News cover
8 hours ago

ইসলাম অবমাননার অভিযোগে প্রশান্ত কুমার গ্রেপ্তার

generalpublished7 views

একটি চায়ের দোকানে বসে ইসলাম ধর্ম নিয়ে সাধারণ আলোচনার জেরে প্রশান্ত কুমার নামের এক সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিবেশীদের সাথে চা পানের সময় করা তাঁর একটি ব্যক্তিগত মন্তব্য পাশে থাকা এক মুসলিম ব্যক্তি শুনতে পান এবং তাঁর দেওয়া মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তাৎক্ষণিক এই পদক্ষেপ নেয়। কোনো নিরেট প্রমাণ বা সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়াই কেবল মৌখিক অভিযোগে গ্রেপ্তারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সচেতন মহল ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই ধরনের ঘটনাগুলো যুগ যুগ ধরে পাকিস্তানে চলে আসা বিতর্কিত 'ব্লাসফেমি' বা ধর্ম অবমাননা আইনের চরম অপপ্রয়োগের কথাই মনে করিয়ে দেয়। পাকিস্তানে কোনো সনাতন ধর্মাবলম্বীর সাথে ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক বিরোধ থাকলে তাকে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অপবাদে ফাঁসানো একটি ওপেন সিক্রেট বিষয়, যার ফলে সেখানে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা আজ এক শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে। বাংলাদেশেও এখন একই ধরনের অপকৌশল ব্যবহার করে সংখ্যালঘুদের কোণঠাসা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিবাদকারীরা রাষ্ট্রের এমন দ্বিমুখী ও বৈষম্যমূলক নীতির তীব্র সমালোচনা করে বলছেন, সরকারের নীতিনির্ধারকেরা মুখে সকল ধর্মের সমান অধিকারের দাবি করলেও বাস্তবে আইনের প্রয়োগ সম্পূর্ণ বিপরীত। কিছুদিন আগেই প্রকাশ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেবতা শ্রীরামচন্দ্রের ছবিতে জুতা নিক্ষেপের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশ-বিদেশে এর তীব্র প্রতিবাদ হয়; কিন্তু আজ পর্যন্ত পুলিশ সেই ঘটনায় জড়িত একজন অপরাধীকেও গ্রেপ্তার করেনি। অথচ সনাতনীদের ক্ষেত্রে কেবল চায়ের দোকানের মৌখিক অভিযোগে মুহূর্তেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, রাষ্ট্রের এই দৃশ্যমান বৈষম্য ও সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন নিয়ে কেউ সোচ্চার হলে বা কথা বলতে চাইলে, তাকেই চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মতো বিতর্কিত ও অবাস্তব অভিযোগে গ্রেপ্তার করে অন্ধকার কারাগারে বন্দি করে রাখা হচ্ছে। ধর্মভেদে আইনের এই চরম বৈষম্যমূলক প্রয়োগ বন্ধ করে দেশের সকল নাগরিকের জন্য সমান বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে সনাতনী সম্প্রদায়।

Uzzwal Dhali
+1
0 comments
0 replies
Guest avatar
Join the discussionLogin or register to post your comment.