মহালয়ায় তর্পণ ওঁ নমঃ কুরুক্ষেত্রং গয়া-গঙ্গা-প্রভাস-পুষ্করাণিচ। পুণ্যান্যেতানি তীর্থানি তর্পণ-কালে ভবন্তিহ।

মহালয়ায় তর্পণ ওঁ নমঃ কুরুক্ষেত্রং গয়া-গঙ্গা-প্রভাস-পুষ্করাণিচ। পুণ্যান্যেতানি তীর্থানি তর্পণ-কালে ভবন্তিহ।

মানুষেরা তর্পণ করে তাদের পূর্বপুরুষদের তিল ও জলদানের উদ্দেশে। সমস্ত অশুভকে লয় করে মহামায়াসমস্ত অশুভকে লয় করেছিলেন বলে তাকে মহালয়া বলা হয়। এদিন পিতৃপক্ষের শেষ দিন। এদিনে সবাই স্মৃতি তর্পণ করে। তর্পণ হলো সেই কর্ম, যার দ্বারা মৃত পূর্বপুরুষের উদ্দেশে তিল জল দেয়া হয়। তর্পণ দুই প্রকার যথা :  স্থানাঙ্গ তর্পণ ও নিত্য তর্পণ। প্রতিদিন পুকুরে বা নদীতে স্থানের সময় যে তর্পণ করা হয় তা স্থানাঙ্গ তর্পণ। এর দ্বারা প্রতিদিনই পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে জল দেয়া হয়। কিন্তু এই দিনে তর্পণ করার মধ্যে বিশেষত্ব রয়েছে। এই তর্পণ আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথির পরদিন থেকে শুরু হয় এবং মহালয়ার দিন অমাবস্যা পর্যন্ত চলে। অমাবস্যার দিন পিতৃপক্ষের শেষ এবং মাতৃপক্ষের শুরু হয় বলে এই দিনে বেশির ভাগ মানুষ তর্পণ করে থাকেন। পূর্বে যারা মারা গেছে তারা এখন কোথায় আছেন? কেউ স্বর্গে, কেউ নরকে আর কেউ যদি খুব ভালো কাজ করে তাহলে বৈকুণ্ঠ কৈলাশে অথবা আবার পুনর্জন্ম নিয়েছেন। তারা যেখানেই থাক না কেন তাদের আত্মার এক সময় জল পাওয়ার ইচ্ছা করে। তারা তাদের বংশধরদের কাছে জল প্রার্থনা করে। সে জন্য সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তর্পণ করেন। এতে করে তাদের আত্মার শান্তি হয়। শুধু পূর্বজদের নয়, দেবতা ঋষি আদি মহানব্যক্তিদের উদ্দেশেও তর্পণ করলে মঙ্গল হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এ বিশ্বাস থেকেই  জলাশয়ে নেমে তিল হাতে নিয়ে মন্ত্র দ্বারা তর্পণ করে। গতকাল ঢাকেশ্বরী মন্দিরসংলগ্ন পুকুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মহালয়ার দিনে তর্পণে ব্যস্ত ছিল। তর্পণের মধ্য দিয়ে তারা মৃত পিতৃ-মাতৃ পুরুষের বিদেহী আত্মার উদ্দেশে তিল ও জলদান করেছে। তাদের বিশ্বাস, এই তর্পণের মধ্য দিয়ে তর্পণকারীদের পিতৃ ও মাতৃ বংশের মৃতরা তিল ও জল পেয়ে সন্তুষ্ট হবেন। পৃথিবীতে যারা জীবিত আছেন, তর্পণের জল পেয়ে খুশি মনে তাদের আশীর্বাদ করবেন পিতৃ-মাতৃ পুরুষেরা।
hindus.news

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *