বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বৃক্ষরোপণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় ৫৯৫টি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
স্ট্রমী ফাউন্ডেশনের সহায়তায় কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক) বাস্তবায়িত ক্লাইমেট চেইঞ্জ অ্যাডাপটেশন প্রকল্পের উদ্যোগে বুধবার উপজেলার হাসিনা বেগম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রোপণের জন্য ৪৪৫টি ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের মধ্যেও আরও ১৫০টি ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত চারার মধ্যে ছিল আম, পেয়ারা, আমড়া, কাঁঠাল, আমলকি, কালোজাম, হরীতকী ও বহেরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক আ ন ম ওয়াহিদ, হাসিনা বেগম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শৈলেন্দ্রনাথ বড়ই, টেকনিক্যাল অফিসার (কৃষিবিদ) মো. সাব্বির তালুকদার, প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, গণমাধ্যমকর্মী এবং শিক্ষার্থীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও খাদিজা আক্তার বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে সবাইকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব। এ ধরনের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি কোডেকের এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি আমগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সাল থেকে চিতলমারী উপজেলায় বাস্তবায়িত ক্লাইমেট চেইঞ্জ অ্যাডাপটেশন প্রকল্পের আওতায় নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি এবং দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হচ্ছে। প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আয়োজিত এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপজেলায় সবুজায়ন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
