মালিক-কর্মী হিন্দু, তাই শ্যামলী পরিবহণ বয়কটের ডাক বাংলাদেশে ।

মালিক-কর্মী হিন্দু, তাই শ্যামলী পরিবহণ বয়কটের ডাক বাংলাদেশে ।

 

ঢাকা : ভারতের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ ভারতের থেকে অনেক আলাদা। সেই দেশে বিশেষ একটি ধর্ম বাদে আর কোন ধর্মের মানুষদের যে স্বাধীন ভাবে কোন কিছু করার অধিকার, সেদেশের একটা বড় অংশের মানুষ দিতে চায়েনা সেটা বারংবার প্রমাণিত হয়েছে। এবারতো সোসাল মিডিয়াতেই খোলাখুলি আবেদন করা হল হিন্দু মালিকের পরিবহণ সংস্থাকে বয়কট করতে। সংস্থাটির নাম “শ্যামলী পরিবহণ”।

হ্যাঁ এটা সত্যি, এই সংস্থার মালিক হিন্দু হওয়ার অপরাধে মুসলিম সমাজ-কে এই সংস্থাকে বয়কট করার আবেদন জানিয়েছে একটি বাংলাদেশী পেজ। কারণ হিসাবে বলা হয়েছে এই সংস্থার মালিক এবং কর্মীরা হিন্দু, তাই বয়কট করা উচিৎ। ওরা এখানেই থেমে নেই, সি.পি ফুড নামের আরও একটি সংস্থাকেও বয়কট করার আবেদন জানানো হয়েছে।

নিচে তাদের করা পোষ্টটার একটি অংশ দেওয়া হল।

 

“মুসলিম ভাইবোনেরা! শ্যামলী পরিবহন থেকে সাবধান!!

ব্যক্তিগত প্রয়োজনে রাজশাহী গিয়েছিলাম। ফেরার পথে শ্যামলী পরিবহনের টিকেট নিলাম। ভালোই চলছিলো রাতের জার্নি, বাসের স্টাফরা পরস্পরের নাম ধরে সম্বোধন করায় বুঝতে পারছিলাম সবাই হিন্দু ধর্মের অনুসারী, এমনকি যে কাউন্টারে টিকেট করেছি তারাও হিন্দু।

 

সুন্দর ছিম ছাম একটি হোটেলে যাত্রা বিরতী দেয়া হলো। সবাই রাতের খাবার খাওয়ার পরে আবার গন্তব্য পথে ছুটবে গাড়ি। বিড়ানীর অর্ডার দিলাম, সাথে কোল্ড ড্রিংকস।খাওয়ার পরে বাসে উঠেই কেমন যেনো মাথা ঘুড়াচ্ছিলো, সাথে বমি বমি ভাব। জার্নিতে অনেকেরই এমন হয় সেটা জানি, কিন্তু প্রচুর জার্নির অভ্যাস থাকাতে আমার এই প্রব্লেমটা নেই। কেমন যেনো একটা সন্দেহ হলো। পরের স্টপেজে গাড়ি ঢুকলো একটি পেট্রোল পাম্পে, বাস থেকে নেমে পেট্রোল পাম্প ঘুড়ে ঘুড়ে দেখলাম, পাম্পের বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের নানা রকমের দেব দেবীর ছবি টানানো। বুঝতে অসুবিধা হলোনা, শ্যামলী পরিবহনের মালিক কর্মচারী সবাই হিন্দু, এমনকি তারা যে রেষ্ট্রুরেন্টে গাড়ি থামায় সেটাও হিন্দু মালিকের, যে পেট্রোল পাম্প থেকে তেল নেয় সেটাও হিন্দু। তার মানে হারাম পন্থায় জবাই করা পশুর মাংস দিয়ে রান্না করা বিড়ানী খাওয়ায় অসুস্থ বোধ করছিলাম! পরে দেখেছি শ্যামলী পরিবহনের সুপার ভাইজারের কাছে যে যাত্রী তালিকা থাকে তার শিরোনামে লেখা থাকে, “বাবা লোকনাথের নামে চলিলাম!”

সেদিন ফেসবুকে কার যেনো একটা লেখা দেখেছিলাম সম্ভবত ‘ফারিজা বিনতে বুলবুল’ আপার লেখা। হিন্দুদের যে ইউনিটি সেটার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি সি.পি ফুডের কথা উল্লেখ করেছেন, এই প্রতিষ্ঠানের মালিক থেকে শুরু করে সকল কর্মচারী হিন্দু! আচ্ছা, ‘সি.পি. ফুডে’র কর্মীদের হাতে জবাই করা মুরগী কি হালাল? তারা কি আল্লাহর নামে জবাই করে, নাকি ভগবানের নামে মাথা কাটা মুরগী দিয়েই সুস্বাদু সব আইটেম তৈরী করে?! চট্টগ্রামের গোল পাহাড় থেকে শুরু করে আন্দরকিল্লা এবং জামাল খানে বেশ কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ক্লিনিক রয়েছে। এর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে সকল ডাক্তার এমনকি চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী পর্যন্ত সবাই হিন্দু। কি চমৎকার ঐক্য তাদের মাঝে।”
মৌলবাদে আক্রান্ত বাংলাদেশে বিধর্মী বয়কটের ঘটনা খুব একটা বিরল না হলেও খুল্লমখুল্লা সে দেশের বিশ্বমানের সংস্থার মালিক হিন্দু তাই সে গুলোকে বয়কট করতে হবে এমন দাবি বা আবেদন যেন দিন দিন আরও বাড়ছে। এদের বৃদ্ধি এতটাই বেড়েছে যে এবার সোশাল মিডিয়াতে পেজ খোলা হচ্ছে এসবের জন্য। বাংলাদেশের এমন হাল দেখে সত্যই মনে প্রশ্ন জাগছে, এই বাংলাদেশ পাওয়ার জন্যই কি বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারা দিয়ে লক্ষ লক্ষ বাঙ্গালী ইসলামিক পাকিস্তানের থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার লড়াই করেছিল?

 

 

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *