ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার পয়ারী এলাকার বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী রেনু বালা কয়েকদিন আগে নিখোঁজ হন। পরিবারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার তারাকান্দা উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের তিয়রকান্দি বাজার সংলগ্ন একটি কালভার্টের নিচে কচুরিপানার মধ্য থেকে নিখোঁজ ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরপরই অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে জোরদার তদন্তে নামে তারাকান্দা থানা পুলিশ।
তথ্য-প্রযুক্তি ও গোপন সূত্রের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের একমাত্র আসামি মোঃ মাজহারুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেফতারের পর গত বৃহস্পতিবার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি বিচারকের সামনে রেনু বালা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও আসামির জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, ঘটনার সময় রেনু বালা "হরে কৃষ্ণ, হরে রাম" নাম জপ করছিলেন। ওই ধর্মীয় নাম জপ করার বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে চরম রাগের বশবর্তী হয়ে মোঃ মাজহারুল ইসলাম রেনু বালার ওপর চড়াও হন এবং তাকে গলা টিপে হত্যা করেন। পরবর্তীতে নিজের এই অপরাধ আড়াল করার উদ্দেশ্যে তিনি রেনু বালার মরদেহটি তিয়রকান্দি বাজারের কালভার্টের নিচে কচুরিপানার মধ্যে লুকিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাশিদ মামলার সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সোর্সের নিখুঁত তথ্যের ভিত্তিতে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে হাজির করা হলে আসামি মাজহারুল ইসলাম নিজের অপরাধের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা মদদ রয়েছে কি না, তা আরও খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
