ভোলার লালমোহন উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উরন সাধু বাড়ি এলাকার একটি সনাতনী (হিন্দু) পরিবার। জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের পর আদালত গোপাল কৃষ্ণ দাসের পক্ষেই রায় দেন। একটি পরিবার ভেবেছিল, আইনের আশ্রয় নিয়ে হয়তো এবার শান্তিতে নিজের ভিটেমাটিতে বসবাস করতে পারবে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আদালতের রায়ের পর থেকেই তাঁদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত গত ১৮ জুলাই সকালে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়।
একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে গোপাল কৃষ্ণ দাস ও তাঁর স্ত্রী আখি রানি দাসকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে। তাঁদের আর্তচিৎকারে পুরো বাড়ি আতঙ্কে ভরে ওঠে। পরে আহত অবস্থায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কিন্তু হামলা শুধু স্বামী-স্ত্রীর ওপরই থেমে থাকেনি। অভিযোগ অনুযায়ী, পরিবারের দুই মেয়েকেও মারধর করা হয়। এমনকি পরিবারের বৃদ্ধ বাবাকেও ছেড়ে দেওয়া হয়নি। তাঁকেও পানিতে চুবিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একটি সংখ্যালঘু পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে এমনভাবে নির্যাতনের অভিযোগ সত্যিই উদ্বেগজনক।
পরিবারটির অভিযোগ, হামলাকারীরা বসতঘরে ভাঙচুর চালায়, একটি মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে এবং ঘরে থাকা নগদ ৬ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, এই পরিবারটি আদালতের রায় পাওয়ার পরও নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারেনি। একটি সংখ্যালঘু পরিবার যখন আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরও হামলা, ভয়ভীতি ও নির্যাতনের অভিযোগ তোলে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
একটি সভ্য ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রে কোনো নাগরিক বিশেষ করে কোনো সংখ্যালঘু পরিবার নিজের বাড়িতে ভয় নিয়ে বসবাস করবে, এটি কখনোই কাম্য হতে পারে না। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
