বাংলার উন্নয়নের জন্য বেশি করে মদ খান, মদ বাংলার শিল্প আর মাতাল ভবিষ্যৎ।

বাংলার উন্নয়নের জন্য বেশি করে মদ খান, মদ বাংলার শিল্প আর মাতাল ভবিষ্যৎ।

নিউজ ডেস্ক ; বর্তমান পশ্চিম বাংলা রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এক সময় বাম সরকারের বিরুদ্ধে সুর জড়িয়ে ছিল যে তারা রাজ্যে দেদার লাইসেন্স দিচ্ছে মদের দোকান করবার জন্য। এমনকি বাম সরকার কে আক্রমণ করে তৃনমূল কংগ্রেসের তরফে সেই সময় একটা স্লোগানও তৈরি করা হয়েছিল সেটা হল “ঢুক ঢুক পিও, যুগ যুগ জিও”।

 

কিন্তু ক্ষমতার আসার পর শাসক দল তৃনমূল কংগ্রেস এটা ভালো ভাবেই বুঝতে পেড়েছে যে, শিল্পহীন এই বাংলা রাজ্যে মদ বিক্রিই হল বড়ো আয় করার একমাত্র উপায়। তাই ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে মদের লাইসেন্স দিতেই হবে। সেই জন্যই রাজ্য সরকারের তরফে আগেই ব্র্যান্ডের মর্যাদা দিয়ে দেওয়া হয়েছে বাংলা মদকে। নানারকম ভাবে আকর্ষণীয় নাম ব্যাবহার করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে বাংলা মদের এর থেকে ভালোরকম সাফল্য পেয়েছে রাজ্য সরকার। মমতার সরকার শুরুতেই বুঝে গিয়েছিল যে আর্থিকভাবে বেশি মুনাফা লাভ করার একমাত্র উপায় হল বাংলা মদ বিক্রি করা। কিন্তু এবার শাসক দলের নুতন উদ্যোগ হল দেশি এবং বিদেশী দুই রকম মদই বিক্রি করা, যদিও বর্তমানে দিদির কোনো মাথাব্যথা নেই জনগণ মরল কি বাঁচলো , রাজ্যের ছেলেরা চাকরি বা অন্য কোনো শিল্পের মাধ্যমে কাজ পেলো কি না ! এখন মমতা ব্যানার্জী একটাই জিনিস দেখতে পাচ্ছেন, সেটা হলো অর্থের যোগান তৈরি করা , তবে সেটা শিল্পের মাধ্যমে নয় মদ বিক্রির মাধ্যমে !

 

পশ্চিমবাংলা রাজ্য সরকার ধাপে ধাপে এগিয়েছে এবং সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তে এসে পৌঁছেছে যে, রাজ্য সরকারের তরফে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় জেলায় খোলা হবে মদের দোকান। সোজা কথায় রাজ্যের শাসক দলের নেতামন্ত্রী দের লাভের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এতে যে রাজ্যের মানুষের ক্ষতি হবে সেই দিকে নজর নেই শাসক দলের। এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের বিরোধী দল গুলি কি বলছে সেই দিকে কোনো মাথা ব্যাথা নেই রাজ্য সরকারের। এখন তাদের মূল লক্ষ্য টিকে থাকার লড়াই। ভারতবর্ষের এই রাজ্য দিনের পর দিন অবনতির দিকে ঝুকে যাচ্ছে। এবার থেকে এই রাজ্যের মানুষ বুক ফুলিয়ে বলতে পারবেন “আমরা বাংলায় থাকি, আমাদের তৃষ্ণার জল বাংলা মদ।”

 

