বাবরি মসজিদের জমি হুকুম দখল করতে ভারত সরকারকে অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট

বাবরি মসজিদের জমি হুকুম দখল করতে ভারত সরকারকে অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

 

Hindus.news 

এ সংক্রান্ত একটি রুলিংয়ের পক্ষে রায় দেয়ায় বিরোধপূর্ণ মসজিদটি জমি হুকুম দখলের অনুমতি পেল ভারত সরকার। এই রায়ের মাধ্যমে উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ-রাম জন্মভূমি বিবাদ নিয়ে মামলার জট খুলে গেল।

সম্রাট বাবরের নাম সবাই জানেন। ফতেপুর সিক্রি আক্রমন সম্পর্কে এই বাবর তার আত্মজীবনী তে লিখেছেন, বিস্তারিত নিচের অংশে পড়লেই জানতে পারবেন।

১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বর সপ্তদশ শতকে তৈরি ঐতিহাসিক স্থাপনা বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে ফেলেছিল উন্মত্ত হিন্দু জনতা। এ ঘটনার পর ভারতে যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে তাতে নিহত হয় প্রায় ২০০০ মানুষ। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে তার সাথে বাবরি মসজিদ মামলার একটা যোগাযোগ রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে বলছে, ইসলাম ধর্মে উপাসনার জন্য মসজিদ অত্যাবশ্যকীয় কিনা তার ওপর আগের এক আদালত ১৯৯৪ সালে যে রায় দিয়েছিল সেটা তারা বিবেচনা করবে না। এখন মসজিদটির ওপর রাম মন্দির নির্মাণ করা যাবে কি না সেই সিদ্ধান্তের ওপর বৃহস্পতিবারের রায়ের একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়বে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত মূল মামলার শুনানি অক্টোবরের শেষ নাগাদ শুরু হবে বলে জানা যাচ্ছে।

সম্রাট বাবরের নাম সবাই জানেন। ফতেপুর সিক্রি আক্রমন সম্পর্কে এই বাবর তার আত্মজীবনী তে লিখেছেন,

 

” শত্রুকে পরাজিত করার পর আমরা তাদের পশ্চাদ্ধাবন করলাম এবং ব্যপকভাবে হত্যা করতে থাকলাম। আমাদের শিবির থেকে প্রায় দুই ক্রোশ দূরে ছিল তাদের শিবির। সেখানে পৌঁছে আমি মুহাম্মদী ও আরও কয়েকজন সেনাপতিকে হুকুম দিলাম তাদের হত্যা করতে, কেটে দু’খানা করতে, যাতে তারা আবার একত্রিত হবার সুযোগ না পায়।”

কত হিন্দুকে সেদিন হত্যা করা হয়েছিল তার হিসাব পাওয়া যায়না। বাবর হুকুম দিলেন, কাছাকাছি একটি পাহাড়ের কাছে সমস্ত নরমুন্ডকে জড়ো করে একটি স্তম্ভ তৈরী করতে।

“সেই টিলার উপর কাটা মুন্ডের একটি মিনার বানাতে হুকুম দিলাম। বিধর্মী (হিন্দু) ও ধর্মত্যাগীদের অসংখ্য মৃত দেহ পথে ঘাটে ছড়িয়ে ছিল। এমন কি দূর দেশ আলোয়ার, মেওয়াট ও বায়না যাবার পথেও বহু মৃত দেহ পড়ে থাকতে দেখা গেল।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার লিখেছেন, অন্যান্য মুসলমান হানাদারের মত বাবরও হিন্দু মন্দির ও বিগ্রহ ধ্বংস করার মত বহু সাক্ষর রখে গেছেন। বাবর সম্বল ও চান্দেরী মন্দির ধ্বংস করে মসজিদ নির্মান করেন।
বাবরের আদেশে তার সেনাপতি মীর বাকি অযোধ্যার রাম জন্মভূমি মন্দির ভেঙ্গে তাতে প্রায় এক লক্ষ হিন্দুর রক্ত চুন বালিতে মিশ্রিত করে ইট গেঁথে বাবরের নামে মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। এছাড়া গোয়ালিয়রের নিকট জৈন মন্দির ও বিগ্রহ ধ্বংস করেন। [R.C.Majumder. BVB, Vol. VII, p-307]

বাবরের পৈশাচিক নরহত্যা, বন্দী নারী ও শিশুদের চামড়ার চাবুক দিয়ে মারা এবং তাদের সাথে পশুর মত ব্যবহার করা ইত্যাদি আরো অনেক বর্বর কাজকর্ম গুরু নানক স্বচক্ষে প্রত্যাক্ষ করেছিলেন। ১৫২১ খৃষ্টাব্দে বাবর প্রথমে শিয়ালকোট ও পরে সৈয়দপুর দখল করে এক ব্যপক গনহত্যার আদেশ দিলেন। ফলে হাজার হাজার অসামরিক হিন্দু প্রজাকে হত্যা করা হল।

এসব দেখে গুরু নানক লিখেছেন–

“হে সৃষ্টিকর্তা ভগবান, জীবন্ত যম হিসেবে তুমি কি দানবরূপী এই বাবরকে পাঠিয়েছ ? অমানুষিক তার অত্যাচার, পৈশাচিক তার হত্যা লীলা, অত্যাচারিতের বুক ফাটা আর্তনাদ ও করুন ক্রন্দন তুমি কি শুনতে পাওনা? তাহলে তুমি কেমন দেবতা ?”
[R.C.Majumder. BVB, Vol. VII, p-307]

১৫২৭ সালের ১৭ই মার্চ বাবর ফতেপুর সিক্রীর অদূরে খানুয়ার প্রান্তরে রাণা সংগ্রাম সিংহের সাথে যুদ্ধে অবর্তীর্ণ হন। মুসলমানদের বিবরন অনুসারে, সেদিন দেড় থেকে দুই লক্ষ হিন্দু মুসলমানদের হাতে কাটা পড়েছিল এবং সেই কাটা মুণ্ড দিয়ে পাহাড় তৈরী করা হয়েছিল ।

 

যদি কোনো গবেষক উপরোক্ত তথ্যাবলীর মধ্যে একটিও ভূল বলে প্রমান করতে পারেন, তাহলে আমরা তার কাছে চিরদিনের জন্য কৃতজ্ঞ থাকব।”

 

 

 

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *