হে হিন্দু বাঙালী – তোমার প্রতিটিদিনই একটি নোয়াখালী,

হে হিন্দু বাঙালী – তোমার প্রতিটিদিনই একটি নোয়াখালী,

নিউজ ডেস্ক ; যা অবশ্যম্ভাবী, তা হবেই। যে জাতি আত্মপ্রতিষ্ঠা হেতু এক দুর্নিবার সাধনায় মগ্ন থাকেনা তার পতন অবশ্যম্ভাবী। ইতিহাসে এইরকম অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে – অতীতের জ্ঞান, গুণ, কর্মে শ্রেষ্ঠ জাতির মর্মান্তিক পতন ঘটেছে কিন্তু তাঁরা পুনর্জাগরিত হয়ে পুনরভ্যূত্থানের মুহুর্মুহু প্রচেষ্টায় রত থেকেছেন। অবশেষে, বিজয়মাল্য দ্বারা ভূষিত হয়েছেন। ১৮৯৯ সালে যখন লর্ড কার্জন ভাইসরয় হিসেবে ভারতীয় উপমহাদেশে পদার্পণ করেন তখন প্রত্যেক অর্থেই বাঙালী হিন্দু তার শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে অবস্থান করছে। একই সময়ে উদগ্র জাতীয়তাবাদী স্পৃহা, যবনের শৃঙ্খলামোচন করে দেশমাতৃকার স্বাধীনতা প্রাপ্তির প্রচেষ্টায় বাঙালী হিন্দু উন্মুখ। আচার্য সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাণী থেকে স্বামী বিবেকানন্দের উদাত্ত আহ্বান “লৌহদৃঢ় মাংসপেশী, ইস্পাত-কঠিন স্নায়ু, বজ্রভীষণ মনোবল” এ যুবসমাজ উদ্ভাসিত। জীবন মৃত্যু পায়ের ভৃত্য চিত্ত ভাবনাহীন – মন্ত্রের দ্বারা স্বাধীনতাপ্রাপ্তির আকাঙ্খায় সে উন্মত্ত। স্বদেশী আন্দোলন, স্বদেশী চিন্তাধারা, স্বদেশী শিল্পের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বাঙালী হিন্দু জনজাতি তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের কাছে এক মূর্তিমান আতঙ্কর প্রতিরূপ হিসেবে চিহ্নিত। তারপর – শুধুই পরাজয়। সাম্রাজ্যবাদ দ্বারা রচিত রাজনীতির গণিতে তার ভয়ঙ্করতম পরাজয় – যে গ্লানি হতে আজ পর্যন্ত পরিত্রাণ পাওয়া যায়নি। বাঙালী হিন্দু, পরবর্তী কালে, এক ক্রীড়ানকে পরিণত হয়েছে শুধুমাত্র।

কিন্তু সর্বনাশ একদিনে হয় না। কখনো তা হয় অত্যন্ত ধীরগতিতে বা দ্রুতলয়ে। অচেতন জাতি হঠাৎ প্রাতে সচেতন হয় তার আপন সর্বনাশের গাথা সম্পৰ্কে। হয়তো সেই হতভাগ্য জাতির অতিশয় স্বল্প কিছু লোক সজাগ থাকেন স্বীয় পরিশ্রমের মাধ্যমে আগামীর এই সর্বনাশ সম্পর্কে কিন্তু সমগ্র জাতিকে সচেতন করতে তাঁরা একান্তই অক্ষম।

পূর্ব পাকিস্তান বা বর্তমান বাংলাদেশে হিন্দুর সর্বনাশ কোন নব বা আকস্মিক ঘটনাপ্রবাহ নয়; প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা শরীরের ব্যাধির মতো এটি এক চিরন্তন সত্য।  ইসলামিক রাষ্ট্র বা মতবাদ দ্বারা আচ্ছাদিত সমাজে সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু নিষ্পেষিত হবে, ধর্ষিতা হবে, সর্বস্বান্ত হবে কিন্তু রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এহেন কার্যের প্রতিবিধান  নীরবে ও নিভৃতে অশ্রুবর্ষণ করবে। আন্তর্জাতিকতাবাদী, মহত্তম মানবতাবাদীরা নববধূর ন্যায় ঈষৎ আড়ষ্ট থাকবেন (অবশ্যই, ব্যতিক্রম রয়েছে) – এও এক চিরন্তন সত্য। বর্তমান প্রজন্ম শ্রী প্রভাষচন্দ্র লাহিড়ীর নামটি সম্পূর্ণরূপে বিস্মৃত হয়েছে। যৌবনে তিনি ছিলেন অনুশীলন সমিতির প্রখ্যাত বিপ্লবী ও দেশভাগ পরবর্তীকালে পাকিস্তানে নবরূপে গঠিত হওয়া কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা। শ্রী ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত দ্বারা পাকিস্তানি গণপরিষদে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপনের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এক সুদৃঢ় ও একনিষ্ঠ সমর্থক। অর্থাৎ তিনি কোনভাবেই হিন্দু জাতীয়তাবাদি চিন্তাধারার সাথে যুক্ত ছিলেন না অথচ ১৯৫০ সালের পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুর সর্বনাশের যে মর্মন্তুদ গাথা তিনি প্রকাশ করেছেন এক নির্মোহ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাঁর বিখ্যাত “India Partitioned and Minorities in Pakistan” নামা গ্রন্থে তা এখনো কোন হিন্দু জাতীয়তাবাদীর কলমে অনুস্পস্থিত রয়েছে।

প্রভাষবাবু তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের এক পর্যায়ে লিখছেন,

“Economic strangulation of the minorities is also proceeding according to a plan. During the British rule a section of the Hindus took devotedly to education line as their professions in life and most of the teachers in the schools, colleges and universities were Hindus but after establishment of Pakistan they have been deliberately squeezed out – some by arrests on flimsy ground and fantastic charges and others on this or that ground – yielding place to less qualified and less eminent Muslim teachers, as the authorities did not like to entrust education to the non-Muslims. D. P. C. Chakraverty of the Dacca University was arrested on a fantastic charge of espionage and anti-state activities. Coming out of jail, he left Pakistan for good. His arrest scared others of the profession as well and some of them also left for India. Dr. Zuberi – one of the foremost educationists of Pakistan – once told this writer of the book that the University of Dacca which had at one time been beset with a galaxy of foremost educationists of India and was a pride to her, was now reduced to a caricature of a university only because of the bigoted policy of the rulers. He deplored introduction of politics in the educational institutions and the policies emanating from the government for governing such institutions.” {India Partitioned and Minorities in Pakistan – page 14 – 15}.

বাঙালী হিন্দুর সর্বনাশ একমাত্রিক হয়নি; তা বিভিন্ন পর্যায়ে হয়েছে যুগ যুগ ধরে। যদি এই সর্বনাশের একটি কারণ হয় অবিরাম ইসলামিক মৌলবাদী আক্রমণ, অন্য দুটি হয়েছে অর্থনৈতিক প্রতিশোধের স্পৃহার ছদ্মবেশে – ১৯৫০ সালের পূর্ব পাকিস্তান জমিদারি উচ্ছেদ বিল ও ১৯৫৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে আরোপিত নেহেরু ও টিটি কৃষ্ণমাচারী দ্বারা প্রবর্তিত মাশুল সমীকরণ নীতি। সর্বনাশের যা বাকি ছিল সেই ধ্বংসযজ্ঞে আদর্শ, কর্মক্ষম পুরোহিতের বেশে আসীন হলেন বামপন্থীরা (১৯৬৭ থেকে বিশেষ করে)..তাঁদের পুঁজি বিতাড়নের সার্থক সংগ্রাম পশ্চিমবঙ্গ ও বাঙালী হিন্দু জাতিকে করেছে রিক্ত, বিবর্ণ ও ধ্বংসপ্রায়। এই আলোকে ‘৪৬ র অক্টবরের নোয়াখালী ধ্বংসলীলার এক নির্মোহ বিশ্লেষণের বড়ই প্রয়োজন আজ। নোয়াখালী ‘৪৬ একটি আঘাত নয় মাত্র, তা এক গণহত্যাও শুধুমাত্র নয়; এক স্বনির্ভর জাতি কিপ্রকারে ধ্বংস হয় ও সেই আঁচড় কিভাবে তার বক্ষকে রক্তাক্ত করে চিরকাল তা অনুভব করা আজ অত্যন্ত প্রয়োজন।

অক্টবর ১০, নোয়াখালী – ১৯৪৬ সাল।  সেদিন ছিল কোজাগরী লক্ষীপূজা, সমগ্র বাংলার হিন্দুরা ছিলেন মাতা লক্ষীর আরাধনায় রত, চতুর্দিক ছিল চন্দ্রালোকে উদ্ভাসিত –  অবিভক্ত বঙ্গ র দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত নোয়াখালী জেলার অতীব সংখ্যালঘু হিন্দু অধিবাসীরাও ছিলেন পুজার্চনায় ব্যস্ত। অকস্মাৎ রাত্রি র নিস্তব্ধতা খান খান করে ধেয়ে এলো কাশেম র ফৌজ, মুসলিম লীগ র নোয়াখালী অঞ্চলের নেতা কাশেম আলী র আদেশে।  সঙ্গত দিল গোলাম সারওয়ার র নিজস্ব বাহিনী। উদ্দেশ্য – হিন্দু বিনাশ। কয়েকমাস ধরে কলকাতায় যে হত্যাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, ১৬ ই আগস্ট, ১৯৪৬ – যা শুরু হয়েছিল মুসলমান র নৃশংসতম আক্রমণে কিন্তু শেষ হয়েছিল হিন্দুদের ভয়াল, ভয়ঙ্কর প্রত্যুত্তরে – তার প্রতিশোধের বন্য আকাঙ্খায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ইসলামিক নেতৃত্ব। মুহূর্তের মধ্যে নোয়াখালী জেলার রামগঞ্জ, বেগমগঞ্জ, রায়পুর, লক্ষীপুর, ছাগলনাইয়া, স্বন্দীপ অঞ্চলগুলি হল চরমতমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। পার্শ্ববর্তী টিপেরা জেলার হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর , লক্ষম ও চৌদ্দগ্রাম অঞ্চলগুলো হয়ে উঠলো উপদ্রুত। এক perfect planning র সাহায্যে Hindu racial extermination র পরিকল্পনা execute করা হল। এক সার্বিক হিন্দু গণহত্যা র দরুণ কতজন যে প্রাণ হারালেন, কত হিন্দু নারী হলেন ধর্ষিতা, কতজন কে জোর করে গরুর মাংস খাওয়ানো হল, কতজন পুরুষকে জোর করে সুন্নত করিয়ে মেরে ফেলা হল, কতজন হিন্দু নারীকে গণধর্ষণ করে পা দিয়ে তাঁদের মাথার সিঁদুর ডলে দেওয়া হল, কতজন চিরতরে হারিয়ে গেলেন, কতজন হিন্দু নারী এক লহমায় গৃহবধূ থেকে বারবণিতায় রূপান্তরিত হলেন তার হিসেবে গত প্রায় ৮০ বছরেও পাওয়া যায় নি। একটি hypothetical figure দেওয়া হয় মাত্র।

তৎকালীন দুটি বিখ্যাত সংবাদপত্রের  বিবরণ –

October 23, 1946 edition of Amrita Bazar Patrika stated clearly:

“For the 13th day today, about 120 villages in Ramganj, Lakshmipur, Raipur, Begumganj and Senbag thanas (police stations) in Noakhali district with a Hindu population of 90,000 and nearby 70,000 villagers in Chandpur and Faridganj thanas in Tippera (Comilla) district remained besieged by hooligans. Death stares the people of these areas in their face and immediate rushing of supply to these areas with the help of military, who alone could do it, would save the lives of these people, most of whom have been without food for the last few days.”

On 16/10/1946, The Statesman reported:

“In an area of about 200 sq miles the inhabitants surrounded by riotous mobs, are being massacred, their houses being burnt, their womenfolk being forcibly carried away and thousands being subjected to forcible conversion. Thousands of hooligans attacked the villages, compelled them (Hindus) to slaughter their cattle and eat. All places of worship in affected villages have been desecrated. The District Magistrate and the Police Superintendent of Noakhali took no step to prevent it.”

Noakhali carnage took place due to several factors, one of them was the need of Muslim vengeance to defeat in Great Calcutta Killing by Hindus. On October 10, 1946 the pogrom started with the rabble-rousing speech of Gulam Sarowar, an ex-M.L.A of Muslim League at Begumganj Bazar. A dreadful anti-Hindu speech by quoting verses of Quran exhorting Muslims to kill the Kafirs and idolators and perform religious duty was given. This was followed by violent assaults of Muslim mobs on Hindu properties, killings of hundreds of Hindus, rapes of Hindu women – a complete savagery.”

Ms. Muriel Lester, member of relief committee sent to Noakhali, penned this plight of Hindu women during the genocide: “Worst of all was the plight of women. Several of them had to watch their husbands being murdered and then be forcibly converted and married to some of those responsible for their death. Those women had a dead look. It was not despair, nothing so active as that. It was blackness… the eating of beef and declaration of allegiance to Islam has been forced upon many thousands of as the price of their lives.” – written on November 6, 1946 [Sri VV Nagarkar – Genesis – page 446]

ইতিহাস সাক্ষী – যখন জাতির সম্পূর্ণ বিনাশ প্রত্যক্ষ হয় মনোদিগন্তে তখন প্রায় নিভন্ত প্রদীপের অন্তিম শিখার মতো দপ করে জ্বলে ওঠেন কোন আশ্চর্য ব্যতিক্রমী মানব। নোয়াখালীর ক্ষেত্রেও এর কোন ব্যতিক্রম হয়নি।

অক্টবর ১১ – গোলাম সারওয়ার র মিয়াঁ র ফৌজ আক্রমণ করে শ্রী রাজেন্দ্রলাল রায়চৌধুরী, নোয়াখালী বার এসোসিয়েশন র সভাপতি ও হিন্দু মহাসভার জেলা সভাপতি, র গৃহ। সেই সময় তাঁর গৃহে অবস্থান করছিলেন স্বামী ত্র্যম্বকানন্দ, ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের এক সন্ন্যাসী।  সমগ্র দিন রাজেনবাবু রাইফেলের সাহায্যে সেই আগ্রাসী বাহিনীর মোকাবিলা করেন। রাত্রে তিনি স্বামীজী ও পরিবারের বেশ কিছু সদস্যকে নিরাপদ জায়গায় পাঠিয়ে দেন। পরের দিন, ১২ ই অক্টবর, আরো বিশাল বাহিনী রায়চৌধুরী গৃহ আক্রমণ করে ও পরিবারের ২২ জন সদস্যদের হত্যা করে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম শ্রী রাজেন্দ্রলাল রায়চৌধুরী, শ্রী চিন্তাচরণ রায়চৌধুরী (তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা) ও শ্রী সতীশচন্দ্র রায়চৌধুরী (তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা) …..রাজেনবাবুর মাথা কেটে একটি থালায় করে গোলাম সারওয়ার কে উপহার দেওয়া হয়। রায়চৌধুরী পরিবারের  নারীদের ভাগ বাঁটোয়ারা করে নেয় ইসলামিক বাহিনী।

শ্রী রাজেন্দ্রলাল রায়চৌধুরী মহাশয়ের কনিষ্ঠতম ভ্রাতা প্রফেসর এম এল রায় তাঁর তৎকালীন কলকাতায় অবস্থানের দরুন এই মারণযজ্ঞ থেকে রক্ষা পান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী ““Muslims wanted to convert whole Noakhali into Islam so they targeted first the Hindu leaders who could offer some resistance. The cause of death of my entire family is only due to it” [published in Amrita Bazar Patrika – 23/10/46]

অক্টবর ১২ – শায়েস্তানগর, রায়পুর পুলিশ স্টেশন অন্তর্গত, এ শ্রী চিত্তরঞ্জন দত্তরায়চৌধুরী র গৃহ আক্রান্ত হয়। দত্তরায়চৌধুরী মশাই কলকাতায় থাকতেন, বৃদ্ধা মাতা তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন লক্ষীপূজা হেতু। পরিবার র সমস্ত সদস্যদের উনি বাড়ির ছাদে নিয়ে যান নিরাপত্তা র জন্য। একটি মাত্র রাইফেল র সাহায্যে উনি সমস্ত দিন অসীম সাহসে মুসলিম বাহিনী র মোকাবিলা করেন। শেষ পর্যন্ত, উপায় না দেখে, বৃদ্ধা মাতা, বাড়ির শিশুদের হত্যা করে তিনি নিজে আত্মহত্যা করেন।

আনুমানিক ৫, ০০০ হিন্দু খুন হন নোয়াখালি গণহত্যা র দরুণ; ৫০, ০০০-৭৫, ০০০ হিন্দু আশ্রয় নেন পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা, চাঁদপুর, আগরতলা প্রমুখ স্থানে অবস্থিত relief camp গুলিতে।

কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি ২৪ শে অক্টবরের সভায় তার গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসারে ঘোষণা করে, “Reports published in the press and statements of public works depict a scene of bestiality and medieval barbarity that must fill every decent human being with shame, disgust and anger. Deeds of violation and abduction of women and forcible religious conversion and of loot, arson and murder have been committed on a large scale in a pre-determined and organized manner by persons often found to be in possession of rifles and other fire-arms.”

নোয়াখালীর উপদ্রুত অঞ্চল ও হিন্দুদের ভয়ঙ্কর অবস্থা স্বচক্ষে দেখে এসে কলকাতায় আহুত প্রেসে কনফারেন্সে (অক্টবর ২৬) সুবিখ্যাত কংগ্রেস নেতা আচার্য কৃপালনী বলেন, ” The attack on the Hindu population in the districts of Noakhali and Tipperah was previously arranged and prepared for and was the result of League propaganda – it was absolutely communal and one-sided; the authorities had warnings of what was coming beforehand; the Muslim officials connived at the preparations going on, and a few encouraged; the Police did not function during the riots, there being no orders except in self-defence; there were very few miscreants, if at all, from outside; and there have been many cases of forcible marriages and religious conversions en masse.”

তিনি আরও বলেন ” “I am clearly of opinion that whatever the Government, Provincial or Central, may or may not do, every Bengalee, male or female, has to defend himself or herself by whatever means he or she can think.”

যদিও মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় নেতা জনাব আবদার রব নিস্তার নোয়াখালীর ধ্বংসলীলাকে অতিরঞ্জিত বলে বিবৃতি দেন, ঘটনাপ্রবাহ হেতু দিকে দিকে সশস্ত্র হিন্দু প্রতিক্রিয়া  বাংলার মুসলিম লীগ নেতৃত্বকে বাস্তবতা স্বীকার করতে এক প্রকার বাধ্য করে। জনাব শাসসুদ্দিন আহমেদ, বাংলার মুসলিম লীগ মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য প্রেসে বিবৃতি দিয়ে বলেন, “ In Noakhali there was no mutual slaughter. It was the majority community who attacked the minority community who in some cases only resisted.”

হিন্দু মহাসভা তার রিপোর্টে ঘোষণা করে, “For the Hindus of India as a whole the tragedy of Noakhali is at once a warning and an inspiration. It is a warning because everything valued by the Hindus has been sacrificed at the altar of communal frenzy which now threatens to engulf the whole of India. It is an inspiration because it calls upon the Hindus to defend the best elements in their culture and the civilization and to sacrifice themselves, if necessary, to uphold the traditions beckoning them from the past. Hinduism and Hindu society have passed through similar disasters and emerged out of prolonged periods of agony more chastened and purified.  Out of the dark night of political humiliation and religious persecution was born the great Maratha people. A century of suffering led to the re-birth of the great Sikh people. Fortunately for the Hindus, Shivaji and Guru Govind Singh are not mythical figures buried in the dusty pages of learned historical treatises; they are living forces inspiring our daily life.  Their footsteps were followed in his humble and limited sphere by Rajendra Lal Roy Chowdhury, who died a martyr’s death in his village home fighting almost single-handed against thousands of armed hooligans. His fight in defence of faith and family honor was, in Acharya Kripalani’s significant words, ‘the nearest approach to non-violence.’”.

শ্রী মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী /মহাত্মা গান্ধী তাঁর বিখ্যাত নোয়াখালী যাত্রা করেন অবস্থা কে আয়ত্তে আনার জন্য। কিন্তু ব্যর্থ হন প্রত্যেক প্রকারে। শ্রীমতি লীলা রায়, প্রখ্যাতা স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সমাজসেবিকা, গান্ধীজির দাঙ্গা-বিধ্বস্ত নোয়াখালীতে পদার্পণ র পূর্বেই, একক প্রচেষ্টায় relief camp খোলেন ও ৪০০ র অধিক অপহৃত হিন্দু নারীকে উদ্ধার করেন। প্রসঙ্গত, গান্ধীজির যাত্রার সঙ্গী সাংবাদিকরা স্বচক্ষে দেখেন আক্রান্ত ও ধর্মান্তরিত হিন্দুরা কিভাবে মনুষ্যেতর অবস্থায় বসবাস করছেন। যাঁরা তখনো সজ্ঞানে ছিলেন তাঁরা জানতে চান তাঁদের পরিণতি কি হবে। শ্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তাঁদের উদ্দেশ্যে একটি পত্র প্রদান করেন, স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ছিলেন – পরমপূজ্যপাদ শ্রী শ্রী শঙ্করাচার্য (পুরী), রামকৃষ্ণ মিশনের তৎকালীন পূজ্যপাদ প্রেসিডেন্ট মহারাজ, ভারত সেবাশ্রম সংঘের তৎকালীন পূজ্যপাদ প্রেসিডেন্ট মহারাজ, মহামহোপাধ্যায় শ্রী দুর্গাচরণ সাংখ্যবেদান্ততীর্থ, মহামহোপাধ্যায় শ্রী হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশ সিদ্ধান্তবিদ্যালয়, শ্রী শ্রীজীব ন্যায়তীর্থ, শ্রী গৌরী শাস্ত্রী, শ্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, শ্রী নির্মলচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। পত্রটিতে লেখা ছিল – না হিন্দু পতিত ভবেৎ – হিন্দু র পতন হয়না। বস্তুতপক্ষে, এই পত্রটি দেখেই নোয়াখালীর চরমতমভাবে নির্যাতিত হিন্দুরা নিরাপদ স্থান র উদ্দ্যেশ্যে যাত্রা করেন।

পরিশেষে – আজ নোয়াখালীর গণহত্যার স্মরণ কি  অতীতের একটি প্রায়-বিস্মৃত ঘটনাকে প্রকাশ্যে আনার জন্য নাকি এর কোন বৃহত্তর তাৎপর্য রয়েছে?  বস্তুতপক্ষে, নোয়াখালীই বাঙালী হিন্দুর শেষের যাত্রা শুরু করেছিল কিনা তার উত্তর আছে ভবিষ্যতের গর্ভে।  কিন্তু নির্মোহভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় – এই মুহূর্ত পর্যন্ত নোয়াখালী এবং তা-জড়িত প্রভাবের কোন বিরাম নেই পৃথিব্যাপী বিস্তৃত হিন্দু বাঙালী সম্প্রদায়ের মধ্যে। নোয়াখলীই বাঙালী হিন্দুকে হৃদয়বিদারক দেশভাগকে একমাত্র উপায় হিসেবে ভাবতে বাধ্য করেছিল।

পরবর্তীকালে পূর্ব পাকিস্তান/বাংলাদেশে বরিশাল গণহত্যা (১৯৫০), ভৈরব ব্রিজ গণহত্যা, ১৯৬৪ র গণহত্যা, গোলাঘাট গণহত্যা, নাড়িয়া গণহত্যা, শাঁখারিকাঠি গণহত্যা, ঈশানগোপালপুর গণহত্যা, ডাকরা গণহত্যা, জাটিভাঙা গণহত্যা, মাকালকান্দি গণহত্যা, শতনিখিল গণহত্যা, গালিমপুর গণহত্যা, আদিত্যপুর গণহত্যা, সুত্রপুর গণহত্যা, সেন্ডিয়া গণহত্যা, কালীগঞ্জ গণহত্যা, কড়াই কাদিপুর গণহত্যা, চুকনগর গণহত্যা, ১৯৮৯-৯২ সালের হিন্দু র ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ণ, ২০০১ র নিপীড়ণ, ২০১৪ র শাহবাগ আন্দোলন পরবর্তী হিন্দু-বিরোধী প্রবাহ, উত্তর-পূর্ব ভারতের নৃশংসতম মান্দাই, শিলাপাথর ও বাগবের গণহত্যা, আসামে এনআরসির উন্মত্ততা থেকে কিছুদিন আগে কলকাতা মহানগরীতে ঘটে যাওয়া একটি মিছিল যেখানে সোচ্চারে মুসলিম পুলিশ কমিশনার নিয়োগের দাবি জানানো হল – সবই নোয়াখালীর প্রভাব যার দরুন হিন্দু  বাঙালী আজ এক হতভাগ্য জাতিতে পরিণত হয়েছে।

অশ্রুসিক্ত, বিলাপী, রিক্ত ও ক্লিষ্ট হিন্দু বাঙালী কি কখনো তেজোদৃপ্ত সিংহের মতো নিজ অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারবে – তাই এখন দেখার।

সে যেন ভুলে না যায় শ্রীমদ্ভগবদগীতা র অমর বাণী,

” হতো বা প্রাপ্স্যসি স্বর্গং জিত্বা বা ভোক্ষ্যসে মহীম্ ।

তস্মাদুত্তিষ্ঠ কৌন্তেয় যুদ্ধায় কৃতনিশ্চয়ঃ ॥৩৭॥  (সাংখ্যযোগ)

অর্থ – হে কুন্তীপুত্র ! এই যুদ্ধে নিহত হলে তুমি স্বর্গ লাভ করবে, আর জয়ী হলে পৃথিবী ভোগ করবে ৷ অতএব যুদ্ধের জন্য দৃঢ়সংকল্প হয়ে উত্থিত হও।

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *