প্রতিমাসহ মন্দির ভেঙে জমি দখলের চেষ্টা অভিযোগের তীর মানিকগঞ্জ আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদকের দিকে।

প্রতিমাসহ মন্দির ভেঙে জমি দখলের চেষ্টা অভিযোগের তীর মানিকগঞ্জ আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদকের দিকে।

 

মানিকগঞ্জের শিবালয় থানায় পিকআপ ভ্যানে জব্দ করা মন্দিরের জিনিসপত্র। ছবি :

কালী প্রতিমাসহ মন্দির গুঁড়িয়ে দিয়ে জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহিম খানের বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার ভোরে এ ঘটনাটি ঘটে শিবালয় সর্বজনীন মন্দিরে।

মন্দির কমিটির সভাপতি প্রমথ চন্দ্র শীল আটজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৬০-৭০ জনের বিরুদ্ধে শিবালয় থানায় অভিযোগ করেছেন। আসামিদের মধ্যে রহিম খান ও তার ভাগ্নে শিবালয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলালের নাম রয়েছে। পুলিশ আটক করেছে মন্দিরের জিনিসপত্র বোঝাই একটি ট্রাকসহ ছয়জনকে।

মুক্তিযোদ্ধা প্রমথ চন্দ্র শীল জানান, তাঁর বাড়ি মন্দিরসংলগ্ন। সোমবার ভোর ৪টার দিকে মন্দিরের কাছে শব্দ হচ্ছিল। এটা শুনে তিনি বাড়ি থেকে মন্দিরের কাছে আসেন। এ সময় তিনি দেখেন রহিম খানের উপস্থিতিতে ৫০-৬০ জন লোক মন্দিরের টিনের ঘর ভাঙচুর করে একটি ট্রাকে তুলছে। সবার হাতে লাঠি এবং ধারাল অস্ত্র। তিনি এগিয়ে গেলে রহিমের লোকজন হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যেতে বলে।

ভয়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে অন্য একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে তিনি মোবাইল ফোনে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমানকে বিষয়টি জানান। পুলিশ সুপারের নির্দেশে কিছুক্ষণ পর শিবালয় থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তখন রহিমসহ তার লোকজন পালিয়ে যায়। এ সময় তারা ফেলে রেখে যায় একটি ট্রাক বোঝাই মন্দিরের টিনের বেড়া, খুঁটিসহ অন্যান্য জিনিসপত্র।
প্রমথ আরো জানান, স্থানীয় আক্কাস আলী ১৬০ শতাংশ জমির মধ্যে মন্দিরের জন্য ৩০ শতাংশ দান করেছেন। প্রায় ২০ বছর আগে ওই জমির ওপর মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে নিয়মিত পূজা করা হয়। সম্প্রতি রহিম আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক পদ পাওয়ার পরপর ওই জমি নিজের দাবি করে দখলের চেষ্টা করছেন। দখলচেষ্টার বিরুদ্ধে মন্দির কমিটিসহ স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। কাজ না হওয়ায় রহিম এবার রাতের অন্ধকারে মন্দির ভেঙে জমি দখলের চেষ্টা করেন।

রহিম খানের দুটি মোবাইল ফোন নাম্বারে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাঁর ভাগ্নে শিবালয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিনও কল রিসিভ করেননি। এ কারণে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ঘটনাস্থলে কথা বলার সময় এ প্রতিবেদকের কাছে নিন্দা জানিয়েছেন শিবালয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউর রহমান খান জানু, শিবালয় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলী আহসান মিঠু, শিবালয় পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপাতি সুদীপ ঘোষ বাশু। রেজাউর রহমান খান বলেন, ‘রহিম খান দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন। ’

এ বিষয়ে শিবালয় থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রতিমা ভাঙচুর, জমি দখলের চেষ্টাসহ কয়েকটি অভিযোগে মামলা হয়েছে। আটকদের মধ্যে মমিন শেখকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম বলেন, ‘রহিম খানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। ’

মানিকগঞ্জ-১ (শিবালয়-দৌলতপুর-ঘিওর) আসনের সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয় বলেন, ‘ঘটনা সত্যি হলে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

 

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *