গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বিশাল রামমূর্তি নির্মাণ করে আলোচনায় আসা রামচন্দ্রপুর রাধাগোবিন্দ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসের (তৌহিদ ইসলাম) বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার অবৈধ আর্থিক লেনদেন, হুন্ডি ব্যবসা এবং মানি লন্ডারিং।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নিজের নির্দিষ্ট ও বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও হরিদাসের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং মোবাইল ব্যাংকিং (MFS) হিসাবে সন্দেহজনকভাবে সাড়ে নয় কোটি টাকারও বেশি জমা ও লেনদেন হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দাবি, তিনি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে হুন্ডির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এসব অবৈধ অর্থ ব্যবহার করতেন।
মানি লন্ডারিংয়ের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ভয়াবহ প্রতারণা ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। সিআইডি ও পুলিশের তদন্তে জানা যায়, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিতেন এবং ভুয়া কল রেকর্ড ও এডিটেড ছবি তৈরি করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন।
এছাড়া অতীতেও তার বিরুদ্ধে ঢাকার বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধির প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের বিভিন্ন ধারায় ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছিল। এসব অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর গত ১২ জুলাই ২০২৬ রাতে সিআইডি তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
