দক্ষিণ কলকাতা, গড়িয়া: দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন শ্রীনগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় থাকা একটি প্রাচীন হনুমান মন্দিরের পুনর্নির্মাণ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মন্দিরের সংস্কার প্রচেষ্টার পথে কিছু বহিরাগত ও রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, মন্দিরের উন্নয়ন, সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের উদ্দেশ্যে এলাকায় লাগানো সমস্ত প্রচারমূলক পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় সনাতনী হিন্দু বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, বর্তমান শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) কর্মীরাই এই পোস্টার ছেঁড়ার ঘটনার সাথে জড়িত। এই পবিত্র ধর্মীয় স্থানের অবমাননা এবং সংস্কার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এলাকার সনাতনীদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। তারা অনতিবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্দিরে বাধা ও উত্তেজনার খবর পেয়ে সনাতনী হিন্দু সংগঠন বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)-এর প্রতিনিধি এবং কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা যেকোনো উসকানির মুখেও শান্তিপূর্ণ ও সম্পূর্ণ আইনসম্মত উপায়ে মন্দিরের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করবেন এবং নিয়মিত ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ও সনাতনীদের ঐক্যবদ্ধ করতে সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১১ জুলাই ২০২৬ (শনিবার) বিকেল ৫টায় গড়িয়া স্টেশন এলাকায় এক সুবিশাল যৌথ ‘হনুমান চালিশা’ পাঠের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই ধর্মীয় সমাবেশে বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের হাজার হাজার সদস্য ও ভক্ত সমবেত হবেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। একই সাথে, সমস্ত সনাতন ধর্মাবলম্বী ও রামভক্তদের এই পুণ্য অনুষ্ঠানে শান্তিপূর্ণভাবে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও স্থানীয় শান্তিকামী সাধারণ মানুষের আশা, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ, পারস্পরিক আলোচনা এবং সহযোগিতার মাধ্যমে এই সমস্যার একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসবে। তারা একই সাথে এলাকায় দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি পবিত্র উপাসনালয়ে বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
