সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পবিত্র কাবা শরিফ নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর পোস্ট করার মাধ্যমে 'ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের' অভিযোগে নাটোরে শিমুল কর্মকার নামের এক হিন্দু যুবককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গত সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে নাটোরের বিজ্ঞ আদালত আসামিকে জেলহাজতে পাঠানোর এই নির্দেশ দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিমুল কর্মকার নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার পোস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। তবে তিনি বর্তমানে কর্মসূত্রে ঢাকায় বসবাস করেন। সম্প্রতি তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে কাবা শরিফ বিরোধী একটি বিতর্কিত পোস্ট ছড়ানো হলে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে গত রোববার দুপুরে ক্ষুব্ধ জনতা গুরুদাসপুর থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত যুবককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা সামাজিক সহিংসতা এড়াতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে শিমুল কর্মকারের গ্রামের তালাবদ্ধ বাড়িতে নিরাপত্তা চৌকি ও পুলিশ মোতায়েন করে।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিক্ষোভের পর গত রোববার রাতেই স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা জামিল আহম্মাদ বাদী হয়ে শিমুল কর্মকারের বিরুদ্ধে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পরপরই গুরুদাসপুর থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত সোমবার দুপুরে নাটোর শহর এলাকা থেকে শিমুলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারের পর ওই দিন বিকেলেই তাকে কড়া পুলিশি পাহারায় আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের উসকানি বন্ধে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে থানা প্রশাসন জানিয়েছে।
