রাজধানীর ওয়ারীর নারিন্দা এলাকায় সুভাষ দেউরী (২৫) নামের এক মন্দিরের পুরোহিতকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২৯ জুন) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর দীর্ঘ সময় রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকার পর, মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
আহত সুভাষ দেউরী মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার শ্যামল দেউরীর ছেলে। তিনি বর্তমানে নারিন্দা রোডের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
আহত পুরোহিতের রুমমেট দুর্জয় সাহা জানান, সোমবার রাতে ওষুধ কেনার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন সুভাষ। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা সুভাষের মাথা, হাত ও পায়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে সকালে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, সুভাষের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত রয়েছে।
দুর্জয় সাহা আরও জানান, হামলার পর দুর্বৃত্তরা সুভাষের কাছে থাকা মানিব্যাগ ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ছিনতাই হওয়া একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সুভাষের বোনের কাছে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণও দাবি করে ওই চক্রটি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুরান ঢাকা এলাকা থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় সুভাষ দেউরীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং বর্তমানে জরুরি বিভাগে তাঁর চিকিৎসা চলছে। তাঁর মাথা, হাত ও পায়ে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং চিকিৎসকদের মতে তাঁর অবস্থা বর্তমানে সংকটাপন্ন। বিষয়টি তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
