সরকারী আমলাদের অর্পিত সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা বন্ধ করুন।

সরকারী আমলাদের অর্পিত সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা বন্ধ করুন।

 

হিন্দু নিউজ :

প্রকৃত মালিকদের সম্পত্তি ফেরত না দিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমবায় সমিতিকে অর্পিত সম্পত্তি বরাদ্দ দেয়ার বিধান সম্বলিত নতুন বিধিমালা তৈরির উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় প্রতারণা। তাই, এই উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ জাতীয় সমন্বয় সেলভুক্ত সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিরা। পত্রিকান্তরে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এ খবর প্রকাশিত হয়।

খবরে বলা হয়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের জনবিরোধী বিধিমালা প্রণয়ন উদ্যোগের প্রতিবাদ এবং বাস্তবায়ন দ্রুততর করার দাবি’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগও দাবি করেন তারা। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সমন্বয় সেলভুক্ত সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, এ এল আর ডি, অর্পিত সম্পত্তি আইন প্রতিরোধ আন্দোলন, নিজেরা করি, ব্লাস্ট, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনসহ ৯টি সংগঠন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। বক্তব্য রাখেন অর্পিত সম্পত্তি আইন প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতা অ্যাডভোকেট সুরত চৌধুরী, নিজেরা করি-র সমন্বয়কারী খুশি কবির, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, ব্লাস্টের আইন উপদেষ্টা রেজাউল করিম প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে সকল বক্তাই অর্পিত সম্পত্তি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমবায় সমিতিকে বরাদ্দ দেয়ার উদ্যোগ থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা অর্পিত সম্পত্তি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরাদ্দ দেয়ার উদ্যোগকে রাষ্ট্রীয় প্রতারণা বলে মন্তব্য করেছেন। আমরাও মনে করি, এই উদ্যোগ বস্তুত সরকারের ওয়াদার পরিপন্থী।

ভূমি মন্ত্রণালয় সম্প্রতি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অর্পিত সম্পত্তি স্থায়ী বরাদ্দ দেয়ার লক্ষ্যে একটি বিধিমালা করার উদ্যোগ নিয়েছে। মন্ত্রণালয় এ লক্ষ্যে যে খসড়া প্রণয়ন করেছে তার ৪ নম্বর ধারা আপত্তিজনক বলে আমরা মনে করি। ওই ধারায় বলা হয়েছে- সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় ১৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় ধরে চাকরিরত দশ বা তার অধিক সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে গঠিত সমবায় সমিতিকে বহুতল আবাসিক নির্মাণের জন্য অর্পিত সম্পত্তি বরাদ্দ দেয়া হবে। এটা যদি হয় তাহলে সেটা হবে অর্পিত সম্পত্তি দখলের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ। আমরা বুঝতে পারি না কে বা কারা এ ধরনের ধারা তৈরি করেছে। উক্ত বিধিমালায় এ ধারা যেসব আমলা যুক্ত করেছে তারা নিঃসন্দেহে সাম্প্রদায়িক শক্তি। এটা বোঝা যাচ্ছে যে, এক শ্রেণির আমলার মধ্যে এখনও পাকিস্তানি ভূত রয়ে গেছে। এই সব আমলা অর্পিত সম্পত্তিকে লুটের মাল হিসেবে নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়ার মতলব করেছে। সাম্প্রদায়িক এ স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য তারা রাষ্ট্রের কাঁধে ভর করেছে। এসব পাকিস্তানপন্থীরা নানাভাবে বর্তমান সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে চাইছে বলে মনে হচ্ছে।

 

সরকারের উচিত উল্লেখিত উদ্যোগ সম্পর্কে সতর্ক হওয়া। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো অর্পিত সম্পত্তি তার প্রকৃত দাবিদারকে ফেরত দেয়া। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইন দ্রুত বাস্তবায়ন করা। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়ে ভূমিদস্যুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া কোনো মতেই উচিত হবে না। আমাদের দেশ একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এভাবে যদি অর্পিত সম্পত্তি গ্রাস করা হয়, তাহলে রাষ্ট্র সাম্প্রদায়িক চেহারা ধারণ করবে। অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণে সরকার প্রধান আন্তরিক বলে আমরা মনে করি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমলাদের একটি চক্র চায় না অর্পিত সম্পত্তি যথাযথভাবে হস্তান্তর করা হোক। তারা নানা উছিলায় সংশ্লিষ্ট আইন বাস্তবায়নে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। এখন আইন করে অর্পিত সম্পত্তি চিরতরে দখল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কে বা কারা অর্পিত সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা করছে, তাদের খুঁজে বের করা দরকার সরকারের সুনাম রক্ষার স্বার্থে। খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যবস্থাটি এমন হওয়া দরকার যাতে এ চক্রটি বুঝতে পারে এটা সাম্প্রদায়িক পাকিস্তান রাষ্ট্র নয়। আমাদের প্রত্যাশা- অধিকতর দ্রুত সময়ের মধ্যে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়ন করা হবে। যতদিন এ আইন বাস্তবায়ন না হবে, প্রকৃত দাবিদাররা যতদিন নিজেদের সম্পত্তি বুঝে না পাবেন ততদিন স্বার্থান্বেষী চক্র অর্পিত সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

সুত্র :আজাদী সম্পাদক ডটকম,

 

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *