মৃত্যুপথযাত্রী পিতাকে ফেলে মেতেছিলেন ‘কামোন্মত্ত ভালোবাসায়’! জানুন গান্ধীজির বিতর্কিত যৌন জীবন

মৃত্যুপথযাত্রী পিতাকে ফেলে মেতেছিলেন ‘কামোন্মত্ত ভালোবাসায়’! জানুন গান্ধীজির বিতর্কিত যৌন জীবন

হিন্দুস নিউজ Hindus.news

জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর অন্তরঙ্গ জীবন নিয়ে সম্প্রতি বই লিখেছেন ব্রিটিশ ঐতিহাসিক জেড অ্যাডামস। নাম ‘গান্ধীঃ নেকেড অ্যাম্বিশান’। নগ্ন মহিলা নিয়ে রাত কাটানো থেকে কৌমার্যের পরীক্ষা – গান্ধীর যৌন জীবনের বিভিন্ন দিকে আলোকপাত করেছেন লেখক। আলোচনা করেছেন খোলাখুলি।
গান্ধীজির যৌন জীবন যে স্বাভাবিক ছিল না সেটা সবাই জানে। তাঁর জীবিতকালেই এই নিয়ে চর্চা কম হয়নি। গান্ধী নিজেও যৌনতা সম্পর্কে খোলাখুলি কথা বলতেই ভালোবাসতেন। অনেক সময় প্ররোচনাও দিতেন। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর মতে গান্ধীর যৌনজীবন ‘অস্বাভাবিক ও অপ্রাকৃতিক’। তবে এই নিয়ে গান্ধী ছিলেন অবিচল। কারণ, তিনি একে নীতি-আদর্শ ও ধর্মাচরণের অংশ বলেই বিশ্বাস করতেন।

জেড অ্যাডামসের মতে, যখন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে ‘মহত্মা’ ও ‘জাতির পিতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়োজন পড়ল, তখন থেকেই এসব তথ্য বিচ্ছিন্ন ভাবে ধামাচাপা পরে যেতে থাকে। কেন এমন কথা? লেখক অবিভক্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী ট্রাভাঙ্করের উদ্ধৃতি পেশ করেছেন। তিনি গান্ধীজি সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘একজন বিপজ্জনক,কামাতুর লম্পট ব্যক্তি’।

এই ‘কাম পাগল’ অভিযোগ গান্ধীর বিরুদ্ধে নতুন নয়। গান্ধীর যৌন জীবন চাপা দেওয়ার চেষ্টা তাঁর পরিবারের তরফেও কম হয়নি।  ১৯৪৭ সালের ২৫ জানুয়ারি লেখা এক চিঠিতে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল গান্ধীজিকে এসব চর্চা পরিত্যাগ করতে বলে লিখেছিলেন, এসব চর্চা হল ‘পুরোপুরি কেলেঙ্কারি’ এবং এতে গান্ধীর অনুগামীরা ‘যারপরনাই ব্যথিত’ হবেন।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে ১৮৮৩ সালে কস্তুরবাকে বিয়ে করেন গান্ধী। তাদের বিয়ের ২ বছর পর গান্ধীর পিতা তখন মৃত্যু শয্যায়। কিন্তু মৃত্যুপথযাত্রী পিতাকে একা ফেলে রেখে নিজের জৈবিক চাহিদা মেটাতে স্ত্রী কস্তুরবাকে নিয়ে পাশের ঘরে যান গান্ধী। আর গান্ধীর পিতা সহবাসরত ছেলের জন্য অপেক্ষা করতে করতে সম্পূর্ণ একাকী অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গান্ধীর এজন্য পরিতাপের সীমা ছিল না। তাঁর বাবার এরকম মৃত্যুর জন্য তিনি নিজেকে এবং তাঁর ‘কামোন্মত্ত ভালোবাসা’কেই দায়ী করেছেন আজীবন।

গান্ধীজির যৌনাচার বর্জনের এই চর্চার শুরু কোথা থেকে, তা নিশ্চিতভাবে বলা মুশকিল। তবে ১৯০৬ সালে ৩৮ বছর বয়সে গান্ধী ব্রহ্মাচর্য গ্রহণ করেন। শুরু করেন ‘দারিদ্র’-এর চর্চা। কিন্তু অতিরিক্ত জৈবিক চাহিদা বারবার তাঁকে বিভ্রান্ত করেছে। তাই বোধহয় গান্ধী কিছু জটিল সমাধান বেছে নিয়েছিলেন। গান্ধীর দাবি, বিভিন্ন নারীর সঙ্গে চূড়ান্ত ঘনিষ্ঠ হয়েও তিনি যৌনসঙ্গম থেকে নিজেকে বিরত রাখতে সমর্থ হয়েছেন। অনুগামীদের বিবাহ করতেও বারণ করেছিলেন তিনি। অনুগামীদের প্রতি গান্ধীর স্পষ্ট নির্দেশ, ‘প্রত্যেক কৃতজ্ঞ ভারতীয়েরই উচিৎ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ না হওয়া। একান্ত কাউকে বিয়ে করতে হলেও স্ত্রীর সঙ্গে যেন কোনও ভাবেই যৌন সম্পর্ক স্থাপন না করে।’

এর কিছুদিন পরই ‘যৌনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ’ পরীক্ষার লক্ষ্যে বেশ কিছু আশ্রম খোলেন গান্ধীজি। সেখানে নারীপুরুষ একসঙ্গে স্নান এবং রাতে ঘুমনোর নিয়ম। শর্ত  ছিল, তাদের কেউই যৌনসঙ্গমে লিপ্ত হতে পারবে না। অন্যথায় শাস্তি। গান্ধীজীর উপদেশ ছিল, স্বামী-স্ত্রী আশ্রমের কোথাও একত্রে আলাদা সময় কাটাতে পারবে না। যদি জৈবিক চাহিদা মেটানোর প্রয়োজন অনুভব করে তাহলে একসঙ্গে ঠান্ডা জলে স্নান করে নিলেই হবে। স্বাভাবিকভাবেই গান্ধীজীর ওপরে এই নীতি খাটত না।

লেখক জেড অ্যাডামস লিখেছেন,  ‘বিশেষত গান্ধীর সেক্রেটারীর সুন্দরী বোন সুশীলা নায়ারের সঙ্গে যখন তিনি স্নান করতেন এবং বিছানায় যেতেন  তখন তো এসব নীতির কোনো বালাইই ছিল না।’ স্বাভাবিকভাবেই গান্ধীর এসব কাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠতেও শুরু করে। আত্মপক্ষ সমর্থন করে গান্ধী বলেছিলেন, ‘ওর স্নানের সময় আমি চোখের পাতা হাত দিয়ে চেপে থাকতাম…সে নগ্ন হয় স্নান করে নাকি কোনও অন্তর্বাস পরিধান করে, তাও জানি না… শব্দ শুনে ধারনা করতাম সাবান ব্যবহার করছে…’।

বইয়ে অ্যাডামাস জানিয়েছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং স্ত্রী কস্তুরবার মৃত্যুর পর থেকে গান্ধীর সান্নিধ্যে থাকা যুবতীর সংখ্যা চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকে। আশ্রমে তিনি প্রচুর নারীর সঙ্গে রাত কাটিয়েছেন। এমনকি আশ্রমের নিয়মের দোহাই দিয়ে অন্যের স্ত্রীকে নিজের সঙ্গে বিছানায় যেতে গান্ধী বাধ্য করতেন বলেও অভিযোগ করেছেন অ্যাডামস।

আত্মনিয়ন্ত্রণ পরীক্ষার দোহাই দিয়ে তিনি একাধিক নারীর সঙ্গেও বিছানায় গিয়েছেন। বেশ কিছু চিঠি থেকেও এধরনের তথ্য পাওয়া যায়। গান্ধীর কৌমার্যব্রত-চর্চার সঙ্গী ছিলেন মৃদুলা গান্ধী ওরফে মানু। এখন পর্যন্ত তাঁর ১০টি ডায়েরির সন্ধান মিলেছে। সেই ডায়রির কিছু অংশ প্রকাশিত হয়েছিল ‘ইন্ডিয়া টুডে’ সাময়িকীতে।

সেখানেই জানা গেছে, ১৮ বছরের মানুকে ডেকে ৭৭ বছরের গান্ধী বলেছিলেন, ‘আমাদের দুজনকে মুসলমানরা হত্যা করতে পারে। সে জন্য আমাদের শুদ্ধির অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে। তাই এখন থেকে আমাদের উভয়কে উলঙ্গ ঘুমাতে হবে।’ গান্ধীর পরিবার কখনওই চায়নি এসব তথ্য বাইরে প্রকাশিত হোক। এমনকি মানু গান্ধী যেন এসব তথ্য বাইরের কাউকে না জানান, সেজন্য গান্ধীর পরিবারের তরফে তাঁকে বিশেষভাবে ‘আদেশ’ করা হয়েছিল।

কে এই মানু? সম্পর্কে গান্ধীর ভাইঝি, জয়সুখলালের কন্যা। মানু তাঁর ডায়েরি গান্ধীকে নিয়মিত দেখাতেন। গান্ধী প্রয়োজনে ডায়েরির পাশে মন্তব্য লিখতেন। মানুর এসব ডায়েরি ২০১০ সালে জাতীয় সংগ্রহশালায় পাঠানো হয়েছে।

গান্ধীর সচিব পিয়ারেলাল তাঁর ‘মহাত্মা গান্ধী: দ্য লাস্ট ফেজ’ গ্রন্থে গান্ধী এবং মানুর সম্পর্কের কথা লিখেছেন। জানিয়েছেন, ‘একজন মা তাঁর মেয়ের জন্য যা কিছু করেন, তিনি (গান্ধী) তাঁর (মানু) জন্য তা-ই করতেন। তিনি তাঁর পড়াশোনার খবর রাখতেন; খাবার, পোশাক, বিশ্রাম ও ঘুমের তদারক করতেন। ভালোভাবে দেখভালের জন্য তিনি তাঁর সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমোতেন…ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে মানু তাঁর (গান্ধীর) দেহ মালিশ করে দিত, স্নান করিয়ে দিত এবং তাঁর জন্য রান্নাও করত।’

গান্ধীর এই চর্চা মানুর ওপর কতখানি প্রভাব ফেলেছিল এবং এর জন্য দেশের বড় বড় নেতারাও কতখানি উৎকণ্ঠিত ছিলেন, তার প্রমাণ মেলে মোরারজি দেশাইয়ের একটি চিঠিতে। বোম্বে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন মানুকে দেখে ফেরার পর ১৯৫৫ সালের ১৯ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুকে লেখা চিঠিতে দেশাই বলেন, ‘মানুর সমস্যা যত না শারীরিক, তার চেয়ে বেশি মানসিক। জীবন নিয়ে তাঁর এক নৈরাশ্য তৈরি হয়েছে এবং কোনো ওষুধই তাঁর ওপর ক্রিয়া করছে না।’

১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি দিল্লিতে নথুরাম গডসের গুলিতে মৃত্যু হয় গান্ধীর। এ সময় গান্ধীর একপাশে ছিলেন মানু। অন্য পাশে আভা গান্ধী। এই আভা গান্ধীর ভাইপো কানুর স্ত্রী। পরের দিন মানু তাঁর ডায়রিতে লিখেছেন, ‘চিতার আগুন যখন বাপুর শরীরটা গিলে ফেলছিল, আমি নিশ্চুপ বসে ছিলাম আগুন না নেভা পর্যন্ত। সর্দার প্যাটেল আমাকে সান্ত্বনা দিলেন; বাড়িতে নিয়ে গেলেন। আমি পুরোপুরি উন্মাদ হয়ে গিয়েছিলাম।’ মানু শেষ ডায়েরি লিখেছেন ১৯৪৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। এদিন তিনি দিল্লি ছেড়ে চলে যান। তিনি লিখেছেন: ‘ডায়েরির কথা কাউকে বলতে নিষেধ করেছেন কাকা (গান্ধীর ছোট ছেলে দেবদাস)। এবং গুরুত্বপূর্ণ চিঠিগুলো ফাঁস করতে বারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তুমি এখনও ছোট, কিন্তু তোমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ লেখালেখি থাকল। আর তুমি অনেক সহজ-সরল।’

গান্ধী পুরোপুরি যৌন সম্পর্কহীন এক জীবন চালানোর লক্ষ্য অর্জনে তাঁর নানা পরীক্ষার কথা নিজেই লিখেছেন তাঁর আত্মজীবনীতে৷ কিন্তু গান্ধী যৌন সম্পর্ক বিসর্জন দিয়েছিলেন বলে কোনো প্রমাণ তাঁর কাছে নেই বলে জানিয়েছেন লেখক অ্যাডামস৷ লেখকের মতে, গান্ধীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা এক ধরণের মজার খেলা ছিল৷ যেখানে দৈহিক মিলনের বিশেষ ভূমিকা নেই। গান্ধী কেবল দেখতে চেয়েছিলেন, যে যৌনতাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় কি না৷ কারণ, গান্ধীর মতে যৌনতা একটি শক্তিশালী বিষয়৷
লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং গবেষণা ফেলো অ্যাডামস এর আগে নেহেরু পরিবার-সহ আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির জীবনী লিখেছেন৷ ‘গান্ধী : নেকেড অ্যামবিশন’ বইটি ইতিমধ্যেই ব্রিটেনে প্রকাশিত হয়েছে। এবং প্রত্যাশা মতো ঝড় তুলেছে। এবার দেশে কী হয় সেটাই দেখার।

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *