বিহারের মুজফফরপুর হোমে ৪০ জন নাবালিকাকে ধর্ষনের শিকারের প্রতিবাদে বিক্ষোপ। 

বিহারের মুজফফরপুর হোমে ৪০ জন নাবালিকাকে ধর্ষনের শিকারের প্রতিবাদে বিক্ষোপ। 

 

এবার পথে নেমে বিক্ষোভ প্রতিবাদের রাস্তা নিল রাষ্ট্রীয় জনতা দল বা আরজেডি৷

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলে পথে নেমেছে তারা৷

 

 Hindus.news

পাটনা: গত মাসেই প্রকাশ্যে এসেছে মুজফফরপুরের হোমের ভয়াবহ ধর্ষণ চিত্র৷ সরব হয়েছে সুপ্রিম কোর্টও৷ এবার পথে নেমে বিক্ষোভ প্রতিবাদের রাস্তা নিল রাষ্ট্রীয় জনতা দল বা আরজেডি৷

হোমে নাবালিকাদের ধর্ষণ কাণ্ডের প্রতিবাদে শুক্রবার দেশ জুড়ে বনধ ডেকেছে আরজেডি৷ বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলে পথে নেমেছে তারা৷

বৃহস্পতিবার আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানান দেশ জুড়ে বনধের ডাক দিয়েছে দল৷ সবস্তরের মানুষ এই বনধের সমর্থনে রাস্তায় নামবেন বলে আশা তাঁর৷ নয়াদিল্লিতে চৌঠা আগষ্ট এক প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রীকে হোমে ধর্ষণ কাণ্ডের নৈতিক দায় নিতে হবে বলে দাবি করে তেজস্বী বলেন, এই ঘটনা এড়িয়ে যেতে পারেন না মুখ্যমন্ত্রী৷ তাঁর পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে দলের পক্ষ থেকে৷

তেজস্বী আরও জানান, রাজ্যে ক্রমাগত অপরাধ বেড়ে চলেছে৷ আইন শৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে৷ অথচ মুখ্যমন্ত্রীর কোনও হুঁশ নেই৷ তাঁকে ধর্ষণ ও অন্যান্য অপরাধের দায় নিতে হবে৷ তিনি যে সুশাসন আনতে ব্যর্থ, সেজন্য পদত্যাগ করুন তিনি৷

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার এই ইস্যুতে বিহার জুড়ে বনধ ডাকে বাম দলদুলি৷ তবে সে বনধের প্রভাব সেভাবে রাজ্যে পড়েনি৷ যদিও বেশ কয়েকটি জায়গায় ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয় বিক্ষোভকারীরা৷ আটকে দেওয়া হয় রাস্তাও৷ তবে লালুর দলের ডাকা বনধ কতটা সফল হয়, সেদিকে নজর সবার৷
এরআগে, বিহার ধর্ষণ ইস্যুতে কড়া নির্দেশিকা জারি করে সুপ্রিম কোর্ট৷ আদালত বৃহস্পতিবার পরিস্কার জানিয়ে দেয়, নাবালিকা বা শিশু ধর্ষণের খবর করতে গিয়ে নির্যাতিতার অস্পষ্ট ছবিও ব্যবহার করা যাবে না৷

কেন্দ্র ও বিহার রাজ্য সরকারের কাছ থেকে এই ইস্যুতে জবাবও চেয়ে পাঠায় শীর্ষ আদালত৷ গত জুলাই মাসেই প্রকাশ্যে আসে বিহারের মুজফফরপুর হোমের ভয়াবহ চিত্র৷ ৪০ জন নাবালিকাকে যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়৷ জানা যায়, নাবালিকাদের নগ্ন অবস্থায় শুতে বাধ্য করতেন শিক্ষিকা। এক নাবালিকাকে খুন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। দেহ খুঁজতে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত শিক্ষিকা কিরণ নিজেও নগ্ন হয়ে ঘুমোতেন, পাশে থাকত ৩-৪ জন নাবালিকা। উদ্ধারের পর এক নাবালিকা জানিয়েছে, মৃত ছাত্রীদের দেহ মাটির তলায় পুঁতে দেওয়া হত। এরপরই নতুন করে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

মাসখানেক আগে ওই হোমের যৌন হেনস্থার চিত্র সামনে আসে। একটি এনজিও সেই তথ্য জানতে পেরে প্রকাশ্যে আনে পুরো বিষয়টি। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ১০ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাবালিকাদের সবাইকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অন্য জায়গায়।

 

 

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *