বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের দেউলী সংলগ্ন কানছগাড়ি এলাকায় তিনটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মন্দিরে পূজা দিতে গিয়ে প্রতিমাগুলো ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান।
ভাঙচুর হওয়া উপাসনালয়গুলো হলো— কানছগাড়ি মহাশ্মশানের শিব মন্দির, কানছগাড়ি শীতলা মন্দির এবং স্থানীয় কালী মন্দির।
ঘটনা যেভাবে জানা যায়
মহাশ্মশান পরিচালনা কমিটির সদস্য উজ্জ্বল জানান, অন্য সব মাসের মতোই শনিবার সকালে তাঁর স্ত্রী মন্দিরে পূজা দিতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি প্রথম প্রতিমাগুলো ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি প্রশাসন ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদকে জানানো হয়।
শিবগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুবীর কুমার দত্ত বলেন, "খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি এবং দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছি।"
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও আশ্বস্তকরণ
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শিবগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান। তিনি ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন এবং মহাশ্মশান পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সাথে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ-খবর নেন। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে।
মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আলমাস হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "প্রতিমা ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ ঘটনার সাথে কারা জড়িত তা এখনো উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তবে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।"
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
