News cover
15 hours ago

যেভাবে ফাঁদে ফেলা হয় রিয়া জয়ধরকে

generalpublished26 views

শ্রীমতি রিয়া জয়ধর কে ফেসবুকে ফেন্ড রিকুয়েষ্ট দেয় প্রবাসী আবু সাইদ। প্রথমে সে ছদ্মনাম হিসেবে "সুমন বিশ্বাস" ব্যবহার করে।

কথা বলতে বলতে একটু সখ্যতা গড়ে উঠার পর রিয়ার জন্মদিনে উপহার পাঠাতে চায় আবু সাইদ। এরপর রিয়া বিকাশ নম্বর দিলে বিকাশে ৫ হাজার টাকা পাঠায়। তখন থেকে তাদের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হয়, প্রতিদিন রাত জেগে তারা কথা বলতে থাকে।

রিয়ার মা বিষয়টি জানতে পারলে রিয়া বলে এক হিন্দু ছেলে বিদেশ থেকে কথা বলে তার সাথে। কারন তখন ও রিয়া জানে না হিন্দু নাম সুমন বিশ্বাস মূলতঃ আবু সাইদ, একটি মুসলিম ছেলে। রিয়ার মা ও কথা বলে ছেলেটির সাথে, ছেলেটি জানায় তারা খুব ভাল বন্ধু। এরপর আবু সাইদ রিয়ার মায়ের জন্য ও শাড়ি কেনার টাকা দেয়, ছোট বোনদের জন্য টাকা দেয়। এসব কারনে রিয়ার মা ও পরিবার আর আপত্তি করেনি।

এভাবে ৩ বছর কথা বলতে বলতে এমনভাবে শ্রীমতি রিয়া আকৃষ্ট হয়ে যায় যে, তাকে ছাড়া আর রিয়ার চলবেই না। তখন মুখোশ খুলে সুমন বিশ্বাস জানায় যে, সে আসলে একটি মুসলিম ছেলে এবং তাকে পাওয়ার জন্য মিথ্যে বলেছে।

মিথ্যা ও প্রতারনার কথা জানতে পেরে মন ভেঙে যায় রিয়ার, কয়েকদিন রিয়া কথা বলা বন্ধ করে দেয় সে। কিন্তুু এতোদিনে কথা বলা অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে তার, আবার কথা বলা শুরু হয়। এরপর রিয়াকে আবু সাইদ ২০ হাজার টাকা দেয় মোবাইল ফোন কিনতে। মন গলে রিয়ার, আবু সাইদ কে মন প্রাণ সবকিছু দিয়ে দেয়, ভিডিও কলে চলে অন্তরঙ্গ কথাবার্তা!

এর মধ্যে একদিন মায়ের সাথে রিয়ার সামান্য একটা বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হলে রিয়াকে একটা থাপ্পড় মারে রিয়ার সা। প্রেমিক সুমন বিশ্বাস ওরফে আবু সাইদ কে জানাতে দেরি করেনা রিয়া, জানার পর সে বলে যে, তুমি আমাদের বাড়িতে চলে যাও। রিয়া তখন বান্ধবীর বাড়িতে যাচ্ছি বলে আবু সাইদের বাসায় চলে যায়।

খবর পেয়ে রিয়ার মা, বাবা ও পরিবারের সদস্যরা আবু সাইদের বাড়িতে গিয়ে রিয়াকে ফিরিয়ে আনার জন্য অনেক অনুনয়-বিনয় করে, এমনকি হাত পা ধরে কান্নাকাটি পর্যন্ত করে! কিন্তু কোন কিছুই রিয়ার মনকে গলাতে পারেনা! বরঞ্চ সে তার বাবা-মায়ের সাথে দুর্ব্যবহার করে এবং সেখান থেকে চলে যেতে বলে।

অবশেষে, রিয়াকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় পরিবারের কাছে। স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই মানবিক উদ্যোগ সফল হয়েছে। এটা সম্ভব হওয়ার পিছনে সবচেয়ে বড় কারন হলো, মেয়ে এখনো কিশোরী, পূর্ণবয়স্কা নয় এবং ছেলেটি এখনো দেশের বাইরে।

Community Trust Score: 100%
Uzzwal Dhali
Dip Kar
+2
0 comments
0 replies
Guest avatar
Join the discussionLogin or register to post your comment.