সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার নাম হারিনারায়ণ পার্থ (HN Partha)। কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে সুদূর অস্ট্রেলিয়া — তার এই যাত্রা কেবল একটি উচ্চশিক্ষার গল্প নয়, বরং এটি আত্মবিশ্বাস ও অদম্য সাহসের এক অনন্য উপাখ্যান। হরিজন সম্প্রদায়ের একজন মেধাবী তরুণ হিসেবে তিনি আজ বিশ্বমঞ্চে নিজের এবং সম্প্রদায়ের নাম উজ্জ্বল করছেন।
ভৈরবের এক সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা পার্থর জীবনের প্রতিটি ধাপ ছিল সংগ্রামের। তার পিতা আজাদ লাল হরিজন সরকারি কলেজের কম্পিউটার অপারেটর এবং মাতা মীনতি রাণী বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মচারী। বাবা-মায়ের কঠোর পরিশ্রম আর ত্যাগকে সঙ্গী করেই তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। স্কলার ন্যাশনাল স্কুল থেকে পিইসি, ভৈরব আইডিয়াল স্কুল থেকে জেএসসি এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি — প্রতিটি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (এ+) অর্জনের মাধ্যমে তিনি নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন। পরবর্তীতে সরকারি হাজী আসমত কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।
পার্থর বড় অর্জনটি আসে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে। বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন থেকে শুরু করে ভিসা প্রক্রিয়ার অধিকাংশ কাজ নিজেই সম্পন্ন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটিতে (Charles Sturt University) সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। পেয়েছেন ৩০ শতাংশ স্কলারশিপ, যা তার পরিশ্রমেরই প্রতিফলন।
নিজের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি পার্থ সবসময়ই সমাজ ও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। রক্তদান কর্মসূচি, যুব উন্নয়ন এবং সামাজিক সচেতনতামূলক নানা কর্মকাণ্ডে তিনি নিয়মিত স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেছেন। তার কাছে শিক্ষা কেবল নিজের উন্নতির মাধ্যম নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার।
সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে একজন আন্তর্জাতিক মানের পেশাজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই তার লক্ষ্য। তবে তার চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময়ই রয়েছে হরিজন সম্প্রদায়। পার্থ বলেন, "আমি চাই আমার এই অর্জন আমার সম্প্রদায়ের তরুণদের উৎসাহিত করুক। প্রযুক্তি ও শিক্ষার মাধ্যমে আমাদের জনগোষ্ঠীর পিছিয়ে থাকা তরুণদের জন্য আমি নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই।"
হারিনারায়ণ পার্থর এই সাফল্য কেবল তার একার নয়; এটি প্রতিটি সেই তরুণের জন্য অনুপ্রেরণা, যারা প্রতিকূলতাকে জয় করে নিজেদের স্বপ্নের উচ্চতায় পৌঁছাতে চায়।
