যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ইনভারমেন্টাল সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (EST) বিভাগের শিক্ষক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির তথ্য পাওয়া গেছে। সূত্র অনুযায়ী , বিভাগীয় স্টাডি ট্যুরের সময় ওই শিক্ষক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন। ঘটনাটি ক্যাম্পাসে ওপেন সিক্রেট হয়ে পড়লেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রতিবাদ না হওয়ায় অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগ সামনে আসার পর শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী ছাত্রী হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় তাকে ইসকন ট্যাগিংসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক চাপ ও সম্মানহানির হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া তার শিক্ষাজীবন নষ্ট করে সার্টিফিকেট না দেওয়ার ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষক জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেনি।
শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, বিভাগে অভিযোগ দায়েরের পর শুধুমাত্র নামমাত্র মুচলেকা নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অভিযুক্ত শিক্ষক শিবিরের সাবেক নেতা এবং জামায়াতের সাবেক ভিসি মজিদের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত বলে দাবি করা হয়েছে। তার শ্বশুর শরীয়তপুর জেলা জামায়াতের আমির হওয়ায় অনেকে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, অভিযোগ সকলের জানাজানি সত্ত্বেও প্রশাসনের নীরবতা অস্বাভাবিক। তারা দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অপরাধীকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগে স্বচ্ছ তদন্ত ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সচেতন মহল।
