বর্তমানে বাংলাদেশে বহুল আলোচিত ঘটনা হলো গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মানাধীন শ্রী রামের মূর্তি। এটি মূলতঃ শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দিরের একটি অংশ। এছাড়াও এখানে রয়েছে গুরুকুল, বৃদ্ধাশ্রম, নির্মানাধীন হাসপাতাল ইত্যাদি।
এই মন্দির কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস, যিনি খুব সাধারন পরিবার থেকে উঠে আসা এক স্বপ্নবাজ মানুষ। যিনি সরলতা ও সততার এক মূর্ত প্রতীক।
হরিদাসের জন্ম এই মন্দির কমপ্লেক্সের পাশেই। তারা মোট পাঁচ ভাই, এক বোন। তিনি ২০০৮ সালে এস,এস,সি পাশ করেন। পরে জীবনের তাগিদে ৩০০ টাকা নিয়ে ঢাকায় পাড়ি জমান। পেপারে ইলেক্ট্রিশিয়ান নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেখে কাজের আশায় ঢাকায় পৌঁছে দালালের খপ্পরে পরে নাইট গার্ডের চাকরি পান। পরে আমেরিকান অ্যাম্বেসিতে ইলেক্ট্রিশিয়ান হিসেবে প্রায় ১৫০০০ টাকা বেতনের চাকরিতে যোগ দেন। এই বেতনে তখন উনার গ্রামে ৩ শতক জমি কেনা যেতো বলে উল্লেখ করেন। তিনি ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই কাজ করেন। এরপর তার সততার কারনে তাকে রোহিঙ্গাদের খাবার সাপ্লাইয়ের কাজ পাইয়ে দেয় এক শুভাকাঙ্খী। এখান থেকে ই তার কপাল খুলে যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এরপর তিনি ২০১৯ সালে ময়মনসিংহ ফুলবাড়িতে ১৩ শতাংশের উপর একটি বাড়ি করেন। তার বিরুদ্ধে গুজব ওঠে যে তিনি খ্রিষ্টান, তার কাছে কয়েক হাজার কোটি আছে। তিনি এলাকাবাসীকে খ্রিষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরের উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছেন বলেও গুজব ছড়ানো হয়।
তাকে ফাঁসানোর জন্য তার এলাকার এক লোক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে মিথ্যে খবর দিয়ে কারওয়ান বাজার ডেকে নিয়ে গ্রেফতার করা হয়। আটকের পর তার কাছে ৫০ কোটি টাকা দাবি করা হয় বলে জানান হরিদাস। সাংবাদিকরাও তার বিরুদ্ধে মিথ্যে সংবাদ প্রচার করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার কাছে কাঙ্খিত টাকা না থাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকেরা তাকে প্রতারক হিসেবে উপস্থাপন করেন মিডিয়ার সামনে। যা সাজানো নাটক বলে দাবি করেন হরিদাস। এই ঘটনায় তিনি বিনা অপরাধে ১৩-১৪ দিন জেল খাটেন। অথচ তার মামলার গ্রহনযোগ্য কোনো বাদীই ছিলো না।
২০২৪ সালে তিনি তার ময়মনসিংহের বাড়ি বিক্রি করেন ৮০ লক্ষ টাকায়। এই টাকার একটা অংশ দিয়ে তিনি মন্দির কমপ্লেক্সের কাজ শুরু করেন। পরে এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সনাতনীদের সাহায্যে গড়ে উঠতে থাকে এই কমপ্লেক্স।
তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই প্রজেক্টে কোন মুসলিম বা বিদেশীদের টাকা নেওয়া হয়নি। এখানে কোনো খাস জমি নেই, রয়েছে দেবোত্তর সম্পত্তি, দানের সম্পত্তি ও ক্রয় করা সম্পত্তি।
