রোহিঙ্গাপ্রেমি বাংলাদেশিরা বৌদ্ধদের ওপর আক্রমণের মহড়া দিচ্ছে।

রোহিঙ্গাপ্রেমি বাংলাদেশিরা বৌদ্ধদের ওপর আক্রমণের মহড়া দিচ্ছে।

 

রামুর ঘটনায় ব্যবহার করা হয়েছিল রোহিঙ্গাদেরকে। সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সহিংস ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের মধ্যে উগ্র মতাদর্শী রোহিঙ্গার পরিমাণও কম নয়। তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। তাদের প্রতি ধর্মীয় অনুভূতি এবং মমতা দেখাতে গিয়ে ফেসবুকে বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর আঘাতের হুমকি দেয়া হচ্ছে। কয়েকদিন আগে এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে অপহরণ করে তাকে নির্যাতনের মাধ্যমে জোরপূর্বক বক্তব্য দেয়া হয়েছে, সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে ইন্টারনেটে।

এরই মধ্যে একদল উগ্র মতাদর্শী যুবক ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে। যেখানে শুধুমাত্র ধর্ম ও সহ-ধর্মী ভাইদের বাঁচানোর জন্য বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ করার লক্ষ্যে তারা সংঘবদ্ধ বলে বার্তা দিয়েছে। বার্তায় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে তিনি যেন সেনাবাহিনীকে সেখানে পাঠান। পাশাপাশি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণের উস্কানি দেয়া হয়েছে মুসলমানদের ওপর অত্যাচারের কারনে। এর পেছনে ইসলামের নবী মুহাম্মদের উদাহরণও দিয়েছেন। একই সাথে বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার সাথে এই বৌদ্ধ নিধনের প্রত্যয়ের তুলনা করা হয়েছে।

 

 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত সহিংসতাকে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক হামলা বলে উস্কে দিয়ে বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরীর চেষ্টা করছে একটি বিশেষ মহল। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে সারাদেশে সহস্রাধিক বৌদ্ধ উপাসনালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে ইতিমধ্যে।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, একটি মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিস্থিতি উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সারা দেশে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। তাদের রয়েছে সহস্রাধিক উপাসনালয়। বাংলাদেশ বুদ্ধিষ্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অশোক বড়ুয়া বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আমাদের উপর আক্রমণ করা, প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বৌদ্ধ ভিক্ষুদের উপর আক্রমণ করার আহবান আসছে।

 

আইজিপি একেএম শহীদুল হক বলেন, বৌদ্ধ সম্প্রদারের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সুপারদেরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। তিনি আরো বলেন, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষও রোহিঙ্গা ঘটনায় বিব্রত। তারাও কিন্তু বিবৃতি দিয়েছেন। তারা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা ও আঘাত করা অন্যায় ও অমানবিক।

রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের বৌদ্ধ নেতারা। তারা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ওপর যে ধরনের নিপীড়ন, নির্যাতন চলেছে তাতে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য তারা বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

 

যারা ইউটিউব ভিডিওটি দেখতে পারছেন না, তাদের জন্য:

 

রোহিঙ্গা নির্যাতনের দায় চাপিয়ে বাংলাদেশি ভিক্ষু অপহৃত (ভিডিও)

সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনার জের ধরে সহিংসতার একটা সম্ভাবনা ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। উগ্র ধর্মীয় মতাদর্শী মুসলমান সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশ ধর্মীয় সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি।

বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিলো বাংলাদেশের বৌদ্ধ নাগরিকদেরকে মেরে খেদিয়ে মিয়ানমারে পাঠিয়ে দিয়ে রোহিঙ্গাদেরকে এদেশে আশ্রয় দেয়ার কথা। এই আবেগি কথা বার্তা শেষ পর্যন্ত আবেগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। নিজদেশি নাগরিককে অকথ্য নির্যাতন করে ভিনদেশি নাগরিককে আশ্রয় দেয়ার এই হীন মানসিকতাকে কি আসলে মানবতা বলা যায়?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মহাসংঘনায়ক বিশুদ্ধানন্দ মহাথের Mahasanghanayaka Vishuddhananda Mahathera এর পেজ থেকে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুকে অপহরণ করে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে বলা হচ্ছে মিয়ানমারের বৌদ্ধদের ভূমিকার জন্য। অশ্রদ্ধা প্রদর্শণের চূড়ান্ত করে ‘তুই’ ‘তোকারি’ করা হচ্ছে সেই ভিক্ষুর সাথে। একটা ছেলে ক্যামেরার পেছন থেকে বলছে – ‘ওই বল মায়ানমারের কথা বল , অং সান সুকির কথা বল’

অসহায় ওই বৌদ্ধ ভিক্ষুর চোখে মুখে স্পষ্ট আতংকের ছাপ। কি অমানুষিক ভয়ের মধ্যে থেকে তিনি কথা বলে যাচ্ছিলেন কল্পনাও করা যায়না!মিয়ানমারে সংগঠিত ঘটনার দায়ে নিজ দেশের নিরপরাধ সংখ্যালঘুকে ভয় দেখিয়ে ভিডিওকারী এই অমানুষ গুলো কি মায়ানমারের গণহত্যা চালানো খুনিদের চাইতে কম ভয়ংকর?

ক্যামেরার নেপথ্যে থাকা ছেলেটির পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে পেজ থেকে। সেখানে বলা হয়েছে- ‘যে ছেলেটির ছবি দেখতে পাচ্ছেন, সে ভারত থেকে চিকিৎসা শেষ করে আসা ভিক্ষুকে কিডন্যাপ করে ভান্তেকে দিয়ে বার্মার বিরুদ্ধে ভয় ভীতি দেখিয়ে জবানবন্দী ফেসবুকে পোস্ট করেছে। তাছাড়া ভান্তেকে বিভিন্নভাবে অপমান করেছে। এ কোন দেশে বাস করছি আমরা। সকলে এই ছেলেকে আইনের আওতায় আনতে সাহায্য করুন। তার নাম তৌফিক আহমেদ সুজন।’

অপহরনকারীর ফেসবুক আইডির লিল্ক।

https://mobile.facebook.com/profile.php?id=100006774185636&_rdc=1&_rdr

 

ঘৃণা ছড়ানো এই তৌফিক আহমেদ সুজন এর প্রোফাইলে গেলে একটি লাইভ ভিডিওর লিংকও পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে সে বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নাগরিকদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দেয়ার যুক্তি নিয়ে কথা বলছে।

এমন এক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় উৎসাহদানকারী অপরাধীকে শীঘ্রই আইনের আওতার দাবি জানিয়েছে ভিডিও দেখা ফেসবুক ব্যবহারকারীর।

সর্বশেষ খবর:

যশোরের বেনাপোল সীমান্তে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুকে হেনস্তা করার দায়ে তিন তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। ভারত থেকে দেশে ফেরার পর গতকাল মঙ্গলবার ওই তরুণেরা তাঁকে ভয় দেখিয়ে তাঁর ভিডিও করেন। পরদিনই তিনি প্রাণভয়ে ভারতে পালিয়ে যান।

হেনস্তার শিকার ওই ভিক্ষুর নাম জ্ঞানমিত্র ভিক্ষু। এখন তিনি শিলিগুড়িতে অবস্থান করছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি বলেন, ‘আমি চিকিৎসার জন্য এ বছরের মার্চে ভারতে যাই। মঙ্গলবার বেনাপোল সীমান্ত থেকে দেশে আসি। পানি কিনতে একটি দোকানে গেলে আচমকা কয়েকজন তরুণ আমাকে ঘিরে ধরেন। তারপর একটা গাড়িতে আমাকে তোলা হয়। তাদের শিখিয়ে দেওয়া কয়েকটি বাক্য উচ্চারণ করতে বলেন। ওই সময় তাঁরা পুরো ঘটনা ধারণ করেন।’

জ্ঞানমিত্র বলেন, তাঁরা এ সময় তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করার ভয় দেখাচ্ছিলেন। তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে পরদিনই আবার ভারতে ফিরে যান। জ্ঞানমিত্র ভিক্ষুর বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে। বাড়িতে তাঁর পক্ষাঘাতগ্রস্ত মা ছাড়া আর কেউ নেই। তিনি তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ‘তুই’ সম্বোধন করে ওই ভিক্ষুকে রোহিঙ্গাদের ওপর হামলার জন্য দায়ী উগ্রবাদী বৌদ্ধ ও অং সান সু চির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে বলা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরই বেনাপোল থানার পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করে। রাতে যাঁদের আইডি থেকে এই ভিডিওটি ছড়ানো হয়েছে, তাঁদের আটক করে পুলিশ।

বেনাপোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসান বলেন, তাঁরা ওই ঘটনায় যে তিনজনের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন, তাঁদের ধরেছেন। তাঁরা হলেন রিয়াজুল ইসলাম মণ্ডল, মো. আমিন হোসেন, মো. তৌফিক আহমেদ। এই ঘটনায় আর কারও সম্পৃক্ততা পেলে তাঁকেও ধরা হবে বলে জানিয়েছেন ওসি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।

খবর ebizctg.com.

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *