যশোরের কেশবপুরে একটি সংখ্যালঘু পরিবারকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ ও এলাকাছাড়া করার উদ্দেশ্যে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসী মহলের বিরুদ্ধে। এই বর্বরোচিত হামলায় নারীসহ একই পরিবারের ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। উপজেলার সাগর দত্তকাটি গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে সাগর দত্তকাটি গ্রামের নূর ইসলাম মোড়ল ও তার সহযোগীরা প্রতিবেশী সংখ্যালঘু সুশান্ত মন্ডল ও তার পরিবারকে পৈতৃক ভিটেবাড়ি থেকে বিতাড়িত করার চক্রান্ত করে আসছিল। এর জন্য তারা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে সুশান্তর পরিবারকে প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। এর জের ধরে গত বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) দুপুরে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে ওজুহাত বানিয়ে নূর ইসলাম, রফিকুল, রনি, আজহারুল, সুমন ও বাদশাসহ ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল সুশান্তর পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
সন্ত্রাসীদের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে সুশান্ত মন্ডল (৩২), তার ছোট ভাই দুলাল মন্ডল (২৮), ভাইপো অমিত মন্ডল (১৭) এবং স্ত্রী স্বপ্না রানী মন্ডল (২৪) গুরুতর আহত হন। হামলা চলাকালীন সন্ত্রাসীরা স্বপ্না রানী মন্ডলের পরনের কাপড় টেনেহিঁচড়ে ছিঁড়ে ফেলে এবং তাকে প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানি করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, হামলাকারী সন্ত্রাসীরা সবাই এলাকায় চরম ত্রাস সৃষ্টিকারী এবং তারা স্থানীয় রাজনীতির পরিমণ্ডলে 'ছাত্রদল' পরিচয়ে দাপট দেখিয়ে বেড়ায়। এর আগেও তারা সুশান্তর পরিবারের ওপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছিল। ঘটনার পর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে এবং তাদের সহায়তায় আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই নৃশংস ঘটনায় সুশান্ত মন্ডল বাদী হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে কেশবপুর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোছাম্মৎ রোকসানা খাতুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং জড়িত হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
