খুলনার আড়ংঘাটা থানার শলুয়া বাজার এলাকায় রাতের আঁধারে পঙ্কজ রায় (৫৮) নামে এক প্রবীণ দলিল লেখকের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। একদল অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তাঁর দুই পা ভেঙে দিয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শলুয়া বাজারের সামনে অবস্থিত কুণ্ডু চন্দ্র বিদ্যালয়ের ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এই নির্মম হামলার ঘটনা ঘটে। আহত পঙ্কজ রায় শলুয়া এলাকার মৃত পুলিন কুমার রায়ের ছেলে। তিনি পেশায় একজন স্থানীয় রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে পঙ্কজ রায় নিজ কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে শলুয়া বাজারের ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা বেশ কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর পথরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা পঙ্কজের ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে তারা সঙ্গে আনা লোহার হাতুড়ি দিয়ে তাঁর দুই পায়ে সজোরে একের পর এক আঘাত করতে থাকে। হাতুড়ির প্রচণ্ড আঘাতে পঙ্কজ রায় চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাঁর আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত সটে পড়ে।
এলাকাবাসী গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে পরিবার জানিয়েছে, হাতুড়ির আঘাতে তাঁর দুই পায়ের হাড় মারাত্মকভাবে ভেঙে গেছে এবং বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জনসংকীর্ণ ও ব্যবসাকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় একজন প্রবীণ দলিল লেখকের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার খবরে পুরো শলুয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হামলার নেপথ্যে পেশাগত কিংবা কোনো পারিবারিক পূর্বশত্রুতা রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে পঙ্কজ রায়ের পরিবার জড়িত দুর্বৃত্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জোর দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে আড়ংঘাটা থানা পুলিশ জানিয়েছে, খবর পাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
