অদ্ভূতুড়ে কাণ্ড! ঘরে আনলেই খারাপ হয়ে যায় মোবাইল, ২৯ বার ফোন বদলেও মেটেনি সমস্যা

গত ছ’মাসে নয় নয় করে ঊনত্রিশবার মোবাইল ফোন পালটেছেন। তাতেও রক্ষে নেই। যত বারই নতুন মোবাইল ঘরে এনেছেন, ততবারই তা বিগড়েছে। মোবাইল ফোন নিয়ে নাজেহাল নদিয়ার তেহট্টের বাসিন্দা দিলীপ মণ্ডল। একই অবস্থা মোবাইল ফোন বিক্রেতাদেরও। রহস্য ভেদ করতে না পেরে দিলীপবাবুকে ফোন বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দোকানদাররা। 

নদিয়ার তেহট্ট থানা এলাকার নাটনাগ্রামে থাকেন পেশায় পশু চিকিৎসক দিলীপ মণ্ডল। দিলীপবাবুর যত সমস্যা মোবাইল ফোন নিয়ে। মাস ছয়েক ধরে একের পর এক মোবাইল ফোন কিনে চলেছেন তিনি। প্রতিবারই এক দেড়দিনের মধ্যে মোবাইলগুলি খারাপ হয়ে যাচ্ছে। ফোন খারাপ হওয়ার পর দোকানে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ওয়্যারান্টি থাকায় মোবাইল বদলেও দিচ্ছেন দোকানদার। কিন্তু, ফোন বদলেও একই রোগ।

বিদ্যুৎ সংযোগে গন্ডগোল রয়েছে, এই ভেবে ইলেক্ট্রিসিয়ান ডেকে ঘরের বিদ্যুতের লাইন সারিয়েছেন দিলীপবাবু। তাও বাড়িতে আনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফের বিগড়েছে সেই মোবাইল। অগত্যা বাড়ির পাশে একটি বাঁশের খুঁটিতে ব্যাগের মধ্যে মোবাইল রেখে চার্জ দিচ্ছেন। রাতে পড়শিদের বাড়িতে ফোন রাখতে বাধ্য হচ্ছেন ওই পশু চিকিৎসক। ব্যাপারটা যে অদ্ভুত তা স্বীকার করে নিয়ে প্রতিবেশীরাও দিলীপবাবুর মোবাইল রহস্য ভেদে নাকাল।

এক আধবার নয়, ঊনত্রিশবার মোবাইল বদলেছেন ওই পশু চিকিৎসক। কোম্পানির টেকনিশিয়ানরাও রোগ ধরতে পারেননি। মোবাইল ফোনের এই অদ্ভূত সমস্যা জীবনে দেখেননি দোকানদারও। হতাশ ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, দিলীপবাবুকে আর মোবাইল ফোন বিক্রি করবেন না। দোকানদাররা মোবাইল বিক্রি করবেন না বলায়, আরও সমস্যায় পড়েছেন দিলীপ মণ্ডল। ভবিষ্যতে নতুন মোবাইল নিতে হলে কার কাছ থেকে নেবেন, সেই চিন্তায় ঘুম উড়েছে তাঁর।

Related posts:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *