শনিবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের করাচির গুলিস্তান-ই-জওহর এলাকায় অবস্থিত সিন্ধু রেঞ্জার্স সদর দপ্তরে একটি ভয়াবহ আত্মঘাতী সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। একদল ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হামলাকারী বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে রেঞ্জার্স সদর দপ্তরের প্রধান ফটকের কাছে আসে। গাড়িটি সেখানে পৌঁছানোর পরপরই সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ভেতরে প্রবেশ করে এবং সেখানে কর্তব্যরত নিরাপত্তা সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। আকস্মিক এই হামলায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এই নৃশংস ও ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় তিন নিরাপত্তাকর্মী শাহাদাত বরণ করেছেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে চার হামলাকারী নিহত হয়েছে। ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিট, অ্যান্টি টেরোরিস্ট ফোর্স (এটিএফ) এবং রেঞ্জার্স সদস্যরা যৌথভাবে পুরো সদর দপ্তর ও আশেপাশের এলাকা অবরুদ্ধ করে ফেলে। অত্যন্ত নিখুঁত ও সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে চার হামলাকারীকে নিষ্ক্রিয় করার পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে অন্তত একজন সন্দেহভাজনকে জীবিত আটক করতে সক্ষম হয় যৌথ বাহিনী।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি তালেবানের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ 'জামায়াতউল আহরার' এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। এদিকে এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী। তাঁরা দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এই ঘটনার পেছনে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী হামলার হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। করাচির এই হামলার ঘটনা দেশটির সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে দেশজুড়ে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আরও জোরদার এবং কঠোর করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রশাসন।
