মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য আসলো দারুন সুখবর

মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য আসলো দারুন সুখবর।

 

 

মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য আসলো দারুন সুখবর। বাংলাদেশের সাথে রাখাইন সমস্যা সমাধান করতে চায় মিয়ানমার। তবে এই ক্ষেত্রে তাদের শর্ত হচ্ছে,  আন্তর্জাতিক চাপ নয়, বরং দ্বিপক্ষীয়ভাবে বাংলাদেশের সাথে রাখাইন সমস্যা সমাধান করতে চায় মিয়ানমার। তবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে গণহত্যা চালানোর জন্য মিয়ানমারকে দোষারোপ করা থেকে বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে বিরত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মিয়ানমারে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেও টিন সম্প্রতি নেপিডোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠকে এ কথা জানান।

এ ব্যাপারে মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) চরমপন্থী বাঙ্গালী সন্ত্রাসবাদীদের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাখাইনে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সাথে মিয়ানমার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা হয়েছে। এতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক চাপের পরিবর্তে ধারাবাহিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। উভয়পক্ষ দ্বিপক্ষীয় আলোচনা আবারো শুরু করার ওপর জোর দিয়েছে।

এতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, তথ্য বিনিময়, সীমান্তে কমিউনিকেশন অফিস খোলা ও দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক নিয়ে আলোচনা হয়।

কেও টিন বলেন, বাংলাদেশের কিছু সংবাদপত্র রাখাইন রাজ্যে বাঙ্গালীদের (রোহিঙ্গা) বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ আনছে। গণমাধ্যমের এ ধরনের লাগামহীন লেখার রাশ টেনে ধরতে হবে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষে। কেননা এটি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে অন্তরায়।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয়ভাবে মিয়ানমারের সাথে রাখাইন সংকট সমাধানের সব ধরনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি পন্থা অবলম্বন করছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ‘বাঙ্গালী’ হিসেবে উল্লেখ করার মিয়ানমারের প্রবণতার বারবার প্রতিবাদ জানিয়েছে। মিয়ানমারের হেলিকপ্টার ও ড্রোনের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানামারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েকবার তলব করে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকাভাবে উস্কানিমূলক এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানায়। কিন্তু মিয়ানমারকে কোনোভাবেই বিরত করা যায়নি।

রোহিঙ্গাদের দুর্দশাকে পুঁজি করে মোটা অঙ্কের মুনাফা লুটছেন মুনাফাখোররা

কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের দুর্দশাকে পুঁজি করে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী ও লোকজন মোটা অঙ্কের মুনাফা লুটছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত নৌকায় পৌঁছাতে দুপাশেই অনেকে বড় অংকের অর্থ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন। থাকার খুপরি বানাতে বাঁশ আর পলিথিনের দাম বেড়েছে বহুগুণ।

যাতায়াতেও তাদের কাছ থেকে অনেক বেশি অর্থ নেয়া হচ্ছে। তবে বিজিবি ও স্থানীয় পুলিশ বলছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এধরনের লোকদের সাজা দেয়া হচ্ছে।

মংণ্ডূর শিগদাপাড়ার আজিজুর রহমান গত রাতে নৌকায় করে এসে পৌঁছেছেন শাহপরীর দ্বীপ। সেখান থেকে আবারো নৌকায় করে টেকনাফের নয়াপাড়া।

আজিজুর রহমান বলছেন, পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে নিয়ে নৌকায় করে আসতে ওপারেই তাকে বার্মিজ মুদ্রায় ১৮ লাখ দিতে হয়েছে। তিনি বলছেন, তার পাড়ার প্রায় সব বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তাই জীবনের ভয়ে বাঁচতে এই অর্থ তাকে খরচ করতে হয়েছে।

বাংলাদেশ অংশে পৌঁছানোর পর তার মতো বিপদগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের সহায়তা করছে বহু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। কিন্তু একই সাথে কক্সবাজার অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের দুর্দশাকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের ব্যবসা গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কীভাবে সেটি হচ্ছে তার খানিকটা ধারণা দিয়ে টেকনাফের স্থানীয় সাংবাদিক এম আমানুল্লাহ আমান বলছেন, “ওরা বৃষ্টি থেকে বাঁচতে অনেকেই ছোট খুপরি বানাচ্ছে। বাঁশ ব্যবসায়ীরা একটা বাঁশ যেখানে বিশ টাকা করে বিক্রি করতো সেটা ধরেন চল্লিশ পঞ্চাশ টাকায় বিক্রি করেছে।”

“পলিথিনের দাম তাও দ্বিগুণ হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভালোই নানা রকম ব্যবসা শুরু করেছেন। আমাদের এলাকায় চালের দামও বস্তায় পাঁচ থেকে সাতশো টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।”

মিয়ানমারের রাখাইনে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে আগস্টের ২৫ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

তিনি জানিয়েছেন, “সাগরপথে যারা এসেছেন তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাদের বাংলাদেশ থেকে নৌকায় গিয়ে তাদের নিয়ে আসা হয়েছে। নৌকার মাঝিরা তাদের কাছ থেকে তিন হাজার থেকে শুরু বিশ হাজার টাকা পর্যন্তও নিয়েছে। রোহিঙ্গারা এখন খুব দামি প্যাসেঞ্জার। তারা এত বিপদগ্রস্ত তারপরও তাদের কাছ থেকে এভাবে টাকা পয়সা নেয়া হচ্ছে।”

তিনি আরো বলছেন, “তারা মাছ ধরার নাম করে সাগরে যাচ্ছে এবং এ ধরনের কাজ করছে। তো এখন আমরা জেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেছি।”

কিন্তু বাংলাদেশে একবার পৌঁছানোর পরও তাদের বেশ অর্থ খরচ করতে হচ্ছে মাথার উপর একটু খুপরি তৈরি করতে বা ক্যাম্প পর্যন্ত যাতায়াতে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার একেএম ইকবাল হোসেন বলছেন এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলছেন, কেউ যেন অসহায় মানুষদের নিয়ে ব্যবসা না করতে পারে সেজন্য আমরা তৎপর আছি।

পুলিশ সুপার বলেন, যদি আমরা এরকম খোঁজ পাই তাহলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে নানা মেয়াদে সাজা দেয়া হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত আমরা আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে এপর্যন্ত আমরা ২৭০ জনকে সাজা দিয়েছি।

তিনি দাবি করছেন গত কয়েক সপ্তাহে যে ধরনের পরিস্থিতি ঐ অঞ্চলে তৈরি হয়েছিল তার অনেকটাই তারা নিয়ন্ত্রণে এনেছেন।

 

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *