শেরশাহও অত্যাচারে স্ত্রী সন্তানের মাথা কেটে দিল হিন্দু রাজা।

শেরশাহও অত্যাচারে স্ত্রী সন্তানের মাথা কেটে দিল হিন্দু রাজা।

 

ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলাম প্রসারের ইতিহাস (পর্ব-৮)

 

Hindus.new

ততকালীন অন্যান্য মুসলমান শাসকগনের মত শেরশাহও (১৫৪১) পাইকারী হারে হিন্দু হত্যা, হিন্দু সম্পত্তি লুট, হিন্দু নারী বলাতকার এবং হিন্দু মন্দির ধ্বংসের ব্যপারে সমান পটু ছিলেন। হিন্দুর সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করতে তার কোন দ্বিধা ছিল না।
১৫৪০ খৃষ্টাব্দে বাদশাহ হবার পর ১৫৪৩ খৃষ্টাব্দে শেরশাহ রায়সিনের হিন্দু রাজা পুরনমলের দূর্গ আক্রমন করেন। পুরনমলের সৈন্যরা প্রথমে প্রবল বিক্রমে যুদ্ধ করেন এবং পরে দূর্গের মধ্যে আশ্রয় নিলেন। প্রায় ৬ মাস দূর্গ অবরোধের পর শেরশাহ কামান দিয়ে দূর্গের ক্ষতি করতে থাকেন। পুরনমল তখন খবর পাঠালেন যে, তাকে ও তার লোকজনকে পালিয়ে যেতে দিলে তিনি দূর্গ ছেড়ে চলে যাবেন। শেরশাহ তাতে সম্মতি জানান। পুরনমলের লোকজন তখন দূর্গ থেকে বেরিয়ে আসেন এবং শেরশাহের নির্দেশ মত দূর্গের বাইরে তাবু খাটিয়ে অবস্থান করতে থাকেন। ইতিমধ্যে শেরশাহ সবাইকে হত্যা করার গোপন পরিকল্পনা করে এবং পরদিন সকালে শেরশাহের সৈন্যরা তাদের ঘিরে ফেলে। অবস্থা বুঝতে পেরে পুরনমল তার স্ত্রী রত্নাবলীর মাথা তরোয়াল দিয়ে কেটে ফেলেন এবং অন্য সবাইকেও হুকুম দিলেন নিজ নিজ পরিবারের মহিলাদের মাথা কেটে ফেলতে। মুসলমানরা ইতিমধ্যে আক্রমন শুরু করে দিয়েছে।
আব্বাস-খা ইংরেজীতে ঘটনাটির যে বর্ণনা দিয়েছেন বাংলায় তা এরূপ—

“হিন্দুরা তাদের নিজ নিজ পরিবারের ও অন্যান্যদের (অর্থাৎ নাবালক ও শিশুদের) হত্যা করতে ব্যস্ত, ইত্যবসরে আফগানরা চর্তুদিক থেকে তাদের ঘিরে ফেলল এবং তাদের হত্যা করতে শুরু করলো । শুয়োর খানা-খন্দে পড়ে গেলে যেমন হয় হিন্দুরাও সেই রকম অসহায় হয়ে পড়লো। পুরনমল ও তার লোকেরা বীরত্ব ও বিক্রম দেখাতে চেষ্টা করল বটে, তবে চোখের পলকে আফগানরা সবাইকে কচু কাটা করে ফেলল।
যে সব নারী ও শিশুদের হিন্দুরা হত্যা করে উঠতে পারেনি, তাদের সবাইকে বন্ধী করা হল। তাদের মধ্য থেকে পুরনমলের এক কন্যা ও তার বড় ভাইয়ের তিন ছেলেকে জীবিত রেখে বাকি সকলকে হত্যা করা হল। শের খা পুরনমলের মেয়েকে কয়েকজন বাজীগরের হাতে তুলে দিল । যাতে তারা তাকে হাটে বাজারে নাচাতে পারে । আর ছেলে তিনটিকে খোজা বানাবার হুকুম দেওয়া হল যাতে অত্যাচারী হিন্দুরা বংশ বিস্তার করতে না পারে।

 

“যদি কোনো গবেষক উপরোক্ত তথ্যাবলীর মধ্যে একটিও ভূল বলে প্রমান করতে পারেন, তাহলে আমরা তার কাছে চিরদিনের জন্য কৃতজ্ঞ থাকব।”

আমরা শুধু আগামী প্রজন্মের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরার প্রয়াস করছি মাত্র এই উদ্যোগে আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
পরের পোষ্টের জন্য চোখ রাখুন এই সাইটে এবং পেইজে লাইক দিয়ে রাখুন। শেয়ার করে সবাইকে জানার সুযোগ করে দিন।