাড়ির কাপড়-চোপড়, আসবাবপত্রসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সর্বস্ব হারিয়ে ১০টি পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

সেতাবগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের স্টেশন মাস্টার সামসুল আলম জানান, আগুনে ১০টি বাড়ি পুড়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ফলে জনবসতিপূর্ণ আশপাশের বাড়িগুলো রক্ষা পেয়েছে। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা।

ক্ষতিগ্রস্ত সোহেল বাঁশফোড় জানান, রাতে ঘুমের সময় হঠাৎ আগুন দেখে স্ত্রী আর সন্তানদের দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন তিনি। শরীরের কাপড় ছাড়া কিছুই রক্ষা করতে পারেননি। একই কথা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জুয়েল বাঁশফোড়, রয়েল বাঁশফোড়, জীবন লাশ বাঁশফোড়, রিয়া বাঁশফোড়, মেয়ালাল, লাকী রানীসহ অন্য হরিজন সম্প্রদায়ের লোকেরা। হরিজন সম্প্রদায়ের লোকেরা জানান, ইতিপূর্বেও জুয়েল নামের এই মুসলমান যুবক তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। বাড়িতে আগুন দেওয়ায় সর্বস্ব হারানোর পর এখন তারা নিরাপত্তহীনতায় ভুগছে।

পাশ্ববর্তী হিন্দু সম্প্রদায়ের সন্ধ্যা রানী সূত্রধর জানান, আগুনে তার সর্বস্ব পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে সন্ধ্যা রানীসহ বিমল চন্দ্র সূত্রধর ও রেনুশীলের ৩টি বাড়ি।

স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর লিটন জানান, গত দুর্গাপূজায় স্থানীয় জুয়েল নামের ওই যুবকের সঙ্গে হরিজন সম্প্রদায়ের বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই জুয়েল হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজনকে হুমকি দিয়ে আসছিল। ক্ষতিগ্রস্তদের বর্ণনা মতে জুয়েলই এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানান তিনি। ঘটনার পর শনিবার সকালে সেতাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আব্দুস সবুর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শীলাব্রত কর্মকার, পুলিশের ঊর্ধতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৩০ কেজি চাল ও ২ বান টিন এবং পরিবারের প্রত্যেককে ১টি করে কম্বল সরকারি সাহায্যে প্রদান করেন। এ ছাড়াও সেতাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আব্দুস সবুর ক্ষতিগ্রস্তদের বসতবাড়ি নির্মাণে আনুসঙ্গিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে।
অপরদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আফসার আলী প্রত্যেক পরিবারের মাঝে ২৫ কেজি করে চাল ও থালা-বাসন সরবরাহ করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আসলাম প্রত্যেক পরিবারের মাঝে নগদ ১ হাজার করে ১০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ জামান আশরাফ জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজনকে নিরাপত্তার জন্য সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

 

 

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *