ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি বজায় রেখেছেন হিন্দুরাই, বলছেন এস ওয়াই কুরেশি,

ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি বজায় রেখেছেন হিন্দুরাই, বলছেন এস ওয়াই কুরেশি,

 

প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি,

দিল্লি, ১ অক্টোবর : “হিন্দু সংস্কৃতি ও সভ্যতার জন্যই ভারত ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে পেরেছে। সাম্প্রতিক কালে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা অসহিষ্ণুতার পরিচয় বহন করলেও, বেশিরভাগ হিন্দুর উদার মানসিকতার জন্যই ইন্দোনেশিয়ার পর ভারতে সবথেকে বেশি মুসলিম বাসবাস করেন।” শুনতে অবাক লাগলেও এমন কথাই বলছেন দেশের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি।
তাঁর কথায়, “বাবরি মসজিদ ভাঙার পর দেশব্যাপী একটা অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তারপর অবশ্য সব ঠিক হয়ে যায়। তবে শেষ দশ থেকে পাঁচ বছরে কিছু এমন ঘটনা ঘটেছে যে অসহিষ্ণুতা নিয়ে কথা উঠেছে। কিন্তু, যে যাই বলুক আমার মনে হয়, হিন্দুদের জন্যই দেশে এখনও ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবেশ বজায় আছে। তাঁরা নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ মানসিকতা ধরে রাখার জন্যই আজও দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রয়েছে। তাঁদের জন্যই পৃথিবীর অনেক মুসলিম প্রধান দেশের থেকে ভারতে ভালই আছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। মাঝে মধ্যে ধর্মীয় বিভেদের ঘটনা যে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে তা সাময়িক। মূলত অশিক্ষার জন্যই এই ঘটনা ঘটে

তাঁর মতে, “সবাই সঠিকভাবে শিক্ষিত না হওয়ার জন্য এই ঘটনা ঘটছে। তবে আবার ১০০ শতাংশ মানুষ শিক্ষিত হলেই যে এই সমস্যার সমাধান হবে তা নয়। আমি মনে করি এমন অনেক শিক্ষিত মানুষ আছেন, যারা MA বা PhD করা সত্ত্বেও তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন না। যা অশিক্ষার পরিচয় বলেই আমার মনে হয়। উলটোদিকে ১৯৫০ সাল থেকে অনেক অশিক্ষিত মানুষই তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো বজায় রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।”

এই বিষয়ের উপর কিছুদিন আগে হিন্দিভাষায় তাঁর একটি বইও প্রকাশ করেছেন উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডু। লোকতন্ত্র কি উৎসব কি অনোখি কাহানি নামে ওই বইটির ইংরেজি অনুবাদও খুব তাড়াতাড়ি প্রকাশ পাবে বলে জানা গেছে।

ওই বইটি ছাড়াও আরও দুটি বই লিখেছেন তিনি। তার মধ্যে একটি হল মুসলিমদের পরিবার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। তাঁর মতে, “১৪০০ বছর আগে মুসলিম ধর্ম যখন তৈরি হয়েছিল তখন জনসংখ্যা এত ছিল না। তাই জন্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়টি ভাবা হয়নি। কিন্তু, আজ পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে। তাছাড়া কোরানে বলা হয়েছিল যে সন্তানকে ভালোভাবে প্রতিপালনের সামর্থ্য থাকলে তবেই সন্তানের জন্ম দিতে। আমার বইতে এই বিষয়ে মিশরের জামিয়া-উল-আজ়হারের গ্রান্ড মুফতি এবং মক্কার মুফতির ব্যাখাও দেওয়া আছে। কিন্তু, আজ সময় বদলে গেছে তাই মুসলিমদেরও জন্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করতে হবে।”

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *