ডোপ টেস্ট (Dope Test) বা ড্রাগ স্ক্রিনিং টেস্ট হলো একটি চিকিৎসাতাত্ত্বিক পরীক্ষা, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি মাদকদ্রব্য, যেমন: অ্যালকোহল, গাঁজা, হিরোইন, কোকেন, মেথামফিটামিন/ইয়াবা, মরফিন ইত্যাদি বা পারফরম্যান্স বর্ধক কোনো নিষিদ্ধ ওষুধ গ্রহণ করেছে কি না তা শনাক্ত করা হয়।
যেসব নমুনার মাধ্যমে টেস্ট করা হয় —
- প্রস্রাব (Urine): সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এবং সাধারণ মাধ্যম।
- রক্ত (Blood): সাম্প্রতিক মাদক গ্রহণের তথ্য পেতে ব্যবহৃত হয়।
- চুল (Hair) বা লালা (Saliva): দীর্ঘমেয়াদী বা তাৎক্ষণিক মাদক ব্যবহারের উপস্থিতি জানতে।
কখন ডোপ টেস্টের প্রয়োজন হয়?
১. সরকারি ও বেসরকারি চাকরি: চাকরিতে চূড়ান্ত নিয়োগের পূর্বে মেডিকেল চেকের অংশ হিসেবে।
২. ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পেশাদার ড্রাইভার: চালকদের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে।
৩. খেলোয়াড়দের জন্য: খেলাধুলায় নিষিদ্ধ পারফরম্যান্স বর্ধক ওষুধ (Performance-enhancing drugs) রোধ করতে।
৪. উচ্চশিক্ষা ও বিদেশগমন: কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বা ভিসা প্রক্রিয়ায় বাধ্যতামূলক হিসেবে।
৫. অপরাধ করলে: অপরাধী মাদকাসক্ত ছিলেন কিনা, কিংবা নিয়মিত মাদক গ্রহন করেন কিনা সেটা জানতেও ডোপ টেস্ট করা হয়।
কতোদিনের মধ্যে এই টেস্ট করলে সঠিক ফলাফল পাওয়া যায়?
ডোপ টেস্টের মাধ্যমে মাদক শনাক্ত করার সময়সীমা সম্পূর্ণ নির্ভর করে কী ধরনের নমুনা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কোন মাদক গ্রহণ করা হয়েছে তার ওপর।
প্রস্রাব (Urine Test)
সাধারণ সেবনের ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৭ দিন। তবে দীর্ঘদিন নিয়মিত বা অতিরিক্ত মাদক (যেমন: গাঁজা) সেবন করলে ৩০ দিন পর্যন্ত পজিটিভ আসতে পারে।
রক্ত (Blood Test)
খুব সংক্ষিপ্ত সময়, সাধারণত ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে (সর্বোচ্চ ২-৩ দিন)।
লালা (Saliva Test)
মাদক সেবনের ১ থেকে ৩ দিনের মধ্যে।
চুল (Hair Follicle Test)
সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী, সেবনের ৯০ দিন (৩ মাস) পর্যন্ত ফলাফল পাওয়া যায়।
কোন মাদকদ্রব্য প্রস্রাবে কতদিন থাকে?
অ্যালকোহল: ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা (বিশেষ টেস্টে ৩-৫ দিন)।
গাঁজা (Cannabis/Marijuana): কম সেবন করলে ১-৩ দিন, নিয়মিত সেবন করলে ১৫-৩০ দিন।
ইয়াবা/মেথামফিটামিন: ২ থেকে ৫ দিন।হিরোইন/মরফিন/ওপিয়াম: ২ থেকে ৪ দিন।
কোকেন: ২ থেকে ৪ দিন।
ঘুমের ওষুধ (Sedatives/Benzodiazepines): ৩ থেকে ৭ দিন (দীর্ঘমেয়াদী সেবনে কয়েক সপ্তাহ)।
