পালিয়ে আসা হিন্দু রোহিঙ্গা রিকা ধর। মুসলমান হয়ে গেলে স্বামী সন্তানদের বাঁচাতে পারতাম,মূর্খ,আবাল। 

পালিয়ে আসা হিন্দু রোহিঙ্গা রিকা ধর। মুসলমান হয়ে গেলে স্বামী সন্তানদের বাঁচাতে পারতাম,মূর্খ,আবাল। 

 

শুভানন্দ পুরী, কুতুবপালং থেকে ফিরেঃ বার্মার সরকার আমাদের কিছুই করেনি। “আমরা মুসলমান হয়ে গেলে স্বামী সন্তানদের বাঁচাতে পারতাম”। আহাজারি করে কথা গুলো বললেন মায়ানমার থেকে বেঁচে পালিয়ে আসা হিন্দু রোহিঙ্গা রিকা ধর।

গত ২৭শে আগষ্ঠ ২০১৭ইং সন্ধ্যা ৭ ঘটিকায় মায়ানমারে ফকিরাবাজার এলাকায় কালো মুখোশ পড়া একদল সন্ত্রাসী হিন্দু পাড়া ঘিরে ফেলে ১০৮জন পুরুষ নারীকে হাতমুখ বেধে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। তৎমধ্যে প্রাণভয়ে ৫৩২জন নারী শিশু ও পুরুষ সীমানা পেড়িয়ে কুতুবপালং লোকনাথ মন্দির সংলঘ্ন রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নেয়। জগদীশ শসরি পোল্ট্রি ফার্মে গত ২২দিন ধরে অবস্থান করেছেন হিন্দু রোহিঙ্গারা।

বার্মার ফকিরাবাজারে অধিবাসী চিকনজিরি হিন্দুপাড়ার অনিকা ধর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, স্বামীকে হারিয়েছি, আপনজনদের দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে ওরা। প্রমিলা শীল প্রতিবেদককে জানান, চোখ এবং হাত বেধে কুপিয়ে মেরেছ, ২৪দিন হয়ে গেছে অন্তষ্টিক্রিয়া করতে পারিনি।

অনাথ শিশু কিশোর কুমার, তর্পণ শীল, পলাশ শীলকে মুসলমান রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে উদ্দার করা হয়েছে। হিন্দু অবিবাহিত যুবতীকে মুসলিম রোহিঙ্গা শিবির থেকে এনে হিন্দুদের সাথে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। স্বপন শর্মা, রনি, জগদীশ শর্মা, সুজন শর্মার তত্ত্বাবধান করেছেন ব্যক্তিগত ভাবে।

সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, জন্মাস্টমী উদ্‌যাপন পরিষদ, REO, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, হিন্দু মহাজোট, গোল পাহাড় কালীবাড়ী কমিটি, মহানগর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ব্যক্তিগত ত্রাণ বিতরণ করেন।

ভুক্তভোগী হিন্দু রোহিঙ্গাদের অভিযোগ,  হিন্দু হওয়াতে ওরা কুপিয়ে কুপিয়ে মেরেছে পরিবারের সকলকে। “নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরে যেতে চায়” সরকারের ঘোষণানুযায়ী ২০০০একর রোহিঙ্গাদের জন্য নির্ধারিত ক্যাম্পে মুসলিমদের সাথে ধর্মীয় সন্ত্রাসের কারনে ভিন্ন জায়গায় শুধু সকল হিন্দু মিলে থাকতে চান।

হিন্দু ধর্মালম্বী রোহিঙ্গারা কুতুবপালং এর বিভিন্ন সনাতন ধর্মালম্বীদের সাহায্য সহযোগিতায় বেচে আছেন। সরকার থেকে বিশেষ তেমন ত্রাণ পাননি বলে সবাই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সামগ্রিক বিবেচনায় মনে হল, একটি বিশেষ জায়গায় সকল ব্যক্তি সাম্প্রদায়িতকতা থেকে বেড়িয়ে আসতে পারেনা। মুসলিম রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণের বন্যা বয়ে গেলেও হিন্দুদের জন্য বড় কোন ত্রাণের খবর নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৯জন অবিবাহিত সুন্দরী মেয়েকে মুসলিম ধর্মে নেওয়ার জন্যে এক শ্রেণীর মোল্লারা উঠে পড়েছিল, পরবর্তীতে সৌভাগ্যবশত মেয়েগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে হিন্দু রোহিঙ্গারা বলেন, আমাদেরকে আশ্রয় দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদার মানসিকতা দেখিয়েছেন কিন্তু আমাদের থাকার জায়গা নেই, ঠিকমত খাওয়া জুটছে না, প্রাণে বেচে আছি সরকারের দয়ায়, আমাদেরকে ক্ষতি করে মুসলমান রোহিঙ্গারা।

নিজ গ্রামে চিকনজিরি হিন্দু পাড়ায় যেতে চান সকলে। উক্ত প্রতিবেদনে ফুটে উঠে যে, বর্তমান সরকার মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপক্রমে এই ৫৩২জন হিন্দু রোহিঙ্গাদেরকে নিজ বাড়িতে পুনঃস্থাপন করতে পারেন, ব্যর্থ হলে এদেশে নাগরিকত্ব দিতে পারেন। সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।

 

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *