রূপগঞ্জ বানিয়াদি ঋষিপাড়া জয়ন্ত হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা শুনে কেঁদেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তাও

রূপগঞ্জ বানিয়াদি ঋষিপাড়া জয়ন্ত হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা শুনে কেঁদেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তাও

জয়ন্ত প্রায়ই তার বাবাকে বলতো, ‘বাবা আমি বড় হয়ে অনেক বড় ইঞ্জিনিয়ার হবো।’

পৃথিবী কী তা বুঝার আগেই চার খুনি জয়ন্তকে পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় করে দিয়েছে।

 

 Hindus.news

মুহাম্মাদ জুবায়ের আহমেদ : রোমহর্ষক। নির্মম। নিষ্ঠুর। ভয়ংকর। নিষ্ঠুরতার সব উপমাই যেন হার মেনেছে এ হত্যাকাণ্ডের কাছে। আসামির মুখে বর্বর হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা শোনে চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাও। জিজ্ঞাসাবাদে আসামির কাছ থেকে শিশু জয়ন্ত হত্যার নির্মম কাহিনী শুনে কেঁদেছেন জয়ন্ত হত্যা মামলার তদন্তকারী রূপগঞ্জ থানার এসআই সাজাউল ইসলাম। জয়ন্তের বাবা চৈতন্য চন্দ্র দাস এ কথা বলে জানান, প্রাণপ্রিয় সন্তান হারিয়ে কান্না-ই এখন সম্বল জয়ন্ত’র মায়ের। দিন-রাত শুধুই কাঁদেন তিনি। সন্তানের শোকে অনেকটা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। শোকাহত এ মাকে নিয়মিত চিকিৎসক দেখাতে হচ্ছে। ডাক্তার জয়ন্তের মাকে ঘুমের ওষুধ দিয়েছেন। ঘুমের ওষুধ খেয়ে যতক্ষণ ঘুমান ততক্ষণই বন্ধ থাকে সন্তানহারা মায়ের আহাজারি। ঘুম থেকে উঠেই শিশুর মতো কান্না শুরু করেন। ছেলেকে তার বুকে ফিরিয়ে দিতে আবদার করেন। জয়ন্তের ছোট বোন প্রিয়ন্তি সারাক্ষণ ভাই ভাই বলে ডাকেন। মোবাইলে ভাইয়ের ছবি দেখে বলে, ‘ভাই বেঁচে আছে। ভাই আসবে। ভাইয়ের সাথে আমি স্কুলে যাব।’ তাদের সান্ত্বনা দিতে নিজের দুঃখ লুকিয়ে দিন পার করছেন জয়ন্তের বাবা চৈতন্য চন্দ্র দাস। পরিবারের লোকদের সামনে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলেও নীরবে কাঁদেন। ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চান নিরীহ এ পিতা।
গত ৬ জুন নির্মমভাবে খুন করা হয় শিশু জয়ন্ত চন্দ্র দাসকে। রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া বানিয়াদী এলাকার শিশুমেলা কিন্ডারগার্টেন স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র জয়ন্ত বানিয়াদী ঋষিপাড়া এলাকার চৈতন্য চন্দ্র দাসের ছেলে। ছোট চঞ্চল এ শিশুটির স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। জয়ন্ত প্রায়ই তার বাবাকে বলতো, ‘বাবা আমি বড় হয়ে অনেক বড় ইঞ্জিনিয়ার হবো।’ কলা বিক্রেতা পিতার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে উকিল বানানোর। লেখাপড়ায়ও ভালো ছিল জয়ন্ত। কিন্তু তার স্বপ্ন প্রস্ফূটিত হতে পারেনি। অংকুরেই ঝরে গেছে জয়ন্তের স্বপ্ন। পৃথিবী কী তা বুঝার আগেই চার খুনি জয়ন্তকে পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় করে দিয়েছে।
জয়ন্ত নিখোঁজ হওয়ার পর ওই রাতে খুনিরাও জয়ন্তকে খোঁজেছে। জয়ন্তের পিতা ও বাড়ির লোকদের সাথে থেকে ৩ খুনি সর্বদা জয়ন্তকে খোঁজার নাটত করেছে। পরদিনও তাদের তৎপরতা ছিল বেশ। যে জায়গা থেকে লাশ উদ্ধার করা হয় তার পাশেই ছিল তারা। আর এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান শাহিনই উদ্ধার করে লাশ। মঙ্গলখালী এলাকার সিরাজুলের ছেলে শাহিন যখন প্রথম জয়ন্তের চাচাতো ভাই রিপনকে বলে, ‘ওই বাড়িতে খোঁজে দেখি।’ তখন ভয় পেয়েছিল রিপনও। কারণ শাহিন ওই এলাকার কুখ্যাত অপরাধী। চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা। তার সাথে সব সময় অস্ত্র থাকতো। শাহিন মঙ্গলখালী ও বানিয়াদী এলাকার মাদক রাজ্যের ডিলার ছিল। অনেকটা নাটকীয় কায়দায় শাহিন নিখোঁজ জয়ন্তের লাশ খোঁজে বের করে। শাহিনের কথা শোনার পর রিপন তার বাড়ির লোকজন নিয়ে একত্রিত হয়ে ছুটে যায় শাহিনের দেখানো বাড়িতে। তারা ওই বাড়িতে গিয়ে দেখে শাহিন দরজার তালা ভাঙছে। ঘরের তালা ভেঙে শাহিনই প্রথম বলে, ‘ওই যে জয়ন্তের লাশ।’ তখনও কেউ ভাবেনি শাহিনের নেতৃত্বে জয়ন্তকে খুন করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করেই থেমে থাকেনি শাহিন। খুনিও শনাক্ত করে সে। জয়ন্তের লাশ উদ্ধারের পর খুনে অংশ নেয়া অপর দুই আসামি অনিক আর আলমগীরের দিকে আঙ্গুল তুলে শাহিন বলতে থাকে, ‘ওরাই খুন করেছে জয়ন্তকে।’ এলাকাবাসী আটক করে অনিক আর আলমগীরকে। শাহিন হয়তো ভেবেছিল নাটক সাজিয় সে হয়তো পার পেয়ে যাবে। এরপর থেকে লাপাত্তা হয়ে যায় শাহিন। আটককৃতদের জবানবন্দি অনুযায়ী পুলিশ খোঁজতে থাকে শাহিনকে। মোবাইল কল লিস্টের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার করা হয় মুড়াপাড়া নগর এলাকার তারা মিয়ার ছেলে সুমনকে। এরপর থানা পুলিশ শাহিনকে ধরতে কৌশল অবলম্বন করে। আটক করা হয় শাহিনের ভগ্নিপতিকে। তার বর্ণনা অনুযায়ী আড়াইহাজারের পাঁচগাও থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শাহিনকে। পরে তার দেয়া তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডের অপর আসামি আশিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জয়ন্ত হত্যাকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে শাহিন ও আশিক।

জয়ন্ত দাস এর বাবার ফেসবুক লিল্কটি থেকে গৃহিত ,

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=149077239301174&id=100025966965826