বাংলাদেশে হিন্দুদের বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদে,

বাংলাদেশে হিন্দুদের বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদে,

 

ঢাকা : ৭১ এর স্বাধীনতা লাভের পর আজও বাংলাদেশের হিন্দুদের বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদে। হিন্দুদের ওপরে অত্যাচার এবং প্রশাসনিক দুর্ব্যবহার যেভাবে মাত্রাছাড়া বেড়েছে তার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দুরা আতঙ্কিত অবস্থায় বাস করছে। বর্তমান সরকারও সুরক্ষা দিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ। অনেকাংশে দেখা যাচ্ছে, প্রশাসন হিন্দুদের অভিযোগ নিতে চাইছে না অথবা যারা হিন্দুদের ওপরে আক্রমণ করছে তারা অনায়াসেই প্রশাসনিক দুর্বলতার জন্য ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে।

হিন্দুদের ওপরে অত্যাচারের কোনো অংশই বাদ দেওয়া হয়নি।

 

হত্যা থেকে আরম্ভ করে, জোর করে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল, ধর্ষণ, ধর্মান্তকরণ কোনোকিছুর কম রাখছে না বাংলাদেশের মৌলবাদীরা। ২০১২ সালের পর থেকে ৫০০ টির মতন হিন্দু মন্দির ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে, এরই সাথে অজস্র পুজো বন্ধ করা হয়েছে। হিন্দু পরিবারের বাস যেখানে একেবারেই নেই সেখানেও হিন্দু শুন্য করার জন্য অগ্নিসংযোগ করার ঘটনা ঘটে চলেছে, যার সংখ্যা প্রায় এখনও পর্যন্ত ৩০০০। জোরপূর্বক অপহরণ করে তাদের ধর্মান্তকরণ করার চেষ্টা নাহলে হত্যা করার ঘটনা উত্তরোত্তর বেড়ে চলেছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি, মঠ-মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর, ধামরাইয়ে মাধব মন্দিরের জোরপূর্বক রথের জায়গা দখল, সিলেটে ইসকন মন্দিরে হামলা, চট্টগ্রামে চকবাজারে শিব মন্দির ভাঙচুরও দখল,রুপগঞ্জে গজারীয়া গ্রাম উচ্ছেদ এবং কৃষি জমি জোর পূর্বক দখল, প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সমর্থনে ব্রাক্ষ্মণবাড়ীয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর যে নৃসংশ তান্ডব চালিয়েছে তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায় এবং এই পীড়িত হিন্দুদের বিচারের বাণী শোনার কেউ নেই। সিলেটের এমনি পীড়িত জনৈক বাসিন্দা বলছেন, “বিচারের আশায় তারা এ দরজা ঠেকে ঘুরে চলেছে কিন্তু শোনার মতন কেউ নেই। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিচারের আশায় বসে প্রহর গুনে চলেছে আর প্রশাসন একদম নির্বিকারভাবে বসে আছে।”

 

ইতিহাস বলছে, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের তৎকালীন বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মোট জনসংখ্যার ২১ শতাংশ ছিল ৷ ২০০১ সালে সেটা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৯.২ শতাংশ হয়। ২০১১ সালের পরিসংখ্যান বলছে ৮.৫ শতাংশ৷ ২০১২ সালের পর থেকে আজ ২০১৭ পর্যন্ত যেভাবে হিন্দুদের ওপরে অত্যাচার বেড়েছে তাতে যে হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিসংখ্যান যে আরও কমেছে সেটা এক বাক্যে মেনে নিচ্ছেন বাংলাদেশের সমস্ত ধর্মের মানুষ। আজ পর্যন্ত যে সমস্ত পরিবারের ওপরে অত্যাচার হয়েছে, তারা আজও উপযুক্ত বিচারের আশায় নীরবে নিভৃতে কেঁদে চলেছে।

 

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *