সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের (TikTok) মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদ পেতে বাংলাদেশি এক তরুণীকে বিয়ে করে চীনে নিয়ে গিয়ে ১৮ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই তরুণী (ছদ্মনাম আঞ্জুয়ারা) বর্তমানে চীনের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে চরম অমানবিক ও বন্দিদশায় দিন কাটাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, টিকটকের মাধ্যমে আঞ্জুয়ারার সাথে পরিচয় হয় ‘মিংচং’ নামের এক চীনা নাগরিকের। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে মিংচং তাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর উন্নত ও সুখী জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে আঞ্জুয়ারাকে চীনে নিয়ে যায় তার স্বামী। তবে চীনে পৌঁছানোর পরপরই মিংচং তার আসল রূপ ধারণ করে এবং আঞ্জুয়ারাকে চীনের একটি চক্রের কাছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেয়।
একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের বিশেষ অনুসন্ধানে মুঠোফোনের মাধ্যমে গোপন স্থান থেকে যুক্ত হয়ে নিজের ওপর চলা ভয়াবহ নির্যাতনের বিবরণ দেন আঞ্জুয়ারা। অত্যন্ত আকুল কণ্ঠে তিনি বলেন, "আমি বাঁচতে চাই, আমাকে যেকোনো উপায়ে এই নরক থেকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হোক।" তিনি আরও জানান, সেখানে তাকে একটি ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং প্রতিদিন তাঁর ওপর নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতে তিনি বাংলাদেশ সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এদিকে, একমাত্র মেয়ের এমন করুণ ও ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে বাংলাদেশে আঞ্জুয়ারার বাবা-মায়ের দিন কাটছে চরম উৎকণ্ঠা ও কান্নায়। কলিজার টুকরো সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরত পেতে তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এই আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তরুণীকে দ্রুত উদ্ধার করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