প্রথমে বাংলা দিয়ে শুরু করলেও এখন রাজ্য সরকার বাংলা ছেড়ে বিদেশ দিকে পা বাড়াচ্ছে। প্রতি বছর গড়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রায় কুড়ি কোটি বোতল বিয়ার বিক্রি হয় এমনই এক সমিক্ষার রিপোর্ট উঠে এসেছে। আনুমানিক 35 কোটি বোতল বিক্রি হয় বিদেশী মদ। সেই সাথে দেশী মদ অর্থাৎ বাংলা মদ বিক্রি হয় 96 কোটি বোতল। কিন্তু এখন সেই গুলি বিক্রি অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে গিয়েছে।
আগেকার সরকারের নিয়ম ছিল যে পূজোর দুদিন মদের দোকান গুলি বন্ধ রাখা হবে। কিন্তু বর্তমান শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস আসার পর থেকে সে নিয়মে বদল এসেছে তারা নিজেদের মুনাফার জন্য পুজোর চার দিনই মদের দোকান গুলি খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ২০১৬ সালের দুর্গা পূজা থেকে। দেখা গিয়েছে যে পুজোর চার দিন মদের দোকান খুলে রেখে মাত্র দুটি জায়গা থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়েছে তাই রাজ্য সরকার এই ব্যাপারটি নিয়ে আরও দুবার ভাবেনি, পুজোর চারদিনই রাজ্যের সমস্ত মদের দোকান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। ফলে পশ্চিমবঙ্গে মদ খাওয়ার জন্য আর লুকোচুরি করার কোনো দরকার নেই রাজ্য সরকারের তরফ থেকেই সে সুযোগ অত্যন্ত সহজ করে দেয়া হয়েছে শুধুমাত্র তাদের মুনাফা লাভের জন্য।

 

2016 সালে যথেষ্ট পরিমাণ সাফল্য দেখে রাজ্য সরকার আগের বছর ডিসেম্বর মাসে একটা বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। তারা আবগাড়ী দপ্তর কে ভেঙে তৈরি করে দেয় আবগাড়ী নিগম। নবান্নের আশা তারা যদি সমস্ত ধরনের মদ অর্থাৎ দেশি এবং বিদেশি সমস্ত ধরনের মদ বিক্রি যদি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন তাহলে এই মদের থেকেই আরো অনেক বেশি পরিমাণে আর্থিক লাভ হবে এবং সরকারের খাতে জমা পরবে অনেক বেশি পরিমানে অর্থ।
এরপর 2017 সালে নিয়ে নেওয়া হয় সব থেকে বড় পদক্ষেপটি। পশ্চিমবঙ্গ অর্থ দপ্তর থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, আবগারি দফতরের অধীনে ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট বেভারেজ কর্পোরেশন নামে একটা কম্পানী রাজ্যে মদ বিক্রি করবে।
দেশে যেদিন জি.এস.টি চালু হল সেই দিন থেকেই রাজ্য সরকার পাইকারি মদের সমস্তটা নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়। এবং নুতন নিয়ম চালু করেন যে, রাজ্যের যেসমস্ত খুচরো দোকান গুলি আছে তাদের সবার কাছে সরকারি স্ট্যাম্প মারা মদ থাকতে হবে। তা নাহলে সেগুলি বেআইনি বলে ঘোষনা করা হবে। বাংলায় নতুন নিয়ম সরকারি দোকানে সরকারি মদ।

 

শুধু বাকি থেকে গেল মদের চাট। এবার রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সে আশা পূরণ করে দেয়া হবে। এবার রাজ্যের সমস্ত রেশন দোকান বানানো হবে “মিলিবার।” রাজ্যের সাধারণ গরিব খেটে খাওয়া মানুষ গুলি যেই রেশন দোকান থেকে দুই টাকা কিলো দরে চাল কিনে এবার সেই রেশন দোকান থেকেই পাওয়া যাবে টক, ঝাল, নুন ব্র্যান্ডেড মদের চাট।
সরকারি দোকানে মদের চাট এর কথা শুনে যদি এটিকে কেউ একটু নিচু দৃষ্টিতে দেখে থাকেন তাহলে তারা শুনে রাখুন মদই আমাদের শিল্প মদই আমাদের ভিত্তি মদই আমাদের উন্নয়ন মদই আমাদের ভবিষ্যৎ এমনটাই দাবি করা হচ্ছে রাজ্য সরকারের তরফে। এখন রাজ্যের আবগারি দফতরের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বেড়ে হয়ে গিয়েছে 10 হাজার কোটি টাকা যেটা আগে ছিল মাত্র চার হাজার কোটি, তাহলেই একবার ভাবুন এই মদের ব্যাবসা থেকে রাজ্য সরকারের কতটা পরিমাণ লাভ হচ্ছে। শুধুমাত্র নিজেদের লাভের জন্য তারা এটি করছে অথচ সাধারন মানুষের অত্যান্ত ক্ষতি হচ্ছে।

এবার আপনরাই ভাবুন আপনারা কি করবেন? এই সরকার কে কি আর টিকিয়ে রাখা উচিৎ নাকি ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া উচিৎ।

 

 

 

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *