বুলডেজার চালিয়ে প্রকাশ্যে ভেঙ্গে ফেলে রাজা বিজয় সিংহ দূরধরিয়া শিব ও কালী মন্দির।হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠানের দারস্ত হলে তিনি অশোভন আচরণ!

 বুলডেজার চালিয়ে প্রকাশ্যে ভেঙ্গে ফেলে রাজা বিজয় সিংহ দূরধরিয়া শিব ও কালী মন্দির।হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠানের দারস্তহলে তিনি অশোভন আচরণ করেন

 

 

সুমন ভৌমিকঃ

ঢাকা : মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স স্থাপনের উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ গত ০৩–১২–২০১৭ ইং রবিবার দুপুরে পাটগুদাম মুক্তিযোদ্ধা আবাসন পল্লীতে বুলডেজার চালিয়ে প্রকাশ্যে ভেঙ্গে ফেলে রাজা বিজয় সিংহ দূরধরিয়া শিব ও কালী মন্দির।

হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠানের দারস্ত হলে তিনি অশোভন আচরণ করেন এরং মন্দির ভাঙ্গার পক্ষে অনঢ় অবস্থানে থাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দরা ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দরা আশা হত হয়ে গত সোমবার ০৪–১২–২০১৭ ইং সন্ধ্যায় দুর্গাবাড়ি মন্দিরে জেলা ও মহানগর হিন্দু–বৌদ্ধ–খৃস্টান ঐক্য পরিষদ, পূজা উদযাপন পরিষদ, জেলা যুব ঐক্য পরিষদ এক জরুরী সভায় এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। অবিলম্বে এর সুরাহা না হলে নেতৃবৃন্দরা সাংবাদিক সম্মেলন, মানববন্ধনসহ কঠোর আন্দোলন ও কর্মসূচিতে যাবেন।

গতকাল ০৬–১২–২০১৭ ইং বুধবার কর্মসূচি বাস্তবায়নে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দরা সাংবাদিক সম্মেলন করে।

সাংবাদিক সম্মেলন এর পর ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক খলিলুর রহমান হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দদের আলোচনার টেবিলে বসার আহবান জানালে নেতৃবৃন্দরা তাতে সাড়া দেন এবং আলোচনা ফলপ্রসুর হয়।

জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আলোচনা সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দরা বুলডেজার চালিয়ে মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ায় তাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে জানান। নেতৃবৃন্দরা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের আচরণে মর্মাহত। এ ছাড়াও তাদের বিভিন্ন ক্ষোভ ও অভিযোগ আলোচনা সভায় বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

দক্ষ ও যোগ্য জেলা প্রশাসক মনয়োগ দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দদের কথা শ্রবণ করেন। এবং উপস্থিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদককে সমাধানের পথ বের করার লক্ষে আলোচনা চালিয়ে যেতে বলেন।

ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক, তুখোড় রাজনীতিবিদ মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল অলোচনা সভায় বলেন, জেলা পরিষদ এ ঘটনার জন্য দায়ী। তিনি আরো বলেন, আমি ময়মনসিংহে অবস্থান করলে এমন ঘটনা ঘটতে দিতাম না। বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, আমি নিজেই বুলডেজারের সামনে দাড়িয়ে থাকতাম। এবং তিনি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের আওয়ামী রাজনীতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে অশোভন আচরণ ও বুলডেজার চালিয়ে মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ায় বারবার দুঃখ প্রকাশ করেন।

ময়মনসিংহ পৌরসভার সুযোগ্য মেয়র ইকরামুল হক টিটু অলোচনা সভায় বলেন, যা ঘটেছে তা হৃদয়ে ব্যাথাদায়ক। ধর্মীয় সম্প্রীতি এই শহর। এখানে জাতি ধর্ম বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে এক সাথে বসবাস। সকল সম্প্রদাযের উৎসবগুলো এক সাথে আমরা পালন করি। যা ঘটেছে খুবই দুঃখজনক। তিনি আরো বলেন, মন্দির ভেঙ্গেছে মন্দির হবে এর কোন বিকল্প নেই। অামি এ ঘটনার আশু সমাধানে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো।

ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পাঠান অলোচনা সভায় বলেন, জেলা পরিষদের নেতৃত্বে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে যা দুঃখজনক, হিন্দু সম্প্রদায়ের পিড়াদায়ক। মন্দির ছিল থাকবে। আমি নিজেই জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মন্দির করে দিব। তিনি আরো বলেন, মন্দির ভেঙ্গে ফেলা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দদের সাথে অশোভন আচরণে অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেন। এবং তিনি বহুবার দুঃখ প্রকাশ করেন। যা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় ঘটে।

আলোচনা সভায় সর্বশেষ আলোচক ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক খলিলুর রহমান হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দদের উদ্দেশ্যে বলেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ ঘটনার দায়–দায়িত্ব নিজের কাঁধেই নিয়েছেন। মন্দির পূনঃস্থাপন হবে। তিনি আরো বলেন, আমি মোবাইল কোট পাঠিয়ে ছিলাম অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার জন্য। কিন্তু আমাকে বলা হয়নি ঐখানে মন্দির আছে। আমার জানার সুযোগও হয়নি আর যার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে।

দক্ষ জেলা প্রশাসক নিজের যোগ্যতাকে উজার করে দিয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দদের মাঝে। তিনি আলোচনা সভায় অসাধারন ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। উনার অক্লান্ত প্রচেষ্ঠায় আশু সমাধানে ধাবিত হচ্ছে। এ যেন ম্যাজিক।

তবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের ভূমিকাটাও ছিল খুবই সুন্দর, যা হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। এ যেন ভ্রাতৃত্বের বন্ধন, মিলনমেলা।

আগামী ১১-১২-২০১৭ ইং সোমবার জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দসহ উক্ত ঘটনাস্থল মন্দির এলাকায় যাবেন। এবং মন্দির পূনঃস্থাপনের জন্য যা যা করা দরকার সবই করবেন বলে নেতৃবৃন্দদের আশস্ত করেন। এটাই হলো ময়মনসিংহের অসম্প্রদায়িক চেতনা।

 

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *