গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপ ও চরম অবমাননার ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে এবং অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। তবে ঘটনার বেশ কিছু সময় পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি বা দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের মতে, দেশে একদিকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের সামান্যতম অভিযোগে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়; কিন্তু অন্যদিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাস্যের অবমাননার স্পষ্ট ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের এমন নিষ্ক্রিয়তা দ্বিমুখী আচরণকে স্পষ্ট করে। এই বৈষম্যের কারণে প্রশ্ন উঠেছে—সংবিধানে বর্ণিত সকল নাগরিকের সমান অধিকারের বিষয়টি কি তবে কেবল খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ?
প্রতিবাদকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নন। তাঁরা শুধু চান যে আইনে অন্য ধর্মাবলম্বীদের অধিকার ও অনুভূতি সুরক্ষিত হয়, সেই একই আইনে সনাতনীদের উপাস্য অবমাননার ঘটনাতেও যেন সমানভাবে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ধর্ম ও সম্প্রদায় ভেদে নয়, বরং অপরাধের ভিত্তিতে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে এবং দেশে প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
