নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় একটি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় এক শিশু এবং দুই নারীসহ একই পরিবারের চার সদস্য আহত হয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে উপজেলার বেথুড়ী ইউনিয়নের রামদিয়া পূর্বপাড়া গ্রামে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
আহতরা হলেন — ক্ষিতিশ বিশ্বাস (৬৫), তার স্ত্রী তুলসী বিশ্বাস (৫০), মেয়ে ইতি রানী বিশ্বাস (৩০) এবং নাতনি দেবরাজ বিশ্বাস (১৫)। হামলার পর আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী ক্ষিতিশ বিশ্বাসের ছেলে উজ্জ্বল বিশ্বাস বাদী হয়ে প্রতিবেশী ইউপি সদস্য আজিবর মোল্যা ও তার লোকজনকে অভিযুক্ত করে কাশিয়ানী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষিতিশ বিশ্বাসের পরিবারের সাথে স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিবর মোল্যার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধ চলে আসছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই পূর্ববিরোধের জের ধরেই গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পরিকল্পিতভাবে ক্ষিতিশ বিশ্বাসের নাতনির ওপর আজিবর মোল্যার অনুসারীরা চড়াও হয়। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে বাঁচাতে ও বাধা দিতে এগিয়ে এলে প্রতিপক্ষরা লাঠিসোঁটা এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় পরিবারের নারী ও শিশুসহ চারজন গুরুতর লাঞ্ছিত ও আহত হন।
হামলার ও মারধরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আজিবর মোল্যা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন —
"খেলাধুলা নিয়ে বাচ্চাদের মধ্যে একটু হাতাহাতি হয়েছে এবং পরবর্তীতে মহিলাদের মধ্যে চেঁচামেচি হয়েছে। তবে থানায় যেভাবে অভিযোগ করা হয়েছে, বাস্তবে এমন কোনো (মারধর বা পরিকল্পিত হামলার) ঘটনা ঘটেনি।"
এদিকে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান:
"ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
নির্বাচন বা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে বারবার গ্রামীণ জনপদে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর এভাবে হামলার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় নাগরিকদের মতে, স্বাধীন দেশে যার যার ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার সবার আছে। কিন্তু ভোটের জেরে কোনো পরিবারকে—বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো আইনের শাসনের পরিপন্থী। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
